চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পেঁয়াজের দাম একদিনেই বাড়ল ৪০ থেকে ৫০ টাকা

ভারতের রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় মুহূর্তেই অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের দাম। গত বছরের মতো এবারও দাম বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছে পেঁয়াজের বাজারে। এ কারণে দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। ফলে মাত্র একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের কেজিতে দাম বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এদিন সকালে দেশি পেঁয়াজের কেজি ৮০ টাকা আর আমদানি করা পেঁয়াজ ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বেলা বাড়ার সাথে সাথে দাম বেড়ে দুপুরের পর দেশি পেঁয়াজ ১০০ টাকার উপরে উঠে যায়। আর আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি ৮০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। অথচ একদিন আগে অর্থাৎ সোমবারে দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা আর আমদানি করা পেঁয়াজ ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা দুলাল মিয়া জানান, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। গত বছরের মতো এবারও আকাশচুম্বী দাম হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই মানুষ হুমড়ি খেয়ে পেঁয়াজ কিনছে। ফলে কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে গেছে। কারণ পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে খুচরা বাজারেও দাম বাড়ে।

দাম আরো বাড়বে এমন আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পেঁয়াজ-রসুন আমদানিকারক ও শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইলিয়াস।

তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, বাংলাদেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয় তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তাই আমদানি করতে হয়। আমদানির প্রায় ৯০ ভাগই আসে ভারত থেকে। কিন্তু ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে দাম বাড়ছে।

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার বিষয়ে আপনাদের কোনো তথ্য জানিয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, রপ্তানি বন্ধ না করলে তো পেঁয়াজ আসতে। গতকাল সোমবার থেকে কোনো পেঁয়াজ আমদানি করা যায়নি ভারত থেকে।

মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, শ্যামবাজারে দেশি পেঁয়াজ পাইকারি ৮০ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম আরো বাড়বে বলে আমাদের আশঙ্কা রয়েছে।

জানা গেছে, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ঘাটতি দেখা দেয়ায় নিজ দেশে যেন দাম না বাড়ে সেজন্য পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল ভারত।

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় সংবাদমাধ্য এপিবি আনন্দ জানিয়েছে,
গতকাল সোমবার দেশটিরর ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড বিভাগ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের নির্দেশ দেয়। অবিলম্বে এই নির্দেশ কার্যকরী করতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কর্ণাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশে এবার পেঁয়াজের ফলন ব্যাপক ধাক্কা খেয়েছে। পানি জমে ক্ষেতেই নষ্ট হয়েছে বহু পেঁয়াজ। যার প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারে। ক্রমশ চড়া হচ্ছে পেঁয়াজের দাম। তাতে লাগাম টানতেই কেন্দ্রের এই নির্দেশ।

হিলি ও ভোমরা স্থলবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তারাও জানিয়েছে, সোমবার থেকে এখন পর্যন্ত কোনো  পেঁয়াজ আসেনি ভারত থেকে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতের পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ হলেও বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, গত বছর বেশ কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। এবারও সেসব দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। ইতোমধ্যে সে বিষয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া পেঁয়াজ আমদানির ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআরকে) চিঠি  দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জরুরি ভিত্তিতে তুরস্ক থেকে এক লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া মিয়ানমার থেকেও পেঁয়াজ আমদানি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের জন্য গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ টাকা দরে সারাদেশে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে হঠাৎ করে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। এরপর দেশের বাজারে হু হু করে দাম বাড়ে এই পণ্যটির। রেকর্ড ৩০০ টাকা পর্যন্ত ওঠেছিল দাম।

তখন ভাররতের বিকল্প হিসেবে মিয়ানমার, চীন, মিসর ও পাকিস্তান থেকে স্থল, নৌ ও আকাশপথে পেঁয়াজ আমদানি করেছিল সরকার।