চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়নে বিধি প্রণয়নের নির্দেশ

আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়নে জন্য একটি বিধি প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সেরিব্রাল পালসি (স্নায়বিক রোগ) আক্রান্ত এক শিক্ষার্থীর বাবার করা রিটের প্রেক্ষাপটে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও রায় পাওয়ার এক মাসের মধ্যে রাজধানীর মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এফ এম মোস্তফা মাসুদের দুটি বিষয়ের খাতা সাবধানতার সাথে পুনর্মূল্যায়ন করে যথাযথ নম্বর দিয়ে ফল প্রকাশের  নির্দেশ দেওয়া  হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জুলহাস উদ্দিন আহমাদ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটোর্নি জেনারেল একেএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাসার।

বিজ্ঞাপন

সেরিব্রাল পালসি (স্নায়বিক রোগ) আক্রান্ত শিক্ষার্থীর এফ এম মোস্তফা মাসুদ ২০১৬ সালে মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরিক্ষায় অংশ নেন। তবে একটি বিষয়ে ১ নম্বর কম পেয়ে সে অকৃতকার্য হলে শারীরিক অসুস্থতার ফলে অস্পষ্ট হাতের লেখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন। কিন্তু সে আবেদনে স্কুল বিবেচনায় না নিলে ছেলের পক্ষে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান।

এরপর হাইকোর্ট রুল জারি করার পর খাতা পুনর্মূল্যায়ন করে মোস্তফাকে জেএসসিতে কৃযকার্য দেখানো হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে মোস্তফা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং সে দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। তবে খাতা পুনর্মূল্যায়নে আবেদন করলে অকৃতকার্য দুটি বিষয়ের মধ্যে একটিতে সে কৃতকার্য উল্লেখ করা হয়। পরে মোস্তফার বাবা মোস্তাফিজুর রহমান আগের করা রিটে এক সম্পূরক আবেদন করে তার ছেলের অকৃতকার্য বিষয়ের খাতাটির নম্বর পুনর্মূল্যায়ন চান।

এ বিষয়ে শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রায় দেন। সে রায় প্রকাশিত হবার পর বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান।

এই আইনজীবী বলেন, ‘আমার ছেলে মোস্তফা লেখাপড়া করতে চেয়েছে তাই ওর জন্য আমি বাবা হয়ে সংগ্রাম করেছি, এসএসসি পর্যন্ত ও এসেছে। এ রোগে আক্রান্ত অন্য অনেকেই তো লেখাপড়া না করে বোঝা হয়ে থাকে। কিন্তু ও লেখাপড়া করতে চেয়েছে তাই আমি চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি। তবে ছেলেটা বলেছে এতো সমস্যা ফেস করেও আর লেখা লেখির মাধ্যমে পড়াশুনা করবে না। এসএসসি পাস করলেই কম্পিউটার বিষয়ে টেকনিক্যাল শিক্ষায় ইঞ্জিনিয়ার বড় ভাইয়ের সাথে পড়বে।

‘‘মোস্তফা সেরিব্রাল পালসি আক্রান্ত হওয়ায় ওর হাতের লেখা একটু অস্পষ্ট। তবে ওর মেধা আছে। ও অবজেক্টিভ প্রশ্নের ভাল উত্তর করছে বৃত্ত ভরাট করে। হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন এখন অকৃতকার্য একটি বিষয় পুনর্মূল্যায়নে ছেলেটা কৃতকার্য হলেই ওর এসএসসি পাস হয়ে যাবে। ছেলাটার স্বপ্ন পূরণ হবে।’’

Bellow Post-Green View