চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পোশাক শিল্পের উন্নয়নে ৮১ প্রতিশ্রুতি সম্মিলিত পরিষদের  

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়নে মোট ৮১টি প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বিজিএমইএর নির্বাচনে লড়তে যাওয়া প্যানেল সম্মিলিত পরিষদ।

মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন সম্মিলিত পরিষদের প্যানেল লিডার ফারুক হাসান।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এ সময় বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সালাম মুর্শেদি, সিদ্দিকুর রহমান, সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির ও পরিষদের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইশতেহারে ফারুক হাসান বলেন, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পোশাক শিল্প বড় ক্রান্তিকাল পার করছে এখন। ইমেজ সংকটে রয়েছে বিশ্ববাজারে। রয়েছে পণ্যের কম মূল্যের চাপ। এসব সংকট চিহ্নিত করে তা সমাধান এবং রপ্তানি বাজার বাড়োনোই হবে পরিষদের প্রধান কাজ।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়ন কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইশতেহারে বলা হয়, এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে বাৎসরিক রপ্তানির পরিমাণ সর্বনিম্ন ৫ মিলিয়ন ডলার থেকে উন্নীত করে ১০ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হবে। যার মাধ্যমে অধিক প্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনা সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা যাবে। সরকারি ফাইন্যান্সিং স্কিমের আওতায় এসব পোশাকশিল্পের উপযুক্ত সংজ্ঞায়ন ও অন্তর্ভুক্তকরণ করা হবে। যাতে এসব শিল্প ৪ থেকে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা নিতে পারে।

করোনা মোকাবেলায় ও শিল্প পুনরুদ্ধারে প্রণোদনার অর্থ পরিশোধের সময়সীমা ১৮ মাস থেকে বৃদ্ধি ও কিস্তির আকার ছোট করার জন্য সরকারকে প্রস্তাব দেয়া হবে। শিল্পের ক্ষতিগুলো চিহ্নিত করে তা সামলে ওঠা এবং শিল্পের পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সরকারের কাছে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী নীতি-সহায়তার দাবি জানানো হবে।

সম্মিলিত পরিষদের প্যানেল লিডার ফারুক হাসান

বিজ্ঞাপন

সম্মিলিত পরিষদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে আরো বলা হয়, বিজিএমইএ ও কাস্টমস বন্ডের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করে পোশাক খাতের নিয়মিত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা থাকবে। পাশাপাশি কাস্টম সংক্রান্ত সব হয়রানি বন্ধে সেল গঠন করা হবে। কাস্টমসের মান উন্নয়নে বিজিএমইএ’র একজন সহ-সভাপতি ও একজন পরিচালককে এই সেলের তত্ত্বাবধায়নে রাখা হবে। আমদানিকৃত পণ্য খালাসের সময় ও পরবর্তী অডিট কার্যক্রমে সৃষ্ট বিলম্বিত রপ্তানি কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে কাস্টম সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারকদের সাথে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হবে। আমদানি ও রপ্তানির অডিট কার্যক্রমে অটোমেশন চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে। স্যাম্পল ক্লিয়ারিং এর জটিলতা নিরসন পদ্ধতির ব্যবহার, এক্সপোর্ট প্রক্রিয়া সহজীকরণ, আমদানি ও রপ্তানির অটোমেশনসহ এইস এস কোর্ড হালনাগাদ উন্নত করার চেষ্টা থাকবে।

সরকার অনুমোদিত লিকুইডেটর এজেন্ট নিয়োগের ব্যবস্থা করাসহ অর্থঋণ আদালতে মামলা নিষ্পত্তির সময়সীমা তিন মাসের মধ্যে নির্ধারণের ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের সাথে এফবিসিসিআই, বিকেএমইএসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠনের সমন্বয়ে একটি বাস্তবসম্মত কমিটি করে কাজ করা হবে। গঠন করা হবে মালিক কল্যাণ তহবিল।

পোশাক খাতে ঋণের ক্ষেত্রে পরিষদের ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়, সুষ্ঠু ব্যাংকিং নীতিমালার মাধ্যমে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি এই শিল্পের জন্য সুদের হার ও ব্যাংকিং চার্জ কমাতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সহায়তা চাওয়া হবে।

সম্মিলিত পরিষদের প্রার্থীরা

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে সম্মিলিত পরিষদ বলেছে, উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার পরও ২০৩১ সাল পর‌্যন্ত যাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নে শুল্কমুক্ত পণ্য রপ্তানি সুবিধা পাওয়া যায় সেই বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি জিএসপি প্লাস সুবিধা নিশ্চিত করতে জোর প্রচেষ্টা থাকবে। ইউ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে পোশাক রপ্তানি বাড়াতে সেসব দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে আরএমজি ডেস্ক স্থাপনের ব্যবস্থা করাসহ যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা নির্চিত করতে লবিস্ট নিয়োগ দেয়া হবে। নতুন বাজার সম্প্রসারণের জন্য রপ্তানিতে প্রণোদনা ৪ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি নিশ্চিত করা হবে পণ্যের ন্যায্য দামও।

এছাড়া বিজিএমইএর চলমান ফলপ্রসু উদ্যোগগুলো অব্যাহত রেখে পোশাক মালিকদের জন্য ওয়ানস্টপ বিজিএমইএ হটলাইন সেবা চালু হবে। আর্বিট্রেশন সেবাকে ডিজিটাল, বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিবে সম্মিলিত পরিষদ।

পরিষদের ইশতেহারে আরো উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতি হলো- উৎসে কর কমানো, ভ্যাট আইন সংস্কারে, শ্রম নীতিমালা সংস্কার, ই-কমার্স কেন্দ্রিক প্রণোদনার উদ্যোগ, পণ্যের উন্নয়ন ও বৈচিত্র্যকরণ, সার্বজনিন কোড অব কন্ডাক্ট বাস্তবায়ন করা ইত্যাদি।

বিজ্ঞাপন