চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পুলিশি জেরায় বার বার কান্নায় ভেঙে পড়েন শিল্পা শেঠি

পর্নো ব্যবসার সাথে জড়িত থাকায় গ্রেপ্তার হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির স্বামী রাজ কুন্দ্র। সে মামলায় এবার জেরার মুখে শিল্পা। তাকে জেরা করে মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ, সেসময় বার বার কান্নায় ভেঙে পড়েন এই অভিনেত্রী।

স্বামী রাজের ব্যবসার সঙ্গে শিল্পা যুক্ত কিনা সেই বিষয়ে যদিও অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই বিষয়ে কিছু জানতেন না তিনি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

শিল্পার স্বামী রাজকে পর্নোকাণ্ডে গত ১৯ জুলাই রাতে গ্রেপ্তার করে মুম্বাই পুলিশ। গত ২৩ জুলাই এসপ্ল্যানেড আদালতে পেশ করা হয়েছিল তাকে। এরপর ২৭ জুলাই পর্যন্ত তার পুলিশ হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। তিনি ‘হটশটস’ নামে একটি অ্যাপের মাধ্যমে অশ্লীল ভিডিও তৈরি এবং স্ট্রিমিংয়ের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ।

রাজের গ্রেপ্তারের পর পর্নোকাণ্ডে শিল্পা শেঠিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চ। রেইড করা হয় রাজ-শিল্পার জুহুর বিলাসবহুল বাংলো। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর, ‘জিজ্ঞাসাবাদের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন শিল্পা। রাজ এবং শিল্পার মধ্যে খুব বড় বাকবিতণ্ডা হয় সে সময়। শিল্পা চিৎকার করে তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে এই জাতীয় কাজ করার প্রয়োজন কী এবং তিনি কেন এসব করেছেন? অভিনেত্রীকে শান্ত করার জন্য অপরাধ দমন শাখাকে শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল’।

বিজ্ঞাপন

সূত্রের খবর, কান্নায় ভেঙে পড়ে শিল্পা ক্রাইম বাঞ্চ টিমকে জানিয়েছেন, রাজের অ্যাপের এই বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি কিছু জানতেন না।

সূত্র জানিয়েছে, শিল্পা রাজের মুখোমুখি হয়ে তাকে বলেন, এই কর্মের ফলে শুধুমাত্র পরিবারের নামই নষ্ট করেনি, পাশাপাশি অনুমোদনের বাতিল এবং আর্থিক ক্ষয়ক্ষতিও করছে। মুম্বাই পুলিশ সূত্রে খবর, ‘শিল্পা রাজকে প্রশ্ন করেন, সমাজে তাদের একটা নাম রয়েছে। এরপরেও এই জাতীয় কাজ করার কী কোনও দরকার ছিল?’

গত মার্চে পর্নোকাণ্ডে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন নিজের গ্রেপ্তারির আঁচ পেয়ে যান রাজ। তাদের কথায়, ‘মার্চেই নিজের ফোন চেঞ্জ করেন রাজ। তার ফোন থেকে সমস্ত তথ্য মেলেনি। যখন ক্রাইম ব্রাঞ্চের কর্তারা তার কাছে পুরনো ফোনের খোঁজ করেন, তিনি জানিয়েছেন সেটাকে ফেলে দিয়েছেন। পুলিশের বিশ্বাস পুরানো ফোনটিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ রয়েছে এবং সেটার অনুসন্ধান চলছে’।

অপরাধ শাখা কর্তৃক নিযুক্ত একজন আর্থিক অডিটর রাজ ও শিল্পার আর্থিক তহবিলের দিকটি তদন্ত করছে। সূত্রের খবর, ‘তদন্তে উঠে এসেছে শিল্পা শেঠি এবং রাজ কুন্দ্রার যৌথ অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। ক্রাইম ব্রাঞ্চের সন্দেহ ‘হটশটস’ এবং ‘বলি ফেম’ অ্যাপ থেকে উপার্জন টাকা এই অ্যাকাউন্টে আসত’।

পর্নোকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত হিসেবে রাজ কুন্দ্রর নাম দিয়েছে মুম্বাই পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা (চিটিং), ৩৪ (স্বপ্রণোদিত), ২৯২ এবং ২৯৩ (অশ্লীল ছবি ও অশালীন বিজ্ঞাপন তৈরি এবং তা প্রচার) ধারায় মামলা করা হয়েছে। আইটি আইন এবং ইনডেন্ট রিপ্রেজেন্টেশন অব উইমেন (নিষিদ্ধ) আইনের অধীনেও অভিযুক্ত তিনি। আর রাজের আবার শুনানি রয়েছে।