চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পুলিশ কর্মকর্তা হত্যার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন-বিক্ষোভ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩তম ব্যাচের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র এবং ৩১তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুল করিম শিপন হত্যার প্রতিবাদেও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। 

আজ শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১০ টা থেকে বেলা সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জাবির সাবেক ও বর্তমানের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের ব্যানারে।

বিজ্ঞাপন

গত ৯ নভেম্বর রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেলে হাসপাতাল কর্মীদের কর্মীরা নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে এই মেধাবী কর্মকর্তাকে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ হতে বিষয়টি সকলের নিকট সুষ্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা জানান, চিকিৎসার নামে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। পাশাপাশি সারাদেশে যেসব অবৈধ হাসপাতাল রয়েছে সেসবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

জাবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সিনেট সদস্য মেহেদী জামিল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূর হোসেন সৈকত বক্তব্য দেন।  এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন তুহিন রেজা, মোহাম্মদ সোহেল পারভেজ, এস এম সাদাত হোসেন, চকর মালিথা, রাশেদ মেহেদী, আলমগীর স্বপন, কাজী জাকির হোসেন, জাহিদুর ররহমান খান, এস এম নূরুজ্জামান, রেজাউল হক কৌশিক, রাশেদ রেজা ডিকেন, নাবিলা নুহাত চৈতি, গোলাম মুজতবা ধ্রুব, আয়েশা আক্তার ইতি, ড.মো. শাহাদাত হোসেন, শেখ মো. নূরুজ্জামান ও সৈয়দ মাহমুদ আলী রতনসহ আরও অনেকে।

বিজ্ঞাপন

বক্তারা বলেন, ‘‘ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন খুবই মেধাবী, বন্ধুবৎসল, পরোপকারী, অজাতশক্র এবং নিরহংকারী একজন মানুষ। চিকিৎসাসেবার নামে মাইন্ড এইড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার মৃত্যুতে দেশ হারালো সম্ভাবনাময় মেধাবী একজন কর্মকর্তাকে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমরা তার হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর শোক প্রকাশ করছি। খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবির পাশাপাশি চিকিৎসার নামে এমন নির্মমতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’’

বিক্ষোভ সমাবেশে মোহাম্মদ আনিসুল করিম শিপন-এর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনাসহ তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের শিকার আনিসুল করিম শিপন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। ১৯৮৪ সালের ২১ নভেম্বর তিনি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

ঢাকা বোর্ডের অধীনে ২০০০ সালে এসএসসি ও ২০০২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হতে ২০১০ সালে প্রাণরসায়ন এ এমএসসি সম্পন্ন করেন।

পরবর্তীতে ৩১তম বিসিএস-এ অসামান্য কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন তিনি। পুলিশ ক্যাডারে দ্বিতীয় স্থান পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। চাকরিকালীন তিনি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, র‌্যাবসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।