চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রেমের ফাঁদে ফেলে পাহাড়ে নিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় চাকরিজীবী এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ জুলাই পাহাড়ে তুলে নিয়ে ওই এলাকার ১৪ জন যুবক মিলে তাকে গণধর্ষণ করে।

জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী চট্টগ্রামে চাকরি করেন। সম্প্রতি মুঠোফোনে মহেশখালীর গোরকঘাটার এক ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে ওই তরুণীর। ওই ছেলের সাথে দেখা করতে গত ৭ জুলাই চট্টগ্রাম থেকে মহেশখালী এসেই এ ঘটনার শিকার হয় ওই তরুণী।

বিজ্ঞাপন

ধর্ষণের শিকার তরুণীর বরাতে চালিয়াতলী স্টেশনের লাইনম্যান রশিদ জানান, ধর্ষণের শিকার মেয়েটি গত ৭ জুলাই সকাল ১০টার দিকে চালিয়াতলী স্টেশনের এসে নামে। প্রেমিকের সাথে দেখা করতে গোরকঘাটায় যাওয়ার উদ্দেশে দরগাহপাড়া এলাকার ওসমান গণির সিএনজি রিজার্ভ করেন। গোরকঘাটা সিএনজি স্টেশনে প্রায় দেড়ঘন্টা অপেক্ষা করার পরও প্রতারক প্রেমিক না আসায় অর্থ সংকটে পড়ে যায় তরুণীটি।

তিনি জানান, সেখানে ভাড়া দিতে না পারায় চালকের সাথে তার বেশ বাকবিতণ্ডা হয়। এসময় সেখানে জড়ো হয় স্থানীয় চালিয়াতলী এলাকার মৃত আবুল হাছির পুত্র আমির সালাম, মোস্তাক আহমদের পুত্র এনিয়া এবং নলবিলা দরগাহপাড়ার মোক্তার আহমদের পুত্র আদালত খাঁ। বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে সহযোগিতার কথা বলে ওই তিনজন মিলে মেয়েটিকে চালিয়াতলী বালুরডেইল পাহাড়ি ঝিরিতে নিয়ে যায়।এরপর ওই সিএনজি চালক ওসমানসহ আরো ১৪ জন মিলে তরুণীর ওপর নির্যাতন চালায়।

পরদিন স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী সুজনকে ওই তরুণী জানায়, পাহাড়ে আটকে রেখে ১৪ জন মিলে তাকে রাতভর ধর্ষণ করেছে। ধর্ষণের পর তার বোরকা, হাতব্যাগ, ঘড়ি কেড়ে নেয় ধর্ষকেরা।

এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ষকরা ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ উঠেছে, চালিয়াতলী সিএনজি স্টেশনের লাইনম্যান রশিদের মাধ্যমে স্থানীয় মেম্বার লিয়াকত আলী ও মহিলা মেম্বার শামীমা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে ধর্ষিতার পরিবার অভিযোগ নিয়ে দু’বার থানায় যাওয়ার চেষ্টা করলেও দুই মেম্বারের কারণে থানায় অভিযোগ করতে পারেনি তারা।

স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনায় মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে ওই দুই মেম্বার দু’দফা শালিস বসান এবং মেয়েটিকে ‘জিম্মা’য় নেন শামীমা। সর্বশেষ গত ১০ জুলাই বিকেলে ‘চূড়ান্ত’ শালিসি বৈঠক হয় মেম্বার লিয়াকত আলীর অফিসে। সেখানে শালিসের রায়ে ধর্ষকদের কয়েকজনকে লাঠিপেটা করা হয় এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে এখনও পর্যন্ত জরিমানার টাকা পায়নি ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করে মাতারবাড়ী সিএনজি লাইনম্যান রশিদ বলেন, আমি এ ঘটনার সাথে জড়িত নই। ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর মেয়েটি মাতারবাড়ির মহিলা মেম্বার শামীমার কাছে গিয়ে আশ্রয় নেয়। শামীমা বিষয়টি আমাকে জানায়। পরে মেম্বার শামীমা মেয়েটিকে নিয়ে চালিয়াতলীর মেম্বার লিয়াকত আলীর কাছে যান। তখন লিয়াকত আলী টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি মীমাংসার প্রস্তাব দিলে তা মেনে নেন মেম্বার শামীমা। তবে টাকার অংক নিয়ে তাদের মধ্যে বনিবনা হয়নি।

চালিয়াতলী এলাকার মেম্বার লিয়াকত আলী বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনাটি সত্য। এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। কিছু সিএনজি চালকসহ কয়েকজন নষ্ট ছেলে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এই ঘটনার মূলহোতা মাতারবাড়ী সিএনজি লাইনম্যান রশিদ।’

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও মাতারবাড়ির মহিলা মেম্বার শামীমার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি আমি আজ (শুক্রবার) অবহিত হয়েছি। এটা অত্যন্ত বর্বরোচিত ঘটনা। এটা কখনো মীমাংসা হতে পারে না। বিষয়টি দেখছি।’

মহেশখালী থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর জানান, মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনা সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে কয়েকটি টিম অভিযান শুরু করেছে।