চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রত্যক্ষদর্শী বন্ধুর বর্ণনায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশি খুনের ঘটনা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে দুর্বৃত্তের গুলিতে শাহেদ নামে এক বাংলাদেশি যুবক খুন হয়েছেন। ওই হামলায় আরেকজন বাংলাদেশিসহ আহত হয়েছেন ২ জন।

ঘটনার পরপর সাংবাদিক সোহেল মাহমুদ শাহেদ এই হত্যাকাণ্ডের পুরো চিত্র তুলে ধরে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন:

বিজ্ঞাপন

‘রাতে বেশ কিছু সময় কাটালাম বাবর ভাইয়ের বাড়িতে। ব্রুকলিনেই বাসা তার। কিন্তু, কেনসিংটন এলাকা থেকে গাড়ি চালিয়ে অন্তত ৩০ মিনিটের দূরত্ব। কুইন্সের সীমান্তবর্তী। নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাবর ভাই আর তার পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে পরিজনরা আসছিলেন তখনো।

বাবর ভাই মুক্তিযোদ্ধা। কমিউনিটি নেতা। সন্দ্বীপ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ছিলেন। এখন উপদেষ্টা। বেশ সজ্জন মানুষ। সে কারণে, তার বিপদে ছুটে গেছেন সবাই।

বিজ্ঞাপন

বাবর ভাইয়ের ছেলে শাহেদকে গুলি করে মেরেছে সন্ত্রাসীরা। সোমবার ভোররাতে। কুইন্সের রিচমন্ড হিলের একটি নাইটক্লাবের কাছে রাত সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা। সে সময় শাহেদের সাথে থাকা শাহীন উল্লাহ’র সাথে দেখা বাবর ভাইয়ের বাসায়। সেও সন্দ্বীপী। মিলাদ বারী কথা বলছিলেন তার সাথে। আমিও যোগ দিলাম।

শাহীন জানালো, পুরো ঘটনা ঘটেছে ভুল বুঝে। রাতে শাহেদ তার বন্ধুদের সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান নাইট উপভোগ করতে যায় একটা ক্লাবে। ভোররাতে অনুষ্ঠান শেষে বের হয়ে তারা নিজেদের গাড়ির পার্কিংয়ের দিকে এগুতে থাকে। এর মধ্যে, তাদের দলে থাকা এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের অঙ্গভঙ্গিকে কেন্দ্র করে অন্য দুই যুবকের কথা কাটাকাটি হয়। ট্রাভিস নামের ওই যুবককে সাথে নিয়ে নিজেদের গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় তৃতীয় এক যুবক খুব কাছ থেকে গুলি করে তিনজনকে। সেসময় শাহীন আরো দুই আরোহীকে ভেতরে নিয়ে গাড়ি চালু করে বাকি তিনজনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। গুলির শব্দে তারা নাইনওয়ানওয়ানে কল দেন। এবং একই সময়ে বাইরে এসে দেখতে পান তিনজনই গুলিবিদ্ধ।

শাহীনের মতে, কৃষ্ণাঙ্গ দুই যুবক সম্ভবত ভেবেছিলো ট্রাভিস আমাদের ডেকে এনেছে তাদের সাথে গণ্ডগোল করার জন্য। আমাদের গাড়ি ক্রস করে তারা যখন পেছনে তাদের গাড়ির দিকে যাচ্ছিলো, সবকিছু স্বাভাবিক। তারা ফোনে কাকে যেনো কিছু বলছিলো। কিছুক্ষণের মধ্যে আরেক যুবককে রাস্তার অন্যপ্রান্ত দিয়ে সামনে থেকে হেঁটে পেছনে যেতে দেখি। সে যুবকই পেছন থেকে আমাদের গাড়ির ডান দরজার পাশে এসে গুলি চালায় পাশে দাঁড়ানো শাহেদসহ তিনজনের ওপর। আমি চারটা আওয়াজ শুনেছি। গুলির শব্দ খুব জোরে নয়। নার্ভাস হয়ে কল দেই ৯১১ এ। নীচে নেমে গিয়ে ট্রাভিসকে ধরি। তার গায়ে ৮/১০টা গুলি লেগেছে মনে হলো। সিলেটের আরেকজনকেও পাই সেখানে। শাহদের কথা মনে ছিলো না। এই দুইজনের রক্ত বন্ধ করতে গাড়িতে কাপড় জাতীয় কিছু খুঁজে এবার গাড়ির সামনে দিয়ে তাদের কাছে যেতেই শাহেদকে পাই অচেতন অবস্থায়। তার গায়ে ছিদ্র দেখেছি দুইটা, পেটে আর পিঠে। কিন্তু, রক্ত দেখিনি। অ্যাম্বুলেন্স এসেছে ৮/৯ মিনিটের মধ্যে। তখনো শাহেদের হৃদস্পন্দন পেয়েছি। গুলি করেই পেছনের গাড়িতে উঠে চলে যায় খুনিরা।

শাহীন বললেন: খুনীরা কারা আমরা চিনি না। তাদের সাথে আমাদের আগে থেকে পরিচয় নেই। এমনকি ট্রাভিসও তাদের চেনে না বলে জানিয়েছিলো তখন। ট্রাভিসকে হয়তো টার্গেট করেছিলো তারা। অন্যরা পাশে থাকায় তারাও শিকারে পরিণর হয়েছে।

শাহেদের ঘটনা নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশী জনসমাজকে আলোড়িত করেছে। বিশেষ করে, সন্দ্বীপীপ্রবণ এলাকা কেনসিংটন ও ওজোন পার্ক এলাকায় এ ঘটনায় শোকার্ত অনেকে।’

Bellow Post-Green View