চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রতিবছর ‘ছাত্র অধিকার দিবস’ পালনের ঘোষণা

প্রতিবছর ৮ এপ্রিল ‘ছাত্র অধিকার দিবস’ পালনের ঘোষণা দিয়েছে কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফরম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

গতবছরের ৮ এপ্রিল কোটা সংস্কারের দাবিতে ‘গণপদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করেছিল তারা। সেদিন রাতে পুলিশ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন তারা। এতে আহত হয়েছিল অনেকে।

বিজ্ঞাপন

সেই ঘটনাকে স্মরণ করে সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মোমবাতি প্রজ্বলন করে পরিষদের নেতাকর্মীরা।

সেখানেই প্রতিবছর ৮ এপ্রিল ‘ছাত্র অধিকার দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। একই সঙ্গে তারা সেদিনের হামলাকারী, হামলায় আহত, উপাচার্য ভবনে হামলা, বহিরাগত হামলার ঘটনাগুলোকে স্মৃতি হিসেবে রেখে দিতে প্রামাণ্য দলিল রচনা করার ঘোষণা দিয়েছে পরিষদের নেতারা।

বিজ্ঞাপন

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জমায়েত হন পরিষদের নেতাকর্মীরা। বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিলম্বে কর্মসূচি শুরু করেন। এসময় রাজু ভাস্কর্যে এসে মোমবাতি প্রজ্বলন করেন তারা।

পরিষদের আহবায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম-আহবায়ক ও ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নূর, ফারুক হোসেন, বিন ইয়ামিন মোল্লাসহ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে তারা একটি মৌন মিছিল নিয়ে শাহবাগের গণগ্রন্থাগারের সামনে ঘুরে পুনরায় রাজু ভাস্কর্যে এসে সমাবেশ করেন।

সমাবেশে পরিষদের নেতারা গত বছরের ৮ এপ্রিল কোটা সংস্কারের দাবিতে শাহবাগে অবস্থানের সময় পুলিশ-ছাত্রলীগের যৌথ হামলা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বাসভবনে ভাংচুরের ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত করে তাদের যথাযথ শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তাদের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সমাবেশে ডাকসুর ভিপি ও ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নূর বলেন, রাষ্ট্র সেদিন নিপীড়কের ভূমিকায় ছিল। ৮ এপ্রিল রাতে গুরুদুয়ারার সামনে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু অজানা কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। তারাই(অস্ত্রধারী) আবার উপাচার্যের বাসায় ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীদের ফাঁসাতে চেয়েছিল।সেই তদন্ত এখনও পর্যন্ত উন্মোচন করা হয় নি, কারণ কেচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে আসতে পারে। নিরবে-নিভৃতে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সন্ত্রাসীরা যে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল, তারা আর সে নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন।