চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পুলিশ বক্সে হামলা: মামলার নথি তলব, রিমান্ড প্রশ্নে রুল

রাজধানীর জুরাইনে পুলিশ বক্সে হামলা ও ট্রাফিক সার্জেন্টসহ তিন পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় করা মামলার নথি তলব করেছেন হাইকোর্ট।

সেই সঙ্গে এই মামলার আসামী এক আইনজীবীসহ ৫ জনকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশ কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। আগামী রোববারের মধ্যে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে ওইদিন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

Reneta June

জুরাইনের ওই ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত ও রিমান্ড আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ ফজলে ইলাহী। আর ফাইলিং লইয়ার ছিলেন অ্যাডভোকেট এবিএম শিবলী সাদিকীন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার এই রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ব্যারিস্টার অনিক আর হক। এছাড়া শতাধিক আইনজীবী এসময় রিটের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন। আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। এসময় তার সাথে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাছান চৌধুরী, শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি বিশ্বজিৎ দেবনাথসহ রাষ্ট্রপক্ষের আরো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর জুরাইনে মোটরসাইকেল আরোহী এক আইনজীবী দম্পতিকে আটকানোর পর কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ট্রাফিক পুলিশের ওপর চড়াও হয় স্থানীয় লোকজন। পরবর্তীতে সার্জেন্টসহ পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়। আহত তিন পুলিশ সদস্য হলেন সার্জেন্ট আলী হোসেন, ট্রাফিক কনস্টেবল সিরাজুল ইসলাম ও শ্যামপুর থানার উপপরিদর্শক উৎপল চন্দ্র। এদের মধ্যে সার্জেন্ট আলী হোসেনের হাত কেটে যাওয়ায় ২১টি সেলাই পড়ে।

এঘটনায় মঙ্গলবার রাতে শ্যামপুর থানায় ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. আলী হোসেন বাদী হয়ে তিন জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত প্রায় সাড়ে চারশ’ জনকে আসামি করে মামলা করেন। সে মামলায় পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশের কাজে বাধা, হত্যাচেষ্টা ও সরকারি স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগে করা হয়।

পরবর্তীতে এই মামলায় ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এদের মধ্যে পাঁচ আসামির সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্যামপুর থানার পরিদর্শক খন্দকার জালাল উদ্দিন মাহমুদ। আর অপর আসামি ইয়াসিন জাহান নিশান ভুইয়াকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। এরপর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালত শুনানি শেষে আসামী সোহাগ উল ইসলাম রনি, ইয়াসিন আরাফাত ভুইয়া, মো. শরিফ, মো. নাহিদ ও মো. রাসেলকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপর আসামি ইয়াসিন জাহান নিশান ভুইয়ার জামিন মঞ্জুর করা হয়।