চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রবাস ফেরতদের জন্য ৫০০ কোটি টাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বৈশ্বিক করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফেরা প্রবাসীদের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগেও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। সর্বমোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭০০ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণার পর থেকে কিভাবে প্রবাস ফেরতদের ঋণ সহায়তা দেয়া যায় এ ব্যাপারে একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করে দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ঘোষণার পর প্রবাসীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। প্রবাস ফেরতদের জন্য বিশেষ বরাদ্দকে স্বাগত জানালেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করা প্রবাসীরা বলছে ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, এতে করে দেশে ফেরত যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাবে।

মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে বৈশ্বিক এই ভাইরাসের কারণে উৎপাদিত তেলের বাজার মূল্য কমে যাওয়া, হজ উমরাসহ ট্যুরিজমে মন্দাভাব। এই মন্দাভাব কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে ভ্যাটের চার্জ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সামাজিক, উন্নয়ন খাতে ব্যাপক কাটছাঁটসহ ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে তারা।

সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, অর্থনৈতিক মন্দাসহ বিভিন্ন কারণে সৌদি আরব থেকে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ৮ থেকে ১০ লাখ লোক দেশে ফেরত যেতে পারে। এছাড়া সংকুচিত হয়ে যেতে পারে এই অঞ্চলের শ্রমবাজার। যার প্রভাব পড়বে রেমিটেন্স এর উপর।

করোনাভাইরাস প্রকোপের পর থেকে সৌদি আরবে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ জনের অধিক প্রবাসী বাংলাদেশি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। এছাড়া গত তিন মাসে প্রায় দেড় শতাধিক এর উপর প্রবাসী ব্রেন স্ট্রোক অথবা হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যুবরণ করেছেন যা চিন্তিত করে তুলছে সংশ্লিষ্টদের।

সৌদি আরব থেকে আব্দুল জলিল বলেছেন, তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন, অর্থসংকটে আছেন, টাকার জন্য ইকামা রিনিউ করতে পারছেন না, কাগজপত্র ঠিক না করতে পারলে তাকে দেশে চলে যেতে হবে। এই মুহূর্তে তিনি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টরা চান যেসব প্রবাসীরা বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ইতিমধ্যে অবৈধ হয়ে গেছেন অথবা কারোনাভাইরাসের কারণে এরই মধ্যে বেশি সংখ্যক প্রবাসী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তাদের সহায়তা করা হোক। যেসব প্রবাসীরা বিদেশে অবস্থান করছেন ওইসব প্রবাসীদের পরিবারগুলোকে বিশেষ প্রণোদনার মাধ্যমে অর্থ সহায়তা করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন প্রবাসীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো।

তারা মনে করছেন প্রবাসীদের পরিবারগুলোকে ঘোষিত বিশেষ প্রণোদনা থেকে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্প সুদে যদি ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয় তাহলে অনেক প্রবাসী এই মুহূর্তে দেশে ফিরে যাবে না।

সংগঠনগুলো বাংলাদেশ সরকারকে এ বিষয়ে ভেবে দেখার আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রবাস ফেরতদের প্রণোদনা ঘোষণার কারণে যেসব প্রবাসীরা থেকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তারাও দেশে ফিরতে উৎসাহিত হবেন।

তারা বলছেন শুধু প্রবাস ফেরতদের নয় যারা প্রবাসে থাকতে চাচ্ছেন বিভিন্ন সমস্যার কারণে অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন তাদেরকেও আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদেরকে যদি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে থেকে যাওয়ার পরামর্শ এবং অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করা হয় তাহলে একদিকে যেমন প্রবাসীরা অর্থসংকট  কটিয়ে উঠবে অন্যদিকে বাংলাদেশের রেমিটেন্স পাঠানো অব্যাহত থাকবে।

জানা গেছে, যেসব প্রবাসীরা দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফেরত চলে এসেছেন তাদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে যেকোনো একটি দৃশ্যমান প্রকল্পের বিপরীতে যেমন কৃষি খামার, মৎস্য খামার বা অন্য কোন ক্ষুদ্র শিল্পের বিপরীতে ৪ পার্সেন্ট সুদে প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দ থেকে ঋণ প্রদান করা হতে পারে।

যাতে করে দেশে ফেরত আসা প্রবাসীরা কোন ধরনের উৎকণ্ঠার মধ্যে না থাকেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন দেশে ফেরত আসা প্রবাসীদেরকে কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ সহায়তা প্রদান করা হবে।