চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পূর্বের সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিচার না হওয়ায় সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা বেড়েছে

বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস এবং হিন্দুদের উপর হামলা নির্যাতনের বিচার না হওয়ার কারণে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার বাংলাদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

দুর্গাপূজার সময়ে দেশের বিভিন্নস্থানে সংঘটিত ন্যাক্কারজনক হামলার পেছনে নষ্ট রাজনীতির উস্কানি রয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেছেন।

কানাডার বাংলা পত্রিকা নতুনদেশ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রচারিত ‘শওগাত আলী সাগর লাইভে’র আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব বলেন।

আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী কবি আসাদ চৌধুরী, টরন্টোর ডেনফোর্থ ইসলামিক সেন্টার মসজিদের ইমাম হাফেজ মা্ওলানা ফারুক আহমদ এবং টরন্টো হিন্দু কালচারাল সোসাইটি ও মন্দিরের সাবেক প্রেসিডেন্ট শিবু চৌধুরী।

স্থানীয় সময় বুধবার রাতে ‘বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সংকট কোথায়!’ শীর্ষক এই আলোচনায় বক্তারা হিন্দু মন্দির ও বাড়িঘরে হামলাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে দুর্বৃত্তদের আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

কবি আসাদ চৌধুরী তার আলোচনায় স্বাধীনতা পূর্বকাল থেকে উপমহাদেশের সাম্প্রদায়িক ঘাত প্রতিঘাত এবং সৌহার্দ্যের অনবদ্য চিত্র তুলে ধরে বলেন, পরষ্পরের প্রতি অবিশ্বাস সন্দেহ মানুষের ক্ষতি করে, তাদের ছোট করে দেয়। আমরা এখন পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস এবং সন্দেহের মধ্যে বসবাস করি। এটা পরিহার করতে হবে। সংখ্যায় যারা বেশি তাদেরই এই ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক উস্কানির পেছন রাজনীতির ইন্ধন আছে উল্লেখ করে খ্যাতিমান এ কবি বলেন, ভারত উপমহাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম একটা বিরাট ফ্যাক্টর। বাংলাদেশের ঘটনা নিয়ে মমতা একটি কথাও বলেনি। তার কারণ পশ্চিমবঙ্গে উল্লেখযোগ সংখ্যক মুসলিম ভোটার রয়েছে।

তিনি বলেন, ক্ষমতায় যারা আছে তারা ক্ষমতায় থাকতে চায়, যারা নাই তারা ক্ষমতায় যেতে চায়- হিন্দুদের কী হলো না হলো তাতে তাদের কিছু যায় আসে না।

কুমিল্লার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হনুমানের পায়ের কাছে কোর‌আন শরীফ রাখাতে কেবল মুসলমানরাই অপমানিত হয়েছে, হিন্দুরা কী অপমানিত হয়নি? মুসলমানদের ধর্মকে অপমান করার অভিযোগে একজন হিন্দু তরুণকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু যারা উস্কানি দিয়ে, উত্তেজিত করেছে তাদের কাউকেই কিন্তু ধরা হয়নি।

ডেনফোর্থ ইসলামিক সেন্টার মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা ফারুক আহমদ হিন্দু- মুসলমানসহ বিভিন্ন ধর্মের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সপক্ষে প্রচারণার পরামর্শ দিয়ে বলেন, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে ’ইন্টারফেইথ হারমোনি’র চর্চা বাড়ানো গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সহনশীলতা বাড়বে।

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বায়তুল মোকারমসহ বিভিন্ন মসজিদের ইমাম এবং ইসলামী নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কুমিল্লার ঘটনার পরপরই বায়তুল মোকারমসহ বিভিন্ন মসজিদের ইমাম সাহেবরা পূজামন্ডপের হামলা না করার ফতোয়া বা নির্দেশনা দিলে সেটি কার্যকর হতে পারতো।

টরন্টোর বিভিন্ন মসজিদে আগামী শুক্রবার জুমার খুতবায় বাংলাদেশে ভিন্নধর্মাবলম্বীদের উপর নিপীড়রের বিপক্ষে ইসলামের নির্দেশনা তুলে ধরে বক্তব্য রাখার ব্যাপারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইমামদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

টরন্টো হিন্দু কালচারাল মন্দিরের সাবেক সভাপতি শিবু চৌধুরী বিভিন্ন সময়ে হিন্দুদের উপর হামলা নির্যাতনের বিচার না হ্ওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। নিজ দেশে আমরা কেন নীপিড়ত হবো? নিজ দেশের আইন কেন আমাদের প্রটেকশন দেবে না?

বিজ্ঞাপন