চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের উস্কানিতেই হামলা: খালেদা

প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের
উষ্কানিতেই তার প্রাণনাশের চেষ্টায় গাড়িবহরে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি
চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সিটি
নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই অভিযোগ করে তিনি বলেন, নির্বাচনী
প্রচারে হামলাকারীদের সবাই চেনে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের উষ্কানিতেই ওই হামলা
গাড়ি বহরে হামলা হয়েছে।

সরকার
বিরোধীদলের সাথে আলোচনা চায় না উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, সরকার সংলাপের পথ এড়িয়ে চলতে
চায়, আর এখান থেকেই সঙ্কটের শুরু।

সিটি নির্বাচনের পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার তার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এমন
পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সিটি নির্বাচন সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে তিনি
নির্বাচনী এলাকায় সেনা মোতায়েনের দাবি করেন।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে বিএনপি নেত্রী বলেন, যেভাবেই তারা ক্ষমতা নিয়ে থাক না কেন, দেশের মানুষের
প্রতি তাদের তো একটা দায়িত্ব আছে। তারা তো নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসেনি এজন্য এদেশের
মানুষকে নিয়ে তাদের কোনো ভাবনা নেই।

‘ক্ষমতাশীল ব্যক্তিদের
আইনের উর্দ্ধে রেখেছে তারা, এজন্য দেশে আইনশৃঙ্ক্ষলা নেই, দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি
সৃষ্টি হয়েছে। সাভারে ডাকাতির ঘটনায় আটজনের মৃত্যু সেই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিকেই প্রকাশ।দেশে সবকিছুই পরিচালিত হচ্ছে রাজনৈতিক দৃষ্টিতে, সাগর রুনির মৃত্যুর
পরের আন্দোলনও অরণ্যে রোদন হয়েছে।

বর্তমানে সরকারি দলের কেউই সম্মানের রাজনীতি শেখেনি। এজন্য তারা কাউকে সম্মান করেনা এবং
কেউ তাদেরও সম্মান দেয় না।

সম্মেলনে নির্বাচনের
কৌশল নিয়েও কথা বলেন তিনি, নির্বাচনে কৌশল থাকেই, কিন্তু অনেক নিম্নরুচির মানুষ এই
কৌশলকেই অপকৌশল ভেবে ভুল করে এবং তারা সেটাই ব্যবহার করে। আমাদের দেশে মূল সংকটের জায়গা
এটাই। মানুষ গণতন্ত্রপ্রিয়। কিন্তু এদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। এই সন্ত্রাসী
রাষ্ট্রকে আবার আমাদেরই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে।

বিগত জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে খালেদা জিয়া বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে
আমরা নির্বাচন বর্জন করেছিলাম। পরে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিলো।
নির্বাচনের পর ১ বছর অপেক্ষা করেও কোনো আলোচনা হয়নি।

তিনি প্রশ্ন করে বলেন, সশস্ত্র পাহাড়া
থাকার পরও কিভাবে এত হামলা চলল? কেন কেউ ধরা পরলো না? অনেকে ধরা পড়ার পর কেন তাদের
ছেড়ে দেওয়া হলো? আমরা সন্ত্রাসের রাজনীতি করিনা,
সন্ত্রাসের রাজনীতির চ্যাম্পিয়ন আওয়ামী লীগ। তারা এখন দু’ধারি তলোয়ারের কাজ করছে।

আব্দুল কাদের
সিদ্দিকীর একটি বক্তব্যকে টেনে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা মেরেও জিতেছে, কেঁদেও জিতেছে।
আসলে তার কান্নাকে এদেশের মানুষ অভিনয় হিসেবেই মনে করেন।

‘নির্বাচনী প্রচারণায়
গিয়ে যে জনজোয়ার দেখেছি তাতে আমরা আনন্দিত। আমাদের হিসেব নিকেশ সব বদলে গেছে। আমাদের
হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নেই, কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছে আর জনগণের দোয়া আছে।’

প্রচারণা চালানোর
সময় নিজের উপর হামলার কথাও বলেন খালেদা জিয়া, কারওয়ান বাজারে পুলিশের সহায়তায় আমাদের
উপর হামলা চালানো হয়। সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্র ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা
করে। অল্পের জন্য আমি প্রাণে বেঁচে যাই। আমাকে হত্যার জন্যই ঐ হামলা চালানো হয়েছিলো
তাতে কোনো সন্দেহ নেই। হামলাকারীরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীই ছিলেন। বিভিন্ন ফুটেজে আওয়ামী
লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পাশে তাদের স্পষ্ট দেখা গেছে। তবুও এখনো কোনো সন্ত্রাসীকে
ধরা সম্ভব হয়নি। উল্টো মামলা হচ্ছে বিএনপি সমর্থিতদের উপর। গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিএনপির
কাউন্সিরর প্রার্থীদের। আর সন্ত্রাসীরা আসকারা পেয়ে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ঠুঁটো জগন্নাথ। তারা পক্ষপাতদুষ্ট। ২০১৪ সালের
পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রতিবাদ দূরে থাক তারা টুঁ শব্দ করেনি। সিটি নির্বাচনকে
আমরা টেস্ট কেস হিসেবে নিয়েছি, এর কারণে রাষ্ট্রীয় বিষয়াদির কোনো পরিবর্তন হবে না।
আমাদের জনগনের কাছে যাওয়ার সব সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো। এই নির্বাচন দিয়ে সেই
সুযোগ আমরা আবার নিতে চেয়েছি।

নির্বাচনে বিচারিক
ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী নামানোর দাবী জানিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু তাদের যে সশস্ত্র
বাহিনীর উপর কোনো আস্থা নেই সেটা আবার প্রমাণিত হলো।  

সরকারের সব অন্যায়ের
নীরব প্রতিশোধ নিতে সব ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে আহ্বান জানান তিনি।

Advertisement

শেখ হাসিনার
উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করবেন না। মনে রাখবেন
সব দিন সময় একরকম যায়না। সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু নির্বাচন করতে দিন। এতে আপনি ক্ষমতা
হারাবেন না। জানি, আপনি ক্ষমতা থেকে নামতে ভয় পাচ্ছেন। আমরা প্রতিশোধ প্রবণ না। আমরাই
আপনাকে সহি-সালামতে নামতে সাহায্য করবো।