চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পিছিয়ে পড়েও আবাহনীর দুর্দান্ত প্রতিশোধ

ম্যাচটা হারলেই আরও একবার এএফসি কাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হবে। শুরুর আগেই কঠিন সমীকরণ। সেই হিসাব আরও জটিল করে তুললেন চেন্নাইয়িন এফসির ফরোয়ার্ড সি কে বিনীথ। ৬ মিনিটেই করলেন গোল। আবাহনীর আকাশ তখন ঘোর মেঘে ঢাকা!

শুরু দেখে যদি এই ম্যাচের ফলাফল আন্দাজ করে ফেলা হয় তবে সেটা হবে মস্ত ভুল! কারণ এরপরেই বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এমন এক ম্যাচ উপহার দিল আবাহনী লিমিটেড যা দর্শকদের চোখে লেগে থাকবে অনেকদিন। দারুণ এক লড়াইয়ে লিখেছে অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প। পিছিয়ে থাকা ম্যাচে ৩-২ গোলের দারুণ এক জয় তুলে নিয়ে এএফসি কাপে দ্বিতীয় রাউন্ডের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রেখেছে আকাশী-নীল বাহিনী।

বিজ্ঞাপন

চেন্নাইয়িন এফসির বিপক্ষে আবাহনীর ম্যাচটা ছিল শোধ তোলার। আসরের প্রথম দেখায় চেন্নাইয়িনের মাঠ থেকে ওয়েলিংটনের নিজেদের জালেই জড়ানো গোলে ১-০তে হেরে এসেছিল মারিও লামোসের দল।

কিন্তু শোধ তুলবেন কী, এই ম্যাচটা খেলতে নামার আগে ভীষণ দুশ্চিন্তায় ছিলেন আবাহনী কোচ মারিও লামোস। একে তো বাঁচা-মরার ম্যাচ, তার উপর চোটে মাঠের বাইরে একের পর এক ডিফেন্ডার। ম্যাচের শুরুতে সেই সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগায় চেন্নাইয়িন। আইজ্যাক ভানমালসামার কর্নার থেকে পাওয়া বলে ডানপায়ের শটে গোল করলেন বিনীথ।

নিজ মাঠ, নিজেদের দর্শকের সামনে গোল খাওয়াটাই যেন শাপে-বর হল আবাহনীর জন্য। এরপর থেকে ক্রমেই বল নিয়ে হামলে পড়েছে স্বাগতিকরা। তার ফল পেতে দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয় আকাশী-নীলদের।

বিজ্ঞাপন

ক্রমান্বয় আক্রমণের প্রথম ফলটা তোলেন কেভিন বেলফোর্ট। আফগান সতীর্থ মাশিহ সাইঘানির সেট পিস থেকে ডানপ্রান্তে বল পেয়ে ডান পায়ের শটে ৬৪ মিনিটে সেটি জালে জড়ান হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড।

সমতাসূচক গোলের পরের পাঁচ মিনিটে গোল খাতায় নাম লেখান সাইঘানি নিজেই। ৬৯ মিনিটে তার ফ্রি-কিক থেকে নেয়া শটে বল চেন্নাইয়িন গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে জড়িয়ে যায় জালে।

ব্যবধানটা অবশ্য বেশীক্ষণ ধরে রাখা হয়নি আবাহনীর। ৭৪ মিনিটে ব্যবধান ২-২ করে দেন চেন্নাইয়িনের আইজ্যাক ভানমালসামার। তখন আবারও পয়েন্ট খোয়ানোর শঙ্কায় আবাহনী!

শেষ পর্যন্ত হৃদয় ভাঙেনি আকাশী-নীল সমর্থকদের। ম্যাচের একদম শেষ সময়ের দুই মিনিট আগে স্বস্তির জয়সূচক গোলটি এনে দেন পুরনো যোদ্ধা মামুনুল হক। ৮৮ মিনিটে তার ডানপায়ের শটটিই নিশ্চিত করে দেয় আবাহনীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পয়েন্ট।

এই জয়ে গ্রুপ ‘ই’ থেকে সমান ৭ পয়েন্ট হল আবাহনী ও চেন্নাইয়িনের। তবে এক গোল বেশি নিয়ে টেবিলের শীর্ষে চেন্নাইয়িন। চার পয়েন্টে টেবিলের তিনে ভারত চ্যাম্পিয়ন মির্নাভা পাঞ্জাব। ২ পয়েন্টে সবার তলানিতে নেপালি ক্লাব মানাং মার্সিয়াংদি।