চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পেঁয়াজের ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের দেখবে কে?

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ভারত বিনা নোটিশে পেঁয়াজ রপ্তানি করে দেয়ায় আবারও ক্ষতির মুখে পড়েছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ভারতীয় সীমান্তে আটকে পড়া পেঁয়াজ বাংলাদেশে পাঠানোর দাবি ছিল তাদের। এ নৈতিক দাবি উত্থাপনের পর দিল্লি এ বিষয়ে অনুমতি দেয়। তবে এতক্ষণে ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। দিনাজপুরের হিলি আর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে প্রবেশ করা ভারতীয় পেঁয়াজের বেশিরভাগই পঁচা। এজন্য এখন পেঁয়াজবাহী আটকে পড়া ট্রাক প্রবেশ আবার বন্ধ হয়ে গেছে।

চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে জানা যায়, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আসা পেঁয়াজের ৬০ ভাগই নষ্ট হওয়ায় নতুন করে আর কোনো ট্রাক প্রবেশ করেনি। এমন প্রেক্ষাপটে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি দুই দেশের সরকারকে সহযোগী মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আহবান জানিয়েছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে শনিবার বিকেলে ১১ ট্রাক পেঁয়াজ প্রবেশের পর আবারও আমদানি বন্ধ রয়েছে ভারতীয় পেঁয়াজ। ভারত থেকে শনিবার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আসা আড়াই’শ মেট্রিক টন বা ১১ ট্রাক পেঁয়াজ অধিকাংশই পঁচা। এ পঁচা পেঁয়াজ নিয়ে বিপাকে পড়ার পাশাপাশি চরম লোকসানের মুখেও রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বিজ্ঞাপন

ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিমের ভাষায়: ‘ব্যবসায়ী ও আমদানীকারকরা বারবার করে অনুরোধ করে আসছিল। আটকে পড়া পেঁয়াজ পাওয়ার নৈতিক অধিকার রয়েছে আমদানীকারকদের। কিন্তু সেই দেবে বলেও দিলো না। আর যা দিল তার ৬০ ভাগই নষ্ট হয়ে গেছে। পেঁয়াজ দ্রুত পচনশীল, এখনও ভারত চাইলে বাকি আটকে পড়া পেঁয়াজগুলো দিতে পারে। না হলে সেগুলো পরে দিলে শতভাগই নষ্ট হয়ে যাবে, যা কোন কাজে আসবে না।’

একই কথা বলছেন হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি ও হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ। তিনি জানান: পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বারবার ভারত সরকারের এমন সিদ্ধান্তে পুঁজি হারাতে বসেছেন হিলির আমদানিকারকরা, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

ভারতের অভ্যন্তরে আটকে থাকা পেঁয়াজ আমদানিসহ ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণের দাবি অযৌক্তিক নয়। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া আমদানির ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে। এ বিষয়ে ভারতেরও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিৎ।

পেঁয়াজের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। ইতোমধ্যে মিয়ানমার ও তুরস্কসহ বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। টিসিবি’র মাধ্যমে ই-কমার্স প্রক্রিয়ায় ভোক্তাদের বাসায় সরাসরি পেঁয়াজ পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এছাড়া ইতোমধ্যে পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এসব নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে এ সংকট মোকাবেলা সম্ভব নয়। এজন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।