চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বইমেলায় অভাব প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা

বাঙালির সপ্তম ঋতু (পর্ব-২১)

বইমেলায় এসে স্টল খুঁজে পাওয়া যায় না। প্রকাশনা বাড়ছে। বইমেলার প্রসার ঘটছে। কিন্তু বইমেলার প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ নিয়ে তেমন কিছু ভাবা হচ্ছে না। ভাবার বিপুল সুযোগ রয়েছে। আমরা চাইলেই বইমেলার একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করতে পারি। সেখানে বইমেলার স্টল, ম্যাপ ও লোকেশন দেখিয়ে দিতে পারি। জিপিএস-এর অসাধারণ কার্যকারিতার যুগে বইমেলায় সে ব্যবস্থাটি করে ওঠা কঠিন কিছু নয়। এখন সব কাজেই মোবাইল তথা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই মোবাইলে অভ্যস্থ হয়ে উঠছেন। বেশির ভাগ মানুষের কাছেই স্মার্ট ফোন। এই প্রসারতাকে আমরা সাহিত্য তথা বইয়ের এই উৎসবে কাজে লাগাচ্ছি না।

শুধু স্টল খুঁজে পাওয়ারই ব্যাপার নয়। যদি বইমেলার একটি সমন্বিত মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা যায়, আর সেখানে সবগুলি প্রকাশনার ওয়েব সাইটের লিংক যুক্ত করা যায়, তাহলে লেখক পাঠক ও প্রকাশকের জন্য খুলে যেতে পারে নতুন দুয়ার। যারা স্টল খুঁজছেন তারা শুধু স্টলই নয়, রীতিমত বইয়ের তথ্য খুঁজে বুকিং দিয়ে রাখতে পারেন। বইটি স্টলে এখনই পাওয়া যাবে কি-না তাও জানা যাবে। বইমেলায় অনেক পাঠক স্টলে গিয়ে বই না পেয়ে ফিরে যান। কারণ বইটি শেষ হয়ে গেছে। বইমেলায় এমন বিড়ম্বনায় এড়ানো সম্ভব।

Reneta June

অনেকেই ভাবতে পারেন এসব আয়োজনে বইমেলার চিরাচরিত ঐতিহ্য, আবহমান উন্মুক্ত অবস্থাটি ক্ষুন্ন হবে। আসলে তা নয়, প্রযুক্তি জীবনের অপরিহার্য অংশ। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সর্বোতোভাবে সহজ করে চলেছে। বইমেলাকে কেন প্রযুক্তি সহযোগিতায় আরো বেশি সুবিধাজনক করে তুলবো না?

বিজ্ঞাপন

বইমেলায় অনলাইন মাধ্যমেই নতুন পাণ্ডুলিপি গ্রহণের একটি রেওয়াজ থাকা উচিত। সৃজনে উন্মাতাল এমন মৌসুমে অনেক নতুন লেখক তৈরি হন। লেখকদের নতুন লেখা তৈরি হয়। চাইলেই প্রথম লেখা পাণ্ডুলিপি বইমেলায় জমা নিয়ে তার একটি মুলযায়নের ব্যবস্থা করতে পারে বাংলা একাডেমি। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে পুস্তক প্রকাশক সমিতিও। তারা বাংলা একাডেমির মাধ্যমে নির্বাচিত পাণ্ডুলিপি প্রকাশ করতে পারে। এখানে পাণ্ডুলিপির পুরস্কারও প্রবর্তন করা যেতে পারে।

স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থা অনুপম প্রকাশনীর সত্তাধিকারী মিলন নাথ সেদিন বলছিলেন, দায়িত্বশীল প্রকাশকরা বহুদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছেন, একটি গ্রন্থ নীতি প্রণয়ন হোক। এই শিল্পকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় আনতে গেলে গ্রন্থ নীতির কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু সেদিকে অগ্রসর হওয়ার কোনো আলামত দেখা যায় না।

আমাদের দেশে সবক্ষেত্রেই ‘যা চলছে চলুক’ মনোভাবটি বহু আগে থেকেই প্রচলিত। মানুষের জীবন ও মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত যে খাত, সেই খাতটিকে অবহেলায় রেখে আমরা অগ্রগতির স্বপ্ন দেখলে, তা হবে নিস্ফল আবেদন।