চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পেঁয়াজের দামে কিছুটা স্বস্তি, হাতের নাগালে সবজিও

দীর্ঘদিন অস্থির থাকার পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তি এসেছে পেঁয়াজের বাজারে। নতুন পেঁয়াজ আসায় রাজধানীর বাজারগুলোতে দেশি-বেদেশি সব ধরনের পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। একই সাথে শীতকালীন সবজির দামও হাতের নাগালে এসেছে।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল, মগবাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিন বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আমদানি করা ছোট পেঁয়াজ (মিয়ানমারের) প্রতি কেজি ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০০-২২০ টাকা। আমদানি করা বড় পেঁয়াজেরও ( চীনা ও মিশরীয়) দাম কমেছে। গত সপ্তাহে ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া এ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা কেজিতে।

এছাড়া বাজারে আসা নতুন দেশি পেঁয়াজের কেজি ১০০-১২০ টাকা। আর পাতাসহ পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৯০-১১০ টাকা।

তবে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম আরো কম বলে জানা গেছে। রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে প্রতি কেজি নতুন দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকা, চীনা পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মিসরীয় পেঁয়াজ ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা এবং মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, বাজারে নতুন পেঁয়াজ এসেছে। তাছাড়া আমদানিও করা হচ্ছে। এ কারণে সব ধরনের পেঁয়াজের দাম কমেছে। কয়েকদিনের মধ্যে আরও কমবে।

দাম কমে আসায় গত এক/দেড় মাসের তুলনায় মানুষ এখন পেঁয়াজ কেনার পরিমাণ বাড়িয়েছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, যারা এতদিন ১ কেজি বা অাধাকেজি পেঁয়াজ কিনেছেন তারা এখন দেড়/দুই কেজি করে কিনছেন। কারণ দাম বলা চলে অর্ধেকে নেমে এসেছে।

তবে পেঁয়াজের দাম ৩০-৩৫ টাকার মধ্যে থাকা উচিত বলে মনে করেন ভোক্তারা।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর মনিপুরী পাড়া থেকে পেঁয়াজ কিনতে আসা মো. শাহ আলম বলেন, সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে ২৫ থেকে ৩০ টাকা দামে পেঁয়াজ কিনেছি। হঠাৎ সেই পেঁয়াজের দাম ২৫০/২৭০ টাকায় উঠে গেছে। সাধারণ মানুষেরা এতদিন আকাশচুম্বী দাম দিয়ে পেঁয়াজ কিনেছে। যেহেতু নতুন পেঁয়াজ এসেছে তাই দাম এখন ৩০ টাকা হওয়া উচিত।

কিন্তু আগের সেই ২৫/৩০ টাকায় পেঁয়াজ আর হয়তো পাওয়া যাবে না বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী ইউসুফ মিয়া বলেন, ভারত আর কখনো কম দামে পেঁয়াজ দিবে বলে মনে হয় না। তাই দেশে উৎপাদন না বাড়ালে দাম আগের অবস্থানে না ও ফিরতে পারে। তবে কিছুটা কমবে।

পেঁয়াজের পাশাপাশি বাজারে এসেছে প্রচুর পরিমাণে শীতের শাক-সবজি। ফলে গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ১০-১৫ টাকা কমেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে শীতের সবজির আসায় দাম কমেছে। কিছুদিন আগেও ১০০ টাকার ওপরে কেজি বিক্রি হওয়া শিম, পাকা টমেটো ও গাজরের দাম অনেকটাই ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে।

খুচরা পর্যায়ে শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৪০ টাকা। আর দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১০০ টাকা কেজি। বাজারে নতুন আসা লম্বা শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০-৬০ টাকা। দেশি পাকা টমেটো ৬০-৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০-১০০ টাকা। আর কিছুদিন আগে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া গাজর এখন ৪০-৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে নতুন গোল আলুর কেজি গত সপ্তাহের মতো ৩০-৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া বেগুন ৪০-৫০, বরবটি ৬০-৮০, করলা ৫০-৬০ টাকা। আর ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৩০-৪০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

শেয়ার করুন: