চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পিছমোড়া করে বাঁধা ‘মুক্ত গণমাধ্যম’

‘ভয় এবং পক্ষপাতহীন সাংবাদিকতা’র প্রতিপাদ্য নিয়ে পৃথিবীজুড়ে আজকে যখন বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত হচ্ছে, তখন বাংলাদেশে একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের কথিত অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মামলা করেছে। ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। আমরা দেখলাম সেই মামলার পর তাকে পিছমোড়া করে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে নেয়া হলো। তারপর অন্য আরেকটি মামলায় কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হলো।

অথচ গত ৫৩ দিন ধরে ‘নিখোঁজ’ ছিলেন সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ক্ষমতাসীন দলের একজন সংসদ সদস্যের করা মামলার পরের দিনই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। যদিও মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একটি সিসিটিভি ফুটেজের সূত্রে জানিয়েছে, সেদিন কাজলের অফিসের সামনে তার বাইকের পাশে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের চিত্র এই। নতুন করে কিছু বলার দরকার নেই, এই ঘটনাই সব বলে দেয়। এদেশের গণমাধ্যম কতটা স্বাধীন, কতটা মুক্ত আর ভয়হীন পরিবেশে কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস তাদের ২০২০ সালের সমীক্ষা সূচক প্রকাশ করেছে। সেখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫১। যা আগের বছর ছিল ১৫০। এমনকি পুরো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এই সূচকে সবার পেছনে বাংলাদেশ। গত এক যুগ ধরেই ক্রমাগত পিছিয়েই যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আইন ও সালিশ কেন্দ্র চলতি বছরের প্রথম তিন মাসের (জানুয়ারি-মার্চ) একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করে জানিয়েছে, সারাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ে ৫১ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন।

আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা একটি শ্রেণি সব সময়ই স্বাধীন সংবাদিকতায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। এখনও করছে। এক্ষেত্রে হামলা-মামলা-হত্যা তাদের বড় হাতিয়ার। করোনাভাইরাসের দুর্যোগের মধ্যেও তাদের হয়রানির শিকার হয়েছে গণমাধ্যমের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক-সম্পাদক।

অথচ দেশের সংবিধান এবং তথ্য অধিকার আইন স্বাধীন সাংবাদিকতার নিশ্চয়তা দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, যখনই গণমাধ্যম ওয়াচডগ হিসেবে কোনো সত্য উন্মোচন করেছে বা উন্মোচনের চেষ্টা করেছে; তখনই নানাভাবে তাতে বাধা তৈরি করা হয়েছে। বল প্রয়োগ করে থামিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

এটা ঠিক, চরিত্রগত কারণেই গণমাধ্যম কারো বন্ধু হতে পারে না। সারা পৃথিবীতেই তাই। আর এ কারণে তার শত্রুর সংখ্যাও বেশি। বিশেষ করে যারা ক্ষমতায় থাকে। অথচ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তির জায়গা স্বাধীন গণমাধ্যম। কিন্তু সেই সত্যিটা জেনেও সাংবাদিক নির্যাতনের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সরকার বা রাষ্ট্রযন্ত্রকে চোখ বন্ধ করে থাকতে দেখেছি আমরা।

আমরা মনে করি, স্বাধীন ও মুক্ত সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা গেলে তাতে সবচেয়ে বেশি লাভ সরকারেরই। কেননা এতে জড়িত থাকে গুটিকয়েক ব্যক্তি। যারা সরকারকে গণমাধ্যমের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে ব্যক্তিগত অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করে। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতের দায়িত্ব সরকারের, রাষ্ট্রের।