চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পেঁয়াজ এখনও ‘কাঁদাচ্ছে’ ভোক্তাদের

পেঁয়াজ এখনো ভোক্তাদের কাঁদাচ্ছে। ২/১ সপ্তাহ দাম কমে আবার বেড়ে যায়। ২০ টাকা কমে ৩০ টাকা বাড়ে। গেল কয়েক মাস ধরে এমন চিত্রই দেখা যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দামে।

সর্বশেষ আজ শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল ও মালিবাগসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে আবারও ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম।

বিজ্ঞাপন

দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা। আর ছোট সাইজের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। মিশরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

গত বছরের সেপ্টম্বের শেষ দিকে ভারত রপ্তানি বন্ধ করায় পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। রেকর্ড ২৫০ টাকায় পৌঁছে যায়। প্রায় ২ মাস এই দামের আশেপাশে ছিল পেঁয়াজের কেজি।

তবে দেশি নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসায় দাম কিছুটা কমে। নতুন পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা মধ্যে নেমে আসে।

কিন্তু ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে আবার দাম বেড়ে ১৮০ টাকায় ওঠে যায়। পরে কয়েক দফায় দাম কমে চলতি মাসের প্রথমদিকে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকায় নেমে আসে। প্রায় দুই সপ্তাহ স্থির থেকে আজ আবার বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়।

দামের এই ওঠানামার বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী বলেন: এ বছর পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকেরা নির্ধারিত সময়ের আগেই মুড়িকাটা পেঁয়াজ তোলা শুরু করে। অপুষ্ট পেঁয়াজ তুলে ফেলায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ কারণে মৌসুমে দাম কমার বদলে উল্টো বাড়ছে। দেদারসে মুড়িকাটা পেঁয়াজ তোলা না হলে এখন পেঁয়াজের দাম অনেক কম থাকতো বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

মালিবাগের ব্যবসায়ী হাবিবু রহমান বলেন: পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বাড়ছে তো, আবার কমছে। বাড়তি দামে পেঁয়াজ কিনে কখোনে লোকসান গুনতে হয়। আবার কখনো দাম বেড়ে গেলে ভাল লাভও হয়। পেঁয়াজের দাম নিয়ে শুধু ক্রেতা নয়, ব্যবসায়ীরা অস্বস্তিতে রয়েছে।

পেঁয়াজের দামের এই তেলেসমাতিতে ক্ষিপ্ত ভোক্তারা। কারওয়ান বাজারে সবজি কিনতে আসা মাইনুল হোসেন বলেন: সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে। বাজারে কার্যকর নজরদারি না থাকায় ও সরকারের অদূরদর্শীতায় পেঁয়াজ এখনো মানুষকে কাঁদাচ্ছে।

তিনি বলেন: এখন পেঁয়াজের ভরা মৌসুম। ভারত রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে এখন তাদের আমদানি করা পেঁয়াজ কম দামে রপ্তানি করতে চায়। তারপরও কেন পেঁয়াজের কেজি ১৫০ টাকা হবে। দাম এখন ৩০ থেকে ৪০ টাকা থাকা উচিত।

পেঁয়াজের পর কিছুটা বেড়েছে আমদানি করা চায়না রসুনের দামও। গত সপ্তাহে যে রসুনের দাম ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়।

পেঁয়াজের বাড়তি দামের সঙ্গে স্বস্তি দিচ্ছে না সবজিও। শিম, টমেটো, গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগমে বাজার ভরপুর থাকলেও বেশিরভাগ সবজির দাম বেশ চড়া। এমনকি সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে দাম বাড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শসার দাম বেড়ে ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের ৫০ থেকে ৭০ টাকার করলা এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। বাজার ও মানভেদে পেঁপের দামও বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা।

তবে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা ও গাজরের।