চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক

কয়েক দফা সময় নিয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশের গুলিতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্ত শেষ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি। সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে দেখা করে কমিটির সদস্যরা তার হাতে সেই প্রতিবেদন তুলে দেন।

তবে তদন্ত প্রতিবেদনে ঠিক কি বলা হয়েছে- সে বিষয়ে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি। দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন, প্রতিবেদনটি বিশদভাবে খতিয়ে দেখার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

যদিও কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান কিছুটা ইঙ্গিত দিয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমাদেরকে ঘটনাটির উৎস, কারণ, প্রতিকার বিষয়ে সুপারিশ করতে বলা হয়েছিল। আমরা ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তার মানে কমিটি বলতে চাইছে, তাদের ওপর যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল; সেই কাজটি তারা করেছেন। আমাদের বিশ্বাস, তদন্ত কমিটি বেদনাদায়ক সেই ঘটনার প্রকৃত উৎস ও কারণ জানার পাশাপাশি আসল অপরাধীদেরকেও চিহ্নিত করতে পেরেছে। একই সঙ্গে আগামীতে যাতে এই ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়, তারও বাস্তবভিত্তিক পরামর্শ দিয়েছে।

কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতায় আমরা ভিন্ন চিত্র দেখেছি, কেননা এই ধরনের ঘটনার সমস্যাটা হয় অন্য জায়গায়। সুপারিশগুলো সীমাবদ্ধ থাকে প্রতিবেদনের পাতায়। যেমন: ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর সারাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। কয়েকবছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সেই ঘটনা তদন্তে বিচারবিভাগীয় কমিটি করে। সেই কমিটি তার কাজ শেষে দোষীদের চিহ্নিত করে সুপারিশসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রতিবেদন দিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিবেদন আর আলোর মুখ দেখেনি। এমন ঘটনা আরও আছে।

যদিও সিনহা হত্যার ঘটনায় তেমনটি হবে না বলেই আমরা মনে করি। বিশেষ করে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধে কমিটি যে সুপারিশ বা পরামর্শ দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা মেনে চলার ব্যবস্থা করতে হবে।

আমরা মনে করি, অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে তারা নতুন অপরাধে উৎসাহিত হয়। তাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনতেই হবে।