চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

একই প্রকল্প বার বার সংশোধন ও খরচ বাড়ানো বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরক্তি প্রকাশ

একই প্রকল্পে বারবার সংশোধন করে সময় ও খরচ বাড়ানোর বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, একাধিকবার সংশোধন ও টাকা বাড়ানোর ধারা বন্ধ করতে হবে। প্রকল্পের জন্য যেই সময় দেয়া হয়, সেই সময়ের মধ্যেই শেষ করা করতে হবে।

মঙ্গলবার শেরে বাংলানগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে একনেক সভায় অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

এ সময় প্রায় ৩ হাজার ৯০৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর অর্থায়ন পুরোটাই করবে সরকার। এর মধ্যে দুইটা সংশোধিত আর দুইটা নতুন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণাঞ্চলের সব সড়কের মাস্টার প্ল্যান করারও নির্দেশনা দেন।

একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

সভায় কৃষি মন্ত্রণালয় ‘কৃষি তথ্য সার্ভিস আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল কৃষি তথ্য এবং যোগাযোগ শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন আনা হয়েছে। সংশোধনীতে ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা খরচ বাড়ানো হয়েছে। ফলে মূল ৬৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১০৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা। প্রকল্পটির সময়ও বাড়ানো হয়েছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এখন এর মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে শামসুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জানতে চেয়েছেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন দেরি হওয়ার কারণ কী? এই প্রকল্পের পরিচালক কে? প্রকল্প পরিচালক ওই সময় উপস্থিত ছিলেন না। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেন। সব প্রকল্পে এরকম দেরি হয় কেন? এটা অল্প টাকার প্রকল্প। এতদিন লাগার কথা নয়। যখন প্রকল্পটি শেষই হওয়ার কথা তখন আরও দুই বছর মেয়াদ বাড়াচ্ছেন কেন? এ সময় বাড়ানোর জন্য ৬৮ কোটি টাকাকে এখন ১০৯ কোটি বানালেন। এটা নিয়ে পর্যালোচনা করুন। প্রকল্প যেন যথাসময়ে শেষ হয়, সেই ব্যবস্থা নিন। কেন বিলম্ব হচ্ছে? এর কারণ খুঁজে বের করুন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘চরখালী-তুষখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ (জেড-৮৭০১)’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন আনা হয়েছে। সংশোধনীতে ৪৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর মূল খরচ ১০৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৪৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। ২০১৭ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এখন প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত।

এই প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ২০১৭ সালে এক বছরের জন্য প্রকল্প নিলেন, এ প্রকল্প এতদিন লাগা উচিত হয়নি। এটা তো পুরোনো সড়ক ছিল। এত দীর্ঘ সময় কেন লাগলো? আবার সংশোধন, আবার টাকা বাড়ানো– এ ধরনের ধারা বন্ধ করুন। প্রকল্প যে সময়ে নেবেন, সে সময়ে শেষ করতে হবে। সময় আরও বাড়িয়ে নিয়ে আসেন, ব্যয়ও আরও বাড়িয়ে নিয়ে আসেন। বার বার এটা হতে পারে না। এখন ২০২১ সাল পর্যন্ত নিয়েছেন, এটাই শেষ। এরপর আর বাড়াতে পারব না।

দক্ষিণাঞ্চলের সব সড়কের মাস্টার প্ল্যান করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনা কমিশনের এই সদস্য বলেন, পদ্মা সেতু হলে উন্নয়ন কার্যক্রমে একটা নতুন গতিশীলতা তৈরি হবে। তাই দক্ষিণাঞ্চলের পুরো এলাকার মাস্টার প্ল্যান করতে হবে। কী কী রাস্তাঘাট আছে, সেগুলোতে যেন অনেক ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে সেই ব্যবস্থা নিন। মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী সেটা করতে হবে। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, সামনে ট্রাফিক জ্যাম অনেক বেড়ে যাবে। এখন থেকেই  সড়কের পুনর্গঠন, পুনর্নিমাণ ও শক্তিশালী করার কাজ শুরু করতে হবে। পদ্মা সেতু হলে এ এলাকায় গতিশীলতা বাড়বে।

সভায় আরো দুটি নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘পঞ্চবটি হতে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ’ প্রকল্পটি নতুন অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে খরচ করা হবে ২ হাজার ২৪২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্কসহ নাগরিকসেবা উন্নতকরণ’ প্রকল্পেরও নতুন অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে খরচ হবে ১ হাজার ৫৭৫ কোটি ৬ লাখ টাকা। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।