চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পুরনো কিন্তু ব্যবহারযোগ্য চশমা দিতে পারেন চশমা ব্যাংকে

সেদিন চোখের ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন আতিকা রোমা। ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা করার সময় নজর পড়ে এক বৃদ্ধ দম্পতির দিকে। ওষুধ ও চশমা কেনার টাকা না থাকায় অসহায়ভাবে বসেছিলেন তারা। তখনই ভাবনাটা মাথায় আসে। গড়ে তোলেন চশমা ব্যাংক।

এই ব্যাংকে পুরনো কিন্তু পুনরায় ব্যবহারযোগ্য চশমাগুলো যে কেউ দিয়ে দিতে পারেন নির্দ্বিধায়। সেগুলোই পরে ঠিকঠাক করে কাঁচ বদলে চলে যাবে যাদের দরকার তাদের হাতে। তাতে অসহায় মানুষগুলোর অন্তত ফ্রেম কেনার টাকা বাঁচবে।

বিজ্ঞাপন

চশমা ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা আতিকা রোমার মায়ের অনেক আগের এমন এক উদ্যোগই হয়তো তাকে চশমা ব্যাংক করার পথ দেখিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন: ১৯৯০ সালে আমি ক্লাস ফাইভের শিক্ষার্থী। মা হালিদা চৌধুরী রীনা সেসময় রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ৩৬ বছরের কর্মজীবনে তাকে শিক্ষকতা ছাড়াও অন্যান্য সামাজিক কাজে যুক্ত থাকতে দেখেছি। সেই ১৯৯০ সালে মা নিজের ও পরিচিতদের কাছ থেকে তাদের অব্যবহৃত চশমাগুলো চেয়ে নিয়েছিলেন এবং তৎকালীন লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতালে সংগৃহীত সেই ৮০টি পুরাতন কিন্তু পুনরায় ব্যবহারযোগ্য চশমা দিয়েছিলেন। শুধু তাই না, যাদের কাঁচ কেনার সামর্থ ছিল না, সেই কাঁচের দামও দিয়েছিলেন তিনি। গত বছর মার্চে মৃত্যুবরণ করেন মা।

মাত্র সপ্তাহ পেরোলো এমন উদ্যোগের, এরইমধ্যে চশমা ব্যাংকে জমা পড়েছে  শ’খানেক চশমা। শুধু ঢাকার বাসিন্দারাই নয়, ঢাকার বাইরে থেকেও অনেকেই চশমা ব্যাংকে চশমা পাঠাচ্ছেন। কিন্তু যেহেতু তারা কুরিয়ারে করেই পাঠাচ্ছেন তাতে খানিকটা সময় লেগে যাছে।

বিজ্ঞাপন

গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, মিডিয়ায় প্রচার হওয়ার কারনেই অল্প সময়েই চশমা সংগ্রহ বেশী হয়েছে।

‘যাব বহুদূর’ এর প্রতিষ্ঠাতা ও টিম লিডার আতিকা রোমার সঙ্গে এই কাজে সম্পৃক্ত আছেন তার বন্ধু আছিয়া নীলা।

আতিকা রোমা বলেন: কেবল সংগ্রহের কাজ চলছে। এখনও বিতরণ শুরু করিনি। শুধু ঢাকাতেই করবো নাকি ঢাকার বাইরেও করবো– সেটাও ভাবনাতে আছে। কারণ বিতরণের আগে একটা চক্ষু ক্যাম্প করতে হবে।

ডাক্তার ও সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট বন্ধুদের নিয়ে একটি গ্রুপ করার কথাও ভাবছেন আতিকা রোমা। বলেন: আমাদের কাছে কিছু সানগ্লাস এসেছে। আমরা প্রথমে ভাবছিলাম এগুলোর তো আর কাঁচ বদল করা যাবে না। এটার দরকার নেই। তখন এক চক্ষু ডাক্তার বন্ধু বললো, রেখে দাও। যাদের বেশি আলোতে সমস্যা হয় বা স্বল্প দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন তারা এসব ব্যবহার করতে পারবে। ডাক্তার বলেই তার কাছে এমন মতামত পেলাম।

চশমা এলেই প্রথমে সেটা জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করেন আতিকা রোমা। পরে শিশু, ছেলে ও মেয়েদেরটা সম্ভব হলে আলাদা করে তা সংরক্ষণ করেন। এজন্য যা কিছু দরকার তা নিজেদের অর্থায়নেই করছেন রোমা ও নীলা। বিতরণটাও নিজেদের অর্থায়নেই করতে চান। বলেন: এই ব্যাংকে কেউ কোনো টাকা দান করতে পারবেন না। চাইলে ওই টাকা দিয়েই নিজে ফ্রেম কিনে দিতে পারেন।

চশমা পাঠাতে যোগাযোগ করতে পারেন চশমা ব্যাংকের ইনবক্সে। অথবা কুরিয়ার করতে পারেন চশমা ব্যাংক, ওমেন ইন ডিজিটাল, থার্ড ফ্লোর, ওয়াই/১৩-এ, নূরজাহান রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা এই ঠিকানায়। অফিস চলাকালীন সময়ে গিয়ে দিয়েও আসতে পারেন সেখানে।