চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পেঁয়াজ-চাল-আলুর দামের দৌড়ে এবার কোন নিত্যপণ্য?

করোনাভাইরাস মহামারিতে চাকরি-বাকরি, কাজকর্ম হারিয়ে মানুষ যখন দিশেহারা তখন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। তখন তারা দায় চাপিয়েছে ভারতের ওপর। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছিল। তবে বন্ধ ঘোষণার সাথে সাথে আগের কেনা দামের পেঁয়াজের দাম কেন বাড়ানো হয়েছিল সেই সদুত্তর ব্যবসায়ীরা তখন দিতে পারেনি। এবার সেই পথে হাঁটছে চাল, আলু, কাঁচামরিচসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ পর্যাপ্ত রয়েছে। তারপরও হঠাৎ কেন দাম বাড়ানো হচ্ছে তা বোধগম্য নয়। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর অবশ্য ইতোমধ্যে খুচরা পর্যায়ে আলুর সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করতে নির্দেশ দিয়েছে সরকারি এই সংস্থা। এই দাম নিশ্চিত করার জন্য দেশের সব জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া প্রতিকেজি আলুর হিমাগার পর্যায়ে ২৩ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ২৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। তবে এই দাম এখনও ব্যবসায়ীরা কোথাও তেমন কার্যকর করেনি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পেঁয়াজের সাথে শুধু কি আলু পাল্লা দিচ্ছে? না। সেই সঙ্গে রয়েছে কাঁচামরিচও। এতে যেন লাগামহীন হয়ে পড়ছে কাঁচামরিচের দাম। বাজারে ঝাল জাতীয় এই পণ্যটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়। প্রায় ৪ মাস ধরেই চড়া দামে বিক্রি হয়ে আসছে মরিচ। চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে জানা যায়, বাজারে ভালো মানের ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। আর আংশিক পচা বা লাল হয়ে যাওয়া ২৫০ গ্রাম মরিচের দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা। অর্থাৎ এক কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা। এই দৌড়ে শামিল হয়েছে অধিকাংশ সবজি। বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা বা তার বেশি। একইসঙ্গে বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের চাল।

কৃষি বিপনন অধিদপ্তরের চিঠিতে দেওয়া একটি ব্যাখ্যা এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে। সেখানে একজন চাষীর প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন খরচ হয়েছে ৮ টাকা ৩২ পয়সা জানিয়ে বলা হয়, এমতাবস্থায় হিমাগার পর্যায় থেকে প্রতি কেজি আলুর মূল্য ২৩ টাকা, পাইকারি/আড়তের এর মূল্য ২৫ টাকা এবং ভোক্তা পর্যায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৩০ টাকা হওয়া বাঞ্ছনীয়। কিন্তু বাজারে দেখা যাচ্ছে যে, প্রতি কেজি আলু খুচরা পর্যায়ে ৩৮ থেকে ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা অযৌক্তিক ও কোনক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে কঠোর মনিটরিং ও নজরদারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণকেই আমরা সমাধান বলে মনে করি। একইসঙ্গে ব্যবসায়ীদেরও নৈতিক অবস্থানে ফিরে আসতে হবে। নাহলে এ মহামারিকালে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন আরও কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠবে, যা কখনোই কাম্য নয়। এজন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।