চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রধান বিচারপতিসহ সবার কন্ঠে ‘করিম ভাই’

প্রধান বিচারপতি, সরকারের রেল মন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা এক মঞ্চে স্মরণ করলেন তাদের প্রিয় ‘করিম ভাই’ কে। যিনি ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির একজন (বার কিপার) কর্মচারী।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরি সহকারী থাকাকালীন অনেক সিনিয়র আইনজীবী ও আদালতকে যথাযথ আইনী রেফারেন্স ও রায়ের নজির মিলিয়ে দিয়ে একজন আবদুল করিম অনন্য হয়ে আছেন।

বিজ্ঞাপন

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক এই বার কিপারের স্মরণে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ সফিউর রাহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এক স্মরণ সভা। যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

প্রয়াত আবদুল করিমকে স্মরণ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, করিম ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় ও সম্পর্ক আমি যখন এই কোর্টে প্রথম আসি সেই ১৯৮৩ সাল থেকে। সে সম্পর্ক তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অটুট ছিল। দেখা হলেই করিম ভাই বলতেন, ভাইয়া কেমন আছেন? আমি বলতাম ভালো আছি। আমার বাসায় বিভিন্ন আইনের বই নিয়ে যেতেন করিম ভাই। বই দিয়ে বলতেন, ভাইয়া এই যে বই রাখেন। টাকা পরে দিয়েন। তবে আমি সাথে সাথেই টাকা দিয়ে দিতাম। এছাড়া করিম ভাইয়ের ছেলেরা কেই কোন পরীক্ষায় পাস করলে মিষ্টি নিয়ে যেতেন আমার বাসায়। আমার স্ত্রীও করিম ভাইকে খুব পছন্দ করতেন। বর্তমান সময়ে এ রকম লোক পাওয়া দুষ্কর।

স্মরণ সভার বিশেষ অতিথি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও রেল মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, এই সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনই ছিল করিম ভাইয়ের সংসার। আমরা আইনজীবীরা অনেকেই ভিন্ন দলের রাজনীতি বা দলাদলি করতাম। কিন্তু আমাদের সবার একটি আস্থার জায়গা ছিল করিম ভাই।

বিজ্ঞাপন

আবদুল করিমকে স্মরণ করে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, করিম ভাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন না। তবে তিনি ছিলেন স্বশিক্ষিত এক দরদি মনের মানুষ। কি পদে উনি চাকরি করতেন সেটা মাথায় না রেখে করিম ভাই সব সময় সবার সহযোগিতায় নিজেকে নিবেদিত রাখতেন।

স্মরণ সভায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ততকালীন হাইকোর্ট বারের প্রথম সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক সাহেব মাত্র ১৫ টাকা বেতনে চাকরি দিয়েছিলেন করিম ভাইকে। একসময় এই করিম ভাই হয়ে উঠেছিলেন আইনজীবীদের একটা ব্যাংক। যার যখন কোন টাকার প্রয়োজন হতো করিম ভাই কোথাও না কোথাও থেকে টাকার ব্যাবস্থা করে দিতেন।

জয়নুল আবেদীন আরো বলেন, ১৯৯৭-৯৮ সালে হাইকোর্টের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ এবং অ্যাডভোকেট এস আর পাল এর সাথে করিম ভাইকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। যে সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ও ওই সময়ের রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ। দল মত নির্বিশেষে সকলের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হলে দুইজন কালজয়ী এডভোকেটের সঙ্গে একজন আবদুল করিমকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয় তা আমরা অনুধাবন করলেই বুঝতে পারি। 

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন তার বক্তব্যে বলেন, এই সমাজের কত ক্ষমতাবান কিংবা কোটিপতির কোন অনুষ্ঠানে আমরা যাই না বা যাওয়া হয় না। কিন্তু করিম ভাই এর স্মরণ সভায় বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এসেছেন। অন্য বিচারপতিরা এসেছেন। মন্ত্রী এসেছেন আমরা এসেছি। এবং আমারা এ অনুষ্ঠানে এসে গর্ববোধ করছি। এটাই প্রমান করে একজন করিম ভাই কতটা সম্মানিত ও সফল মানুষ।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী পরিমল চন্দ্র গুহ (পিসি গুহ) এর সভাপতিত্বে এ স্মরণ সভায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, আইনজীবী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্তিত ছিলেন আবদুল করিমের বড় ছেলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আবুল কাসেম।

Bellow Post-Green View