চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পোশাকে প্রতিবাদী সৌদি আরবের নারীরা

আবায়া বা বোরকা না পরে সৌদি সরকারের আরোপিত বিধিনিষেধের প্রতিবাদে সোচ্চার সেদেশের কিছু নারী। তরুণীদের মধ্যে সম্প্রতি আবায়া না পরার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা আবায়া না পরেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন।

সৌদি আরবে নারীরা সাধারণত কালো কাপড়ে শরীর ঢেকে ঘর থেকে বের হন। স্থানীয়ভাবে যেটাকে আবায়া বলা হয়। শরিয়া আইন দ্বারা পরিচালিত সৌদি রাজতন্ত্রে ঘরের বাইরে নারীদের আবায়া পরাকে ধর্মভীরুতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তবে গতবছর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এক সাক্ষাৎকারে পোশাকের বিষয়ে বিধিনিষেধ শিথিলের আভাস দেন। তিনি বলেন, ইসলামে শরীর আবৃত করার বিষয়ে বাধ্যবাধকতা নেই।

৩৩ বছর বয়সী মাশায়েল আল-জালৌদ আবায়া পরার বিরুদ্ধে সোচ্চার। রিয়াদে বসবাসকারী মাশায়েল আবায়া ছাড়াই ঘরের বাইরে যাতায়াত শুরু করেছেন। মানব সম্পদ বিশেষজ্ঞ মাশায়েলকে কমলা রং এর টপ এবং ব্যাগি ট্রাউজার পরে বাইরে যেতে দেখা গেছে।

তাকে দেখে পথচারীরা চোখ কপালে তুলেছেন। আবায়া পরিহিত মহিলারা পাশ দিয়ে চলার সময় তাকে নিন্দা-মন্দও করেছেন। মাশায়েল কোন বিশেষ তারকা কি না সে প্রশ্ন করেছেন কেউ কেউ। স্তম্ভিত ওইসব সৌদি নাগরিকদের পাল্টা জবাব দিয়েছেন, “আমি কোন সেলিব্রেটি নই। আমি অত্যন্ত সাধারণ মানুষ।”

আবায়া ছাড়া চলতে গিয়ে প্রতিবাদী সৌদি নারীরা পথে-ঘাটে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। আবায়া পরিহিত নারীরা কখনো কখনো শরীর না ঢেকে বের হওয়ার জন্য পুলিশ ডাকার হুমকিও দেন।

আবায়া ছাড়া রাস্তা-ঘাটে বের হলেও কর্মক্ষেত্রে কালো কাপড়ে শরীর ঢেকে রাখতে বাধ্য হন বলে জানিয়েছেন মাশায়েল। তাছাড়া তাকে চাকরি হারানোর হুমকি দেয়া হয়। সম্প্রতি আবায়ামুক্ত চলাফেরা করা মুষ্টিমেয় কিছু সৌদি নারীর একজন মাশায়েল। তবে তাদের এই প্রতিবাদ সামাজিক স্বাধীনতা আদায়ে বড় এক ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সৌদি আরবে হাজার বছর আগে থেকে নারীদের আবায়া পরার ঐতিহ্য থাকলেও কয়েক দশক আগে থেকে এটি নারীদের বাধতামূলক করা হয়েছে। অমুসলিম নারীদের জন্যও আবায়া পরে ঘরের বাইরে যাওয়া বাধ্যতামূলক।

আবায়া পরা বাধ্যতামূলক করার শুরুতে পুলিশ খুব কঠোর ভূমিকা পালন করেছে। আবায়া না পরে বের হলে নারীদের নানান ধরণের হেনস্থার শিকার হতে হয়।

মাশায়েল বলেছেন, “পোশাকের বিষয়ে পরিষ্কার কোন আইন নেই। আমার সুরক্ষার জন্য কোন আইন নেই। আবায়া না পরে বের হলে আমার জীবনও হুমকির মুখে পড়তে পারে।”

গত জুলাই মাসে মাশায়েল টুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। যেখানে আরেক নারীকে দেখা যায় যিনি আবায়া ছাড়া রিয়াদের একটি মল এ গিয়েছেন। মল এ ঢোকার সময় তাকে থামানো হয় এবং প্রশ্ন করা হয়, কেন তিনি আবায়া পরেননি?

সেই নারী মল এর নিরাপত্তাকর্মীকে সৌদি যুবরাজের সেই সাক্ষাৎকার দেখান। কিন্তু নিরাপত্তাকর্মী তাতে নিবৃত না হয়ে বলেন, নারীদের ভদ্র পোশাক পরে ঘরের বাইরে যাওয়া উচিত।

টুইটারের সেই ভিডিওতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। কেউ কেউ বলেন, ওই ভিডিও শেয়ার করে মাশায়েল সামাজিক নৈতিকতার লঙ্ঘন করেছেন।

সৌদি রাজ পরিবারের এক সদস্যও ওই ভিডিও দেখে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ভিডিও শেয়ারের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেছেন, এমন উষ্কানিমূলক ভিডিও দেখিয়ে তিনি আসলে নিজের প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন।