চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পুরুষ মানুষ কী চায়? যৌনকর্মীর বয়ানে এক বই

পুরুষ যৌনতায় নারীর কাছ থেকে কী চায়? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে অনেক সাহসী নারীও কুণ্ঠিত। তবে উত্তর দিয়েছেন একজন প্রাক্তন যৌনকর্মী, যিনি দশ হাজারেরও বেশি পুরুষের সঙ্গে শারীরিকভাবে মিলিত হয়েছেন।

৩৯ বছর বয়সী গুইনেথ মনটেনেগ্রো দেহ ব্যবসা পেশায় ছিলেন ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে। হয়েছে নানা অভিজ্ঞতা। আর তার এই অভিজ্ঞতাগুলো নিয়ে তিনি একটি বই লিখেছেন, যেখানে তিনি জানিয়েছেন নারীর কাছ থেকে কেমন যৌন আচরণ আকাঙ্ক্ষা করেন পুরুষরা সেই বিষয়ে।

বিজ্ঞাপন

বইয়ে তিনি লিখেছেন, বেশিরভাগ পুরুষই যৌনতায় অদ্ভুত কোন সেবা চান না। পুরুষের কাছে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো নারীর কাছে ‘কাঙ্ক্ষিত’ হওয়া। যৌন আবেদনময়ী নারীর আকাঙ্ক্ষার পাত্র হতে চাওয়াটা তাদের ফ্যান্টাসি।

মনটেনেগ্রো বলেন, ‘পুরুষকে দেখাতে হবে যে আপনি তাকে পেতে চাইছেন এবং খুবই উপভোগ করছেন। এমন কি উপভোগ না করলেও!’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা শুধু একটু আনন্দ পেতে চায় এবং আনন্দ দিতেও চায়।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, অধিকাংশ পুরুষই কৃত্রিমতা পছন্দ করেন না। তাই দেহের আকৃতি নিয়ে খুব বেশি ভাবার প্রয়োজন নেই। কারণ সব ধরণের দেহেরই চাহিদা আছে এই পেশায়।

তার মতে, খুব বেশি আবেদনময়ী না হলেও চলবে। শুধু নিজেকে গুছিয়ে রাখতে হবে এবং ত্বক, গায়ের রঙ এর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। সেই সঙ্গে এনার্জেটিক এবং প্রফেশনালও হওয়া চাই। কারণ বিভিন্ন গড়ন, বর্ণ এবং বয়সের নারীরা এই পেশায় অর্থ উপার্জন করছেন। তাই পুরুষ যে শুধু কম বয়সী নারীই খোঁজেন এটাও পুরোপুরি ঠিক নয়। যে কোন বয়সেই এই পেশায় অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। এমনকি তিনি অনেক বয়সী এক যৌনকর্মীর কথা শুনেছেন যাকে প্রতি ঘণ্টার জন্য ৩৩০ ডলার অর্থ পরিশোধ করতে হয়।

তার মতে, পুরুষ চটকদার পোশাকের চাইতেও বেশি পছন্দ করে রহস্য। নারীর মধ্যে কিছুটা রহস্য পুরুষকে আগ্রহী করে তোলে। তাই রহস্যময়ী নারী খুব সহজেই পুরুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে।

মনটেনেগ্রোর মতে, তিনি এই বই লিখেছেন এই পেশায় আগ্রহীদেরকে দিক নির্দেশনা দেয়ার জন্য। কীভাবে এই পেশায় টিকে থাকতে হবে এবং সফল হওয়া যাবে সেই ব্যাপারে জানানোই তার উদ্দেশ্য।

অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা, ভাঙ্গা-গড়া এবং আর্থিক টানাপোড়েনে থেকেও শেষ পর্যন্ত সফলতা অর্জন করেছেন মনটেনেগ্রো। তাই নিজের অভিজ্ঞতাগুলো অন্যদের মাঝে বিলিয়ে দেয়াই তার উদ্দেশ্য। ডেইলি টেলিগ্রাফ (অস্ট্রেলিয়া)