চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় যেভাবে কাজ করেছে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র

গত অাগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ঢাকা সফরকালে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের অংশীদারত্বের শক্তি নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে আমাদের দুই দেশ স্বাস্থ্যসেবা থেকে শিক্ষা, আঞ্চলিক থেকে বৈশ্বিক নিরাপত্তাসহ সকল বিষয়ে একসাথে কাজ করছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর কমান্ডিং জেনারেল হিসেবে আমি আমাদের অংশীদারত্বের আরও একটি দিক উল্লেখ করতে চাই, যাতে দেখা যায় প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা এবং মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য কিভাবে আমরা দুই দেশ একসাথে কাজ করছি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

২০১০ থেকে আমরা অনেকগুলো বার্ষিক দ্বি-পাক্ষিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করি যার মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশে ভূমিকম্প কতটা সুষ্ঠুভাবে মোকাবিলা করা যায়। প্রতি বছর প্রশিক্ষণ কর্মসূচির গতিশীলতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ব্যাপ্তি বেড়েছে। যার ফলে আমাদের একসাথে কাজ করার ক্ষেত্রে সমন্বয়ের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রথমবার আমরা যখন এই প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করেছিলাম, আমরা শুধুমাত্র চিন্তা-ভাবনাগুলো আদান-প্রদান করেছিলাম কিভাবে সঙ্কট মোকাবিলা করা যায় এবং দুর্যোগ প্রতিক্রিয়ার শব্দকোষের ওপর ধারণা লাভ করেছিলাম। এটা প্রথম অবস্থায় একটি চমৎকার পদক্ষেপ ছিল এবং অংশগ্রহণ এখন বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রথমবারের সাথে পরবর্তীতে আমরা আরও কিছু আলোচনা আর প্রশিক্ষণ যোগ করি, যেমন ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে পড়া মানুষের জীবন কিভাবে খুঁজে বের করা যায় এবং সেই সাথে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করা যায়। এছাড়া যেকোনো বড় ধরনের দুর্যোগ প্রবণ ঘটনার সময় কিভাবে যৌথভাবে আন্তঃসংস্থাগুলোর ভেতর যোগাযোগ কেন্দ্র স্থাপন করা যায় আমরা সেই প্রক্রিয়া নিয়েও কাজ করেছি।

এই বছরের ডিজাস্টার রেসপন্স এক্সারসাইজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ (ডিআরইই) ঢাকায় সেপ্টেম্বর ২৬ থেকে অক্টোবর ৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যেখানে আবারো দুদেশের সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারাও যোগ দিচ্ছেন। ডিআরইই এর প্রথম পর্বটি তাত্ত্বিক; নেতৃত্ব পর্যায়ে অংশগ্রণকারীরা এ পর্বে মত বিনিময় করবেন জনবহুল এলাকায় নিজেদের মধ্যে কিভাবে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর এবং অন্যান্য ইউনিটদের সাথে কাজগুলো সমন্বয় করে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কিভাবে কোন ঘনজনবসতিপূর্ণ এলাকাকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানো যায়।

এই ইতিবাচক সংলাপের উপর ভিত্তি করে এরপর মাঠ পর্যায়ের অনুশীলন পর্বে প্রাথমিক উদ্ধারকর্মীরা নিজেদের দক্ষতার পরীক্ষা দেবেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আমদের মোকাবিলা করতে হয়তে পারে তা হল কঠিন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মানুষকে জীবনরক্ষা করা।

বিজ্ঞাপন

এই বছরে ২৫০ জন অংশগ্রহণকারী “টেবল-টপ”অনুশীলনে অংশ নিচ্ছেন এবং সর্বমোট ৬৮০ অংশগ্রহণকারী মাঠ পর্যায়ের অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন। প্রায় ২৫ জন অংশগ্রহণকারী থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও পররাষ্ট্রদপ্তরের প্রতিনিধি দল থাকবেন। বাংলাদেশ এই অনুশীলন পর্যবেক্ষণের জন্য অনেকগুলো দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং আমরা আশা করছি কোন বড় ধরনের প্রয়োজনের মুহূর্তে এর ফলে এই অঞ্চলের সকল দেশকে সহযোগিতার করার জন্য উৎসাহিত করবে।

মূল কথা হলো দুর্যোগ মোকাবেলা সহজ নয়, এখানে ভালো করতে হলে অংশগ্রহণকারী সকলের জন্য প্রশিক্ষণ অবশ্যই বাস্তবমুখী ও কঠোর হতে হবে। জীবনের ঝুঁকির মুখে থাকা মানুষের সহায়তা করার জন্য বিভিন্ন দেশের সরকার যেন সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন সেজন্য সরকারগুলোর অবশ্য কর্তব্য তাদের ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া এবং পদ্ধতি’র উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের সহায়তা করা যখন তা সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন। ডিআরইই ইউএসএ আরপিএসি’র অন্তর্গত প্যাসিফিক রেজিলিয়েন্সের অনুশীলনের অংশ। প্যাসিফিক রেজিলিয়েন্স হলো ইন্দো-এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের প্রধান অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি যা “সামগ্রিক সরকার”র’ কৌশলের ভিত্তিতে সামরিক ও বেসামরিক সংঠনগুলোর অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে একসাথে কাজ করা ও প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণকালীন আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে চিকিৎসা, প্রকৌশল, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগকালীন ত্রাণ এবং অন্যান্য সম্পদের ব্যবহার করি যাতে করে ইন্দো-এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে এমন জরুরি পরিস্থিতিতে আমাদের সরঞ্জামাদি ও জনসম্পদকে কাজে লাগাতে পারি।

প্যাসিফিক রেজিলিয়েন্স সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দুর্যোগে সাড়া দেওয়া ও মোকাবিলার সামর্থ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মানবিক সহায়তা/দুর্যোগকালীন ত্রাণ কার্যক্রমের সেরা চর্চা ও শিক্ষণীয় বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি তার বাংলাদেশ সফরে যেমনটি বলেছিলেন যে, আমাদের দুই মহান জাতির মধ্যে সম্পর্ক তৈরি ও শক্তিশালী করতে আমরা কঠোর পরিশ্রম করে যাব। ডিআরইই-কে আমরা দেখি আমাদের উভয় দেশের পরবর্তী দুর্যোগের জন্য অধিকতর প্রস্তুতি গ্রহণ এবং বাংলাদেশের সাথে আমাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের অংশ হিসেবে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।) 

বিজ্ঞাপন