চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পুঁজিবাজারে ২০২২ সাল পর্যন্ত কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দাবি

দেশের শেয়ারবাজারে অপ্রদর্শিত আয় বা কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ আরও এক বছর বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)।

বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, বর্তমানে কালো টাকা বিনিয়োগে ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হচ্ছে। এনবিআরের এই সিদ্ধান্তে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ কিছুটা হলেও বেড়েছে। নির্ধারিত এই কর হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি। এর পাশাপাশি মেয়াদ আরও এক বছর (২০২১-২০২২ অর্থবছর) বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করছি।

আলোচনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা ও মার্চেন্ট ব্যাংক, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রতিনিধিরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ও সংগঠনের পক্ষে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্পোরেট কর হার ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা, লেনদেনের ওপর কর হার আগের অবস্থায় অর্থাৎ শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ হার নির্ধারণ করা, তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে গেট হার ১০ শতাংশ নির্ধারণ এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে কর হার কমিয়ে ২০ শতাংশ করার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

বিএমবিএর সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, বর্তমানে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর বৃহৎ কর হার ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। যা হতাশাজনক। বাংলাদেশে বর্তমানে ৬৩টি মার্চেন্ট ব্যাংক কর্মরত আছে। পুঁজিবাজারের ধীরগতি, কোভিড-১৯ ব্যবসার সীমাবদ্ধতা থাকায় বেশির ভাগ মার্চেন্ট ব্যাংক অপারেটিং চালানোই সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় কর্পোরেট কর হার ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।

অনুষ্ঠানে নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে প্রায় ৩৫ শতাংশ ও লাইফ বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ করপোরেট ট্যাক্স কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে ইন্স্যুরেন্স খাতের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ)।

এছাড়া করোনা বিবেচনায় বিমা এজেন্টদের অগ্রিম ৫ শতাংশ ট্যাক্স পরিশোধের বিধান দুই বছর স্থগিত করা, জীবনবিমা পলিসি হোল্ডারদের মুনাফার ওপর গেইন ট্যাক্স কর্তনের প্রস্তাব বিআইএ।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বাজেটে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব অনেক। এনবিআর তাদের প্রস্তাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আগামী বাজেটে প্রস্তাবগুলো গুরুত্বসহ পর্যালোচনা করবে। আমরা রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা আনতে চাইছি, এজন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা প্রয়োজন। আশা করছি, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়বে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, এনবিআরের আয়কর নীতি’র সদস্য মো. আলমগীর হোসেন, শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসন বিভাগের সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম, ভ্যাট নীতির সদস্য মো. মাসুদ সাদিকসহ বাজেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।