চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষের ‘বুদ্ধিতে গলদ’ দেখছেন ক্লপ-গার্দিওলা

পাঁচ বদলি চান দুই কোচই

করোনাভাইরাস এর কারণে গত মৌসুমের জন্য পাঁচ খেলোয়াড় বদলির নিয়ম চালু করেছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ। নতুন মৌসুম চালু হতেই আবারও তিন খেলোয়াড় বদলি পদ্ধতিতে নেমে ফিরে এসেছে প্রিমিয়ার লিগ। বিষয়টি মোটেও পছন্দ হয়নি কোচদের। লিগের দুই সেরা কোচ পেপ গার্দিওলা ও ইয়ুর্গেন ক্লপ বেশ জোরেশোরেই সমালোচনা করে দাবী তুলেছেন সিদ্ধান্ত পাল্টানোর।

মহামারির কারণে কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর মে-জুন মাসে মাঠে ফিরে ফুটবল। এ সময়টাতে ফুটবলারদের ফিটনেস ঘাটতির কথা চিন্তা করে পাঁচ ফুটবলার বদলির অস্থায়ী নিয়ম চালু করে ফিফা। আপাতত ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত এ নিয়মেই বহাল থাকছে ফিফা। সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালিয়ান লিগগুলো।

বিজ্ঞাপন

তবে পুরনো নিয়মেই ফিরে গেছে প্রিমিয়ার লিগ। ২০২০-২১ মৌসুম শুরু হতেই সেই তিন বদলি নিয়মেই চলছে ম্যাচ যা পছন্দ হয়নি বড় দলের কোচদের। ম্যাচ চলাকালীন সময়ে খেলোয়াড়দের চোটে পড়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় চলতি মৌসুমে পাঁচজন খেলোয়াড় বদলের নিয়ম চালু করার দাবি জানিয়েছেন ম্যানইউ কোচ ওলে গানার সলশেয়ার, চেলসি কোচ ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড।

লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন প্রিমিয়ার লিগের। চোট পুরো মৌসুমের জন্য দলের সেরা ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইককে কেড়ে নিয়েছে। থিয়াগো আলকানতারার, ফাবিনহো, নাবি কেইটারাও চোটে পড়ে আছেন। বাকিদেরও ফিটনেসে ঘাটতি আছে। এমন সময় তিন বদলির নিয়ম নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন অল রেডদের জার্মান কোচ।

‘এটা অবশ্যই ফিরে আসা উচিৎ তবে আমার মনে হয় না এটা ফিরবে কারণ ওই আদিকালের পদ্ধতি। এটা ফিরবে না কারণ চেলসিতে চোট আছে, সিটি, লিভারপুল, ইউনাইটেড, টটেনহ্যামেও সমস্যা আছে। কিন্তু অন্যদের ভোটের জন্য এটা যথেষ্ট নয়।’

বিজ্ঞাপন

‘‘আমার মনে হয় এখানে নেতৃত্বের ঘাটতি আছে, কাউকে তো আলোচনার টেবিলে প্রশ্ন তুলে বলতে হবে যে ‘এবার তুমি কী করবে করো।’ কাউকে প্রস্তাবটা বিক্রি করতে হবে। এটাই মনে হচ্ছে প্রকৃত শব্দ। রিচার্ড মাস্টার্সকে (প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী) বোঝাতে হবে যে আমরা কোনো অন্যায্য সুবিধা চাচ্ছি না!’’

অনেকটা একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন ম্যানসিটি কোচ পেপ গার্দিওলা, ‘গত মৌসুমে ঠিক এই সময়ের চেয়ে এবার ৪৭ শতাংশ বেশি খেলোয়াড় চোটে পড়ে আছে।’

‘এখানে কোনো দলই বাড়তি সুবিধা নিচ্ছে না। খেলোয়াড়দের কারণেই আজ আমরা এই জায়গায়। সুবিধার কথা ভুলে যান, খেলোয়াড়দের বাঁচাতেই এই নিয়ম জরুরি।’

‘যদি প্রতি তিনদিন অন্তর অন্তর একটা করে ম্যাচ খেলতে হয় তাহলে খেলোয়াড়রা চোটে পড়বেই। তারা ভুগছে। তাই সব লিগেই পাঁচ বদলি নিয়মটা চালু আছে আর আমরা খেলোয়াড়দের রক্ষা করতে কী করছি?’

‘পরিসংখ্যানই কথা বলছে। আগের ম্যাচ তো দূরের কথা, আগের মৌসুমে চোটে পড়ে থাকা খেলোয়াড়ও সুস্থ হচ্ছে না। কে নিয়ম পাল্টেছে, কে ভোট দিয়েছে পাল্টানোর ব্যাপারে? এরা কারা? ফিফা, উয়েফায় নিয়মটা চালু আছে। সিদ্ধান্তে আসতে হবে।’