চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পুরোপুরি শেষ হলো শাকিবের ‘বীর’, যাচ্ছে সেন্সরে

‘পাসওয়ার্ড’-এর সাফল্যের পর ‘বীর’ ছবিতেও লগ্নি করেছেন সুপারস্টার শাকিব খান। এটি বানাচ্ছেন কিংবদন্তি নির্মাতা কাজী হায়াৎ। ছবিটি শাকিব-কাজী হায়াৎ জুটির প্রথম হওয়ায় নির্মাণের শুরু থেকে আলোচনায়। আগে টানা শুটিং বেশিরভাগ কাজ আগে শেষ হলেও বাকি ছিল অল্প কিছু কাজ। এবার পুরোপুরি শুটিং শেষ হলো বলে জানালেন শাকিব খান।

রবিবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে জনপ্রিয় এ চিত্রতারকা বলেন, আজ (রবিবার) পূবাইলে জান্নাত শুটিং বাড়িতে সারাদিন ‘বীর’-এর কাজ করেছি। কিছু প্যাচওয়ার্ক ছিল। সেটাও শেষ করেছি। এর মাধ্যমে পুরোপুরি কাজ শেষ হলো। শাকিব খান বলেন, সবকিছুই গুছিয়ে এনেছি। চলতি সপ্তাহেই ‘বীর’ সেন্সরে যাবে।

বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘বীর’ প্রদর্শনের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহের মালিকরা অপেক্ষায় আছেন। তারা চাইছেন, ‘বীর’ দিয়ে ফের ব্যবসা চাঙা করতে! কিন্তু ‘বীর’ মুক্তি পাচ্ছে কবে? জানতে চাইলে শাকিব খান বলেন, সেন্সর থেকে মুক্তির অনুমতি পেলেই মুক্তির তারিখ জানাবো। তবে এতটুকু নিশ্চিত যে ফেব্রুয়ারি মাসেই ‘বীর’ মুক্তি পাবে।

বিজ্ঞাপন

২০১৪ সালে ‘হিরো দ্য সুপারস্টার’ এবং গেল রোজার ঈদে ‘পাসওয়ার্ড’-এ দুটি ছবি প্রযোজনা করে ব্যাপক সাফল্য পায় শাকিব খান ফিল্মস (এসকে ফিল্মস)। এ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় ছবি ‘বীর’-এর শুটিং শুরু হয়েছিল জুলাইতে। প্রথমধাপে শাকিব খান শুটিংয়ে অংশ না নিলেও তার ছোটবেলার কিছু অংশের তিনদিনের শুটিং হয়। তারপর থেমে ছিল ‘বীর’-এর শুটিং। একাধিকবার শুটিং শুরুর কথা শোনা গেলেও তা হয়নি। কারণ, শাকিব খান ছিলেন আড়ালে।

রহস্য রেখেই তিনি শুটিং থেকে দূরে ছিলেন প্রায় দেড়মাস। পহেলা ডিসেম্বর থেকে টানা শুটিং করেন শাকিব। তখন তিনি বলেছিলেন, মাসখানেক শুটিং থেকে দূরে ছিলাম শুধুমাত্র ‘বীর’-এর জন্য। এর চরিত্রের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে কিছুটা সময় লেগেছে। ‘বীর’-এর গল্পটাই এমন যে আমাকে প্রস্তুত হতে বাধ্য করেছে। বাকিটা স্ক্রিনে দেখলে দর্শক বুঝতে পারবেন।

শাকিব খানের এ ছবিতে লুকের প্রশংসা পাওয়া যায় ফার্স্টলুক প্রকাশের পর। ১২ ডিসেম্বর সকাল ‘বীর’ লুক উন্মুক্ত হওয়ার পর এ নায়ক প্রশংসায় ভেসে যান। ভক্ত থেকে শুরু করে সিনে ইন্ডাস্ট্রির অনেক তারকাই ফেসবুকে শাকিব খানের এ লুকের প্রশংসা করেন। এমনকি কিংবদন্তি অভিনেতা ফারুকও জানিয়েছিলেন তার মুগ্ধতার কথা। বলেছিলেন, পত্রিকা, অনলাইনে পোস্টার দেখে মনে হলো ‘বীর’-এর মতোই শাকিব কাজ করেছে। এখন পর্দায় সেই ছবিটি দেখার অপেক্ষার পালা। আমি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে বলবো, আপনারা সবাই শাকিবের ‘বীর’ ছবিটি হলে গিয়ে দেখেন।

এদিকে ‘বীর’ প্রসঙ্গে কাজী হায়াৎ বলেন, এটি আমার ৫০ তম ছবি, স্বপ্নের প্রজেক্ট। দীর্ঘদিন সময় নিয়েই ছবিটির গল্প বুনেছি, সংলাপ লিখেছি। গবেষণা করে কাজটি শুরু করেছি। আমার কাছে যেমন বিশেষ, তেমনি ঢাকার দর্শকের কাছেও ছবিটি বিশেষ হয়ে থাকবে, সেভাবেই কাজটি করছি। আমার দীর্ঘ সিনেমা জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি, ‘বীর’ একাধিক জাতীয় স্বীকৃতি আনবে।

কাজী হায়াৎ আরও বলেন, শাকিব খান অভিনীত ছবি ছাড়া এখন সিনেমায় বিনিয়োগ ফিরছে না। অনেক বড় বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলো আছে, তা-ও বন্ধের পথে। এই দুঃসময়ে শাকিব খানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসকে ফিল্মস কাজ শুরু করেছে। আমার এই স্বপ্নের সিনেমাটি প্রযোজনা করতে শাকিব খান এগিয়ে এসেছেন। এ জন্য বিশেষ ধন্যবাদ তাকে।

‘বীর’ ছবিতে শাকিব খান ছাড়াও অভিনয় করেছেন শবনম বুবলী, মিশা সওদাগর, নাদিম, জাদু আজাদ প্রমুখ।