চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাই: ‘তদন্তের পর ব্যবস্থা’

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে দেড় মাস আগে সন্তানের জন্ম দেওয়া প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাইয়ের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব আব্দুল মান্নান।

ঘটনাটি দুঃখজনক জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার তদন্তের নির্দেশনা দিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইলে নির্মাণাধীন শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ৩১ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারে পুত্র সন্তান জন্ম দেন কামরুন নাহার রিনি। ভুক্তভোগী কামরুন নাহার রিনি জানান, সিজারের পরের দিন থেকেই শুরু হয় পেটে ব্যথা। যত দিন যায় ব্যথা তত বাড়ে। গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা সন্দেহে ২২ দিন ধরে চলে চিকিৎসা। অবস্থার আরো অবনতি হলে আনা হয় ঢাকায়।

তিনি আরো জানান, পেটে ব্যাথার কারণ জানতে সিটি স্ক্যান করা হয়। দেখা যায় পেটের ভেতরে গজ। আবারো অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে বের হয় এক ফুট লম্বা আস্ত গজ কাপড়। সিজারের সময় ব্যবহার করা এই কাপড় বের না করেই পেট সেলাই করে দেয়া হয়। গজ কাপড়ের সঙ্গে পচন ধরে নাড়িতেও। তাই কেটে ফেলা হয়েছে বেশ কিছু অংশ।

বিজ্ঞাপন

রিনির সিজার করেছেন টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তিন চিকিৎসক নেসফুন নাহার, আবিদা সুলতানা ও অপু সাহা।

আব্দুল মান্নান আরও বলেন, ‘অতীতে স্বাস্থ্যখাতে যত নৈরাজ্য ছিল, এখন আর সেটা নেই। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, যত অনিয়ম দুর্নীতির আছে, স্বাস্থ্যখাত থেকে সেখান থেকে মুক্ত করতে হবে।’

‘‘সম্প্রতি ইংল্যান্ডে নতুন ধরনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হলেও আমাদের দেশে এখনো এই ভাইরাসে আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি। নতুন এই ভাইরাসের ব্যাপারে স্বাস্থ্যবিভাগ সতর্ক রয়েছে। বিদেশ থেকে কেউ দেশে আসলেই তাকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’’

এখন পর্যন্ত দেশের ৪৫ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিনের কারণে কেউ মারা যায়নি। যে কয়জন মারা গেছেন তারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ভ্যাকসিন কার্যক্রম খুবই সফলতার সাথে যাচ্ছে’।

‘দেশে তিন কোটি ভ্যাকসিন শেষ হওয়ার পর আরও তিন কোটি ভ্যাকসিন আনা হচ্ছে এবং কোভ্যাক্স থেকে আরও ৪ কোটি ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। বর্তমানে যে গতিতে ভ্যাকসিন কার্যক্রম চলছে বাকি দিনগুলো এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা হবে। এই কার্যক্রম শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারলে সারা দুনিয়ায় একটি নজির হবে। ইতিমধ্যেই সারা বিশ্বে বাংলাদেশ সুনাম অর্জন করেছে।’

সেসময় টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-৪ আসনের সাংসদ হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী, স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজি খন্ধকার সাদেকুর রহমান, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক ড.আতাউল গনি, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডা. নুরুল আমিনসহ মেডিকেল কলেজের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন