চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পেসারদের আগুনে পুড়ল ব্যাটসম্যানরা

শান্ত একাদশের জয়

ছোট করে দেয়া হয়েছিল শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের সীমানা দড়ি। তারপরও চার-ছয়ের পেছনে ছুটতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা। পেসারদের দাপটের সামনে বরং টিকে থাকতেই সংগ্রাম করতে হয়েছে তাদের।

মাহমুদউল্লাহ একাদশ: ১৯৬/১০ (৪৭.৩ ওভার), নাজমুল একাদশ: ১৯৭/৬ (৪১.১ ওভার)
ফল: শান্ত একাদশ ৪ উইকেটে জয়ী।

বিজ্ঞাপন

তিন দলের ওয়ানডে টুর্নামেন্ট বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের উদ্বোধনী ম্যাচের স্কোরকার্ড পুরো চিত্রটাই তুলে ধরছে। সাত মাস পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরা ব্যাটসম্যানদের জড়তা যে কাটেনি, বোঝা গেছে খেলা শুরু হতেই। মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় পেসাররা পেয়েছেন কিছুটা বাড়তি বাউন্স ও মুভমেন্ট। তাতে নাকাল ব্যাটসম্যানরা।

বিজ্ঞাপন

জয়-পরাজয় ছাপিয়ে দুই দলের বাজে ব্যাটিং আর পেসারদের দাপট দৃশ্যপটে এসেছে বারবার। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯৬ রানের বেশি তুলতে পারেনি মাহমুদউল্লাহ একাদশ। ১৫ বল আগেই তারা হারায় সব উইকেট।

অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ৫১ ও ইমরুল কায়েস ৪০ ছাড়া বাকিরা উল্লেখ করার মতো রান করতে পারেননি। বিপর্যয়ের মুখে সাব্বির রহমান খেলছিলেন দারুণ। কিন্তু ২২ রানে থামে তার ইনিংস।

শান্ত একাদশের পেস ত্রয়ী তাসকিন আহমেদ, আল-আমিন হোসেন ও মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ নেন ২টি করে উইকেট। একটি করে উইকেট নিয়েছেন নাঈম হাসান ও সৌম্য সরকার। মাহমুদউল্লাহ একাদশের ওপেনার নাঈম শেখ ও নুরুল হাসান সোহান রান আউট হন।

দুইশর নিচে লক্ষ্য হলেও ইবাদত হোসেনের পেস তোপে দ্রুতই ৩ উইকেট হারায় শান্ত একাদশ। ৬০ রানের মধ্যে ফিরে যান সাইফ হাসান (১৭), সৌম্য সরকার (২১) ও মুশফিকুর রহিম (১)। তিন ব্যাটসম্যানকেই সাজঘরে পাঠান ইবাদত।

বিজ্ঞাপন

সাইফ-সৌম্যর ওপেনিং জুটি ভালো কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। ব্যাকফুট কাভার ড্রাইভে প্রথম ওভারেই রুবেল হোসনকে দুই চার মারেন সাইফ। কিন্তু টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। দলীয় ২৭ রানের মাথায় ইবাদতের বলে প্রথম স্লিপে নাঈম শেখের হাতে জমে ফেরেন এ তরুণ। পরে ফিরে যান সৌম্য ও মুশফিক।

দলের বিপদের সময় হাল ধরতে পারেননি আফিফ হোসেন ধ্রুব। ৪ রান করে ধরেন প্যাভিলিয়নের পথ। এ বাঁহাতিকে ফেরান মাহমুদউল্লাহ। অধিনায়ক শান্ত কিছুটা হাল ধরলেও তাকে ফিরতে হয় দলের রান তিনঅঙ্ক ছোঁয়ার আগেই। যুব বিশ্বকাজয়ী দলের সদস্য রাকিবুল হাসানের বাঁহাতি স্পিনে বোল্ড হন শান্ত। করে যান ২৮ রান।

আরেক টাইগার ‍যুবা তৌহিদ হৃদয় ও ইরফান শুক্কুর দলকে দেখান জয়ের পথ। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে তারা যোগ করেন ১০৫ রান। খুব সতর্কতায় ব্যাট করতে করে গড়েন শতরানের জুটি।

৬২ বলে ফিফটি তোলা তৌহিদ ৫২ রান করে লেগস্পিনার আমিনুল ইসলামের বলে আউট হন। জয় থেকে তখন মাত্র ১৩ রান দূরে শান্ত একাদশ। তৌহিদের ইনিংসে ছিল দুটি করে চার ও ছয়ের মার।

৭০ বলে পঞ্চাশে পৌঁছানো ইরফান দলকে জিতিয়েই ছাড়েন মিরপুরের ২২ গজ। এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ৭৮ বলে ৫৬ রান করে থাকেন অপরাজিত। মারেন ছয়টি চার।

নাঈম হাসান ছক্কা মেরে খেলা শেষ করেন। ৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৮.৫ ওভার আগেই শান্ত একাদশ পায় ৪ উইকেটের জয়।

ম্যাচে দশটি উইকেট তুলেছেন পেসাররা। স্পিনারদের শিকার ৪ উইকেট। দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে পেসারদের বোলিং দেখে মুগ্ধতার কথা জানিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন। সাদা বলের ক্রিকেটেও সেই ধারাবাহিকতার দেখা মিলল। অবশ্য পেসারদের দাপট দেখানোর পেছনে ব্যাটসম্যানদের দায়ও কম নয়!