চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রবৃদ্ধি নেমে আসবে ৬ শতাংশের নীচে: সিপিডি

নাসরিন আক্তার: আসন্ন ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে প্রাক বাজেট সুপারিশমালা প্রণয়ন করেছে বেসরকারি গবেষণা  সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সেখানে বলা হয়েছে এ বছর সরকার জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে ধরে রাখতে সক্ষম হবেনা।এটা নেমে আসবে ৬ শতাংশের কাছাকাছি।রোববার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে তারা এসব তথ্য এবং সুপারিশমালা তুলে ধরেন।

এবছর তারা খাতওয়ারি কোনো পরামর্শ না দিয়ে সামগ্রিকভাবে কিছু পরামর্শ তুলে ধরেন। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের জিডিপিতে ক্ষয়ক্ষতির কিছু পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন তারা।

সিপিডি এবছর চারটি ক্ষেত্র মূল্যায়ন করে পরামর্শ দেয়।এ চারটি ক্ষেত্র হল, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির গতিবিধি বর্তমানে কেমন, দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা অর্থনীতির উপর কী ধরণের বিরুপ প্রভাব ফেলছে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিস্থিতি কেমন এবং বিভিন্ন দাতা গোষ্ঠীর সাথে বাংলাদেশের শর্তযুক্ত ঋনের বর্তমান অবস্থা।

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সাম্প্রতিক গতিবিধি পর্যালোচনা করে তারা বলেন, এ বছর চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফলে এ বছর প্রবৃদ্ধির পরিমান কমবে। তাছাড়া বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় মধ্য প্রাচ্যের দেশ গুলোর প্রবৃদ্ধিও কমে যাবে।একারনে রেমিট্যান্স আসার পরিমান একটু কমবে।

Advertisement

তবে তেলের দাম কমায় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমান বাড়বে। ফলে কুইক রেন্টাল থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হবে না।এছাড়া দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে সাপ্লাই চেইনে ব্যাঘাত ঘটলেও মুল্যস্ফিতির পরিমান স্থিতিশীল রয়েছে। এটাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তারা।

আরো বলা হয় দেশে রাজস্ব আদায়ের পরিমান কমে গেছে এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতেও স্থবিরতা আছে। চলমান সহিংসতার কারণে ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ চার হাজার নয়শ’ কোটি টাকা যা মোট জিডিপির ০.৫৫ শতাংশ। এছাড়া সরকার রাজস্ব আদায়ে তেমন সফলতা পাচ্ছেনা।তাছাড়া সরকার তার প্রকল্পিত নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারছে না এবং সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্ত্বের ভিত্তিতে যে প্রকল্পগুলো নেয়া হয়েছিল তাতেও বড় কোনো সফলতা নেই। সেই সাথে জেলা বাজেটও আশানুরুপভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছেনা।

তার উপর বিভিন্ন দাতা গোষ্ঠীগুলো থেকে যে ঋণ নেওয়া হয়েছিল তার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধে সরকারকে অর্থ খরচ করতে হবে।

তার পরও সরকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পারে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়ে। এ বিষয়ে তাদের সুপারিশ হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রাকে বাস্তবসম্মত করতে হবে, রাজস্ব আদায়ের ব্যাপারে অধিক গুরুত্ত্ব দিতে হবে। এজন্য ন্যাশনাল বোর্ড অব রেভিনিউকে ডিজিটালাইজড করতে হবে।করফাকি, শূল্ক ফাকি এবং মুদ্রা পাচার রোধ করতে হবে।কর বহির্ভূত খাত থেকে আয় বৃদ্ধি করতে হবে, নতুন পে-স্কেল নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন তারা। কেননা এটি বাস্তবায়ন করলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করেতে হবে। এছাড়াও তারা বিকেন্দ্রিকরণ এবং জেলা বাজেটের সফল বাস্তবায়নের উপর জোর দেন।