চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘প্লিজ প্লিজ তোমরা বাচ্চাগুলোর হাসি কেড়ে নিও না’

শ্রাবন্তীর জন্মদিনে স্মৃতিকাতর চয়নিকার আহ্বান

যাপিত জীবনে বহুদিন ধরেই স্বামী মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের সঙ্গে টানাপোড়েন চলছে ‘রং নাম্বার’ খ্যাত অভিনেত্রী শ্রাবন্তীর। সম্প্রতি ডিভোর্সের নোটিশ পেয়ে যেনো কিছুটা হতাশ তিনি। দাম্পত্য কলহ হবেই, তাই বলে ডিভোর্স! তাও দুই সন্তানের কথা না ভেবেই? এমন প্রশ্নই যেনো এই অভিনেত্রীর চোখে মুখে। তাইতো শেষ চেষ্টা করছেন যেনো আলমের সঙ্গে সংসারটা টিকে থাকে তার।

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন এক সময়ের ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী। দাম্পত্য কলহের কারণেই সন্তান নিয়ে গেল ২৫ জুন দেশে ফেরেন তিনি। এরপর ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিজের পরিবার নিয়ে কথা বলেন। নিজের অবস্থানের কথা জানান। তাদের সংসার যেনো অটুট থাকে তা নিয়ে সোশাল মিডিয়াতেও মিনতি করেন অনেক অভিনেতা অভিনেত্রী ও নির্মাতা। দুই সন্তানের কথা ভেবে তাদের ফের সংসারে মনযোগ দেয়া উচিত বলেও মনে করেন অনেকে। এরমধ্যে নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী একজন।

বুধবার(৪ জুলাই) শ্রাবন্তীর জন্মদিন। আর এই দিনে তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ লিখেছেন চয়নিকা চৌধুরী। জন্মদিনের শুভেচ্ছা ঠিকই জানিয়েছেন, কিন্তু দীর্ঘ স্মৃতিচারণার প্রায় পুরোটা জুড়েই স্থান নিয়েছে শ্রাবন্তীর বর্তমান টানাপোড়েনের বিষয়টি। শ্রাবন্তী ও তার স্বামীর প্রতি চয়নিকা মিনতি করে বলেন, তারা যেনো সব ভুলে সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে নতুন করে সংসার যাপন শুরু করেন। শ্রাবন্তীর জন্মদিনে তাকে ও তার স্বামীকে উদ্দেশ্য করে লেখা চয়নিকা চৌধুরীর ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবুহু ‘তারকা কথন’-বিভাগের পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো:

‘‘দুইজন মানুষ আমার কাছে ভালোবাসার মানুষ, শ্রদ্ধার মানুষ,ভালো লাগার মানুষ। এই দুইজন কে প্লিজ আলাদা দেখতে চাইনা। সব মা বাবার কাছে তাদের সন্তান প্রিয়/ ভালোবাসার/ সব কিছু তারাই। মা / বাবার ব্যাক্তিগত সুখ বা আনন্দের চেয়ে সন্তানের সুখ অনেক বড়। মা/ বাবা আলাদা হলে ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর মন ভেঙে যায়,কষ্ট পায় তারা,তাদের ভিতর কমপ্লেক্স তৈরী হয়।

যখন বাচ্চারা দেখে অন্যদের মা/ বাবার সাথে ছবি! তাদের বুক ভেংগে যায়! তারা রাতের অন্ধকারে কাঁদে লুকিয়ে লুকিয়ে। ঝগড়া দেখতে তারা বড় হতে থাকে। তাদের ভিতরের আনন্দ হারিয়ে যায়। শ্রাবন্তী আর আলম ভাই। প্লিজ প্লিজ প্লিজ তোমরা বাচ্চাগুলোর হাসি কেড়ে নিও না। প্লিজ। বাচ্চাগুলোকে হাসি মন নিয়ে বাঁচতে দাও।

তোমাদের কাছে হাত জোড় মিনতি নিজেদের সুখ আর আনন্দের জন্য তোমরা আলাদা হয়ে যেয়োনা। এক সাথে সবাই মিলে থাকার অনেক আনন্দ আর শান্তি। প্লিজ এই ভুল তোমরা ভুলেও করোনা। নয়ত পরে দুইজনেই আফসোস করবে। প্লিজ প্লিজ।

জীবনটা অনেক ছোট। বড় কোনো ভুল হলে তোমরা নিজেরাই ঠিক করে ফেলো। বাচ্চাদের চোখের জল বড় ভয়ংকর। এ ভুল তোমরা করোনা। তাদের সুস্থ পরিবেশ দাও। শান্তিতে বাড়তে দাও, ভালোবাসা দাও। তাদের অসহায় করে দিও না নিজেদের স্বার্থের জন্য। এটা তোমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী / তোমাদের বড়বোন এবং একজন মা হিসাবে আমার বিনীত অনুরোধ।

আলম ভাই, আপনি অনেক জানেন বোঝেন, শিক্ষিত একজন মানুষ আপনি। আপনিই তো শ্রাবন্তী কে নতুন জীবন দিয়েছেন! আপনার কাছে আমিও অনেক ঋণী। প্লিজ একটু ভেবে দেখবেন। লিখতে বসে আমারি চোখ ভিজে যাচ্ছে।

শ্রাবন্তী, চমৎকার একটি মেয়ে। বিশাল বড়, অনেক বড় একটা মন যার ভিতরে আছে। অনেক অনেক ঋণ এই মানুষটার প্রতি আমার।

২০০১ সাল যখন আমার ক্যরিয়ার শুরু তখন অপি করিম আর এই শ্রাবন্তী এই দুই গুণী অভিনয় শিল্পী আমার অনেক ভালো ভালো কাজ করেছেন। শ্রাবন্তীর প্রোডাকশান থেকে আমার কিছু নাটক ও অন-এয়ার হয়েছিল এ্যাড মিডিয়ার ব্যনারে। তখন মানুষ বিটিভি দেখবার জন্য অপেক্ষা করতো। শ্রাবন্তী আর শাহেদ জুটির নাটক দেখার জন্য মানুষ অপেক্ষা করতো। এই জুটি তখন অনেক পপুলার ছিল।

শ্রাবন্তীর মন টা দারুণ সুন্দর। ও প্রিয় মানুষদের পাগলের মত ভালবাসে। সেই মানুষটার জন্য পারলে সে আকাশের চাঁদ টা পেড়ে আনে। কষ্টও পায় অনেক। তাতে কী! যাদের মন বিশাল তাদের ভালোই হয়। তাদের জন্য সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ সবসময় সাথে থাকে।

বিপদে সবার আগে শ্রাবণ ঝাপিয়ে পড়ে। একটা গল্প বলি। যে কথা কোনদিন কাউকে বলিনি। আজ লিখতে বসে মনে হলো আমার দর্শকের সাথে শেয়ার করি। একবার আমার ভীষণ ক্রাইসিস পিরিয়ড চলছিল। মনটা অস্থির ছিল। একজন আমাকে বললেন, আপনি ফিরোজা পাথর পড়েন মন শান্ত থাকবে। আর নেইম ফেইম এর জন্য রুবি পাথর পরেন। রিজেনেবল দামে তখন ফিরোজা পাথর পরলাম। কিন্ত রুবি পাথর নিতে পারলাম না। অনেক দাম চাইলো। অরিজিনাল রুবির। তখন শ্রাবন প্রায়ই আসতো আমাদের বাসায়। আমার রান্না ওর ভীষণ প্রিয় ছিল। স্পেশালি লুচি আর লাবড়া। রাতে আমরা আমার ঘরে অনেক আড্ডা দিয়েছি। গল্পে গল্পে আমার রুবি পাথরের কথা বলা হলো। চলে গেলো সকাল বেলা শ্রাবন্তী।

আমাদের ঈদের নাটকের শুটিং শুরু হলো। ‘হয়তো তোমার জন্য’। গায়ক বালামের সাথে। সাথে অপূর্ব আর নোভা। দারুণভাবে কাজ শেষ হলো। মাস্টার ক্যাসেট হাতে দেবার সময় আমার পেমেন্ট এর সাথে শ্রাবন্তী আমার আঙ্গুলে একটি রুবী পাথরের সোনার আংটি পড়িয়ে দিল। আমি তো নিবোই না। কিন্ত ও মানবেই না।বললো,‘আমরা ফ্যামেলি। আমি তোমার বোন। আমি তোমার এত্ত কাজ করলাম আর আমি তোমাকে একটা জিনিষ দিতে পারিনা।’ কান্না করে দিলাম আমি। বললাম, নিতে পারি তবে শর্ত আছে। বললো,কী শর্ত? আমি আমার আঙুল থেকে ডায়মন্ডের রিংটা ওর হাতে পরিয়ে দিলাম। বললাম,তোর হাতের আংটিটা আমাকে দিলি আমারটা তোর হাতে থাক। বিণিময় নয়। কারণ, তোর শুধু রুবি পাথরের দাম ৩৫,০০০ টাকা। সোনার দাম তো ধরলামই না। আমার ডায়মন্ডের রিং ১৬ হাজার টাকা।

অভিনেত্রী শ্রাবন্তীর সঙ্গে বেশকিছু ছবিও আপলোড করেন চয়নিকা

শ্রাবন্তী, বুদ্ধিমতী মেয়ে। আমার ইমোশোন বুঝলো সে। কিছু বললো না। সেই থেকে ওই রুবি পাথরের আংটি আমার হাতে। এখনও পরে আছি। একদিনের জন্য আঙ্গুল থেকে খুলিনি। তোর দেয়া উপহার টাই হয়তো আমার ভাগ্য খুলে দিয়েছে। তোকে ধন্যবাদ দিবোনা। এর মূল্য ধন্যবাদ দিয়ে হয়না। তোর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমি ঋণী। প্রতিদিন আমার প্রার্থনায় প্রিয় কিছু মানুষের সাথে তুই থাকিস। মুহুর্তের জন্যও তোকে কখনও ভুলে থাকিনি। সবসময় তুই আমার শুধু চোখের ভিতর না,মনের ভিতর থাকিস। কারণ জ্বলজ্বল করছে তোর দেয়া উপহার।

আজ এই বিউটিফুল মেয়েটির জন্মদিন। এই দারুণ মনের মেয়েটি জীবনে অনেক কষ্ট করেছে। কিন্ত আজ সে সবচেয়ে সুখী এক মানুষ। বটগাছের মত ও যার ছায়ায় আছে সেও এক দারুণ মহৎ মানুষ। খোরশেদ আলম। যিনি আগলে রেখেছেন এই মেয়েটিকে। তাদের কোল জুড়ে আছে দুটি বিউটিফুল পরী।

শুভ জন্মদিন শ্রাবণ। তোকে অনেক অনেক ভালোবাসি। অনেক আনন্দময় হোক জীবন। তোর পরিবার আলোয় আলোয় ভরে উঠুক। আদর ভালোবাসা আর আশীর্বাদ। নাতির ঘরে যেন পুতি দেখতে পাস্। ততদিন বেঁচে থাক এই সুন্দর পৃথিবীতে। শুভ জন্মদিন।’’

শেয়ার করুন: