চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রবাসীদের কাজে ফেরা নিশ্চিত করতে হবে

করোনাভাইরাস এর কারণে বিশ্বের বহু দেশের মতো বাংলাদেশে আটকে পড়া প্রবাসীরাও নিদারুণ কষ্টে রয়েছেন। এরমধ্যে মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ হিসেবে দেখা দিয়েছে সৌদি প্রবাসীদের টিকেট জটিলতা। এজন্য গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীতে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত এর সুরাহা হয়েছে।

চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে জানা যায়, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশের শ্রমিকদের ইকামা (সৌদি আরবে কাজের অনুমতি) আরও ২৪ দিন বৈধ থাকবে এবং প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে। যেসব বাংলাদেশি তাদের কর্মস্থল সৌদি আরবে ফিরে যেতে চান তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে দিতে সম্মত হয়েছে সৌদি সরকার।’

বিজ্ঞাপন

এর পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি প্রবাসীদের ৫শ’ টিকেট সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে সৌদি এয়ারলাইন্স। গত কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর আবার নতুন করে টিকেট সরবরাহের ঘোষণা দিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সৌদি প্রবাসীদের জটিলতা নিরসনে এ ধরনের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। এজন্য আমরা সৌদি আরব এবং বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই। তবে জটিলতা নিরসনে সব প্রবাসীকে কাজে ফেরার সুযোগ করে দিতে হবে।

করোনাভাইরাস বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামিয়েছে। বাংলাদেশ কিংবা সৌদি আরব এর বাইরে নয়। করোনা পরিস্থিতি সামাল দিয়ে আবারও অর্থনীতির চাকা সচল করতে অভিবাসী শ্রমিকদের বিকল্প নেই। করোনাভাইরাসের কারণে বহু প্রবাসীর ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ফ্লাইট বন্ধ থাকায় তারা কর্মস্থলে যেতে পারেননি। এর ফলে অনেকেরই ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আর তাতেই অনেকে বিপদে পড়েছেন। এদিকে সংশ্লিষ্ট সবার লক্ষ্য রাখতে হবে। নয়তো ধসে পড়া অর্থনীতিকে সঠিক পথে টেনে তোলা সম্ভব হবে না।

এটাও ঠিক যে, দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা সৌদি আরবে পুনরায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এর আগে দেশে আটকা পড়াদের জন্য মোট তিন দফায় বাংলাদেশিদের ইকামার মেয়াদ বাড়িয়েছে সৌদি সরকার। সুতরাং ভিসা সংগ্রহের সময় ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসে অথবা টিকেট সংগ্রহের সময় সৌদি এয়ারলাইন্স বা বাংলাদেশ বিমানের সম্মুখে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়। প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিদেশেও যেমন দেশের সুনাম ধরে রাখছেন, এখনও সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখবেন বলে আমরা আশা করি।

সৌদি প্রবাসীদের কাজে ফেরার নিশ্চয়তা নিশ্চিতসহ সব ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।