চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পুলিশের অসাধু সদস্যদের জন্য সতর্কবার্তা

ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের ৮ বছরের কারাদণ্ড এবং দশ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের রায়ের দিন পুলিশ সদস্যদের আরেকটি অপকর্মের ঘটনা ঘটেছে। ওসি মোয়াজ্জেমের ঘটনায় শিক্ষা নেয়ার বদলে টাঙ্গাইলের একাধিক পুলিশ সদস্য নিরীহ মানুষদের পকেটে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন। সেই অপকর্মের দায়ে এখন তারা রিমান্ডে।

চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে জানা যায়: টাঙ্গাইলের সখিপুরে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে ফাঁসানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তিন পুলিশ সদস্যসহ চারজনের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার বিকেলে পুলিশের পক্ষ থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে সখিপুর আমলি আদালতের বিচারক শামছুল আলম রিমান্ড শুনানি শেষে এ রায় দেন।

ওই প্রতিবেদনে জানা যায়: মির্জাপুরের বাশতৈল ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা পাশ্ববর্তী উপজেলা সখিপুরের ভাতকুড়াচালার ফরহাদ মিয়ার ছেলে বজলুকে দীর্ঘদিন ধরে নিরীহ মানুষকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর জন্য নানা প্রলোভন ও চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এতে বজলু রাজী হওয়ায় তাকে নানা ভয়ভীতি দেখায় তারা। এরই ধারাবাহিকতায় বজলুর পকেটে ইয়াবা দিয়ে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে তারা।

সেবা দেয়ার পরিবর্তে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ নতুন নয়। এলাকাবাসীর সাহসিকতায় টাঙ্গাইলের এই ঘটনা সামনে এসেছে। বিচারের আওতায় আসছেন অপরাধীরা। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় এখনও অনেকেই হয়রানির শিকার। এমনকি এ ঘটনায়ও একাধিক ব্যক্তি গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের অবদান অস্বীকার করা যাবে না। এই বাহিনীর নানা পর্যায়ের কর্মকর্তারাও জনগণের নিরাপত্তা এবং সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু টাঙ্গাইলের ঘটনা এর বিপরীত চিত্রের জানান দেয়। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের সাময়িক বরখাস্তসহ আইনের আওতায় আনতে ব্যবস্থা গ্রহণ করায় সংশ্লিষ্টদের আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

একইসঙ্গে দেশের অন্যান্য স্থানে পুলিশের কোনো সদস্য এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এক্ষত্রে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়ের বক্তব্য, ‌‘তারা যে অপরাধ করেছে অন্য সব অপরাধ ও অপরাধীর মতোই বিবেচিত হচ্ছে। পুলিশ অপরাধ করলেও তার কোনো ছাড় নয়। আমরা তেমন দৃষ্টান্তই স্থাপন করছি।’ পুলিশের এই নীতি অসাধু সদস্যদের জন্য সতর্কবার্তা বলেই আমরা মনে করি।

তবে এসব অপরাধকে ব্যক্তিগত বলে চালিয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, পুলিশের সদস্য হিসেবে বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করেই তারা এসব অপরাধ করছে। এক্ষেত্রে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিতে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

শেয়ার করুন: