চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পায়রা সেতু: উন্নয়নের আরেক মাইলফলক

দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী কুয়াকাটার সঙ্গে সড়ক পথে সরাসরি সংযোগকারী ‘পায়রা সেতু’র উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার ভার্চুয়াল এক অনুষ্ঠানে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের এক স্বপ্নের বাস্তব রূপ দিয়েছেন তিনি। আর এর মাধ্যমেই উন্নয়নের আরেক মাইলফলকে পৌঁছালো বাংলাদেশ।

মূলত চট্টগ্রামের শাহ আমানত সেতুর আদলে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নান্দনিক নকশায় নির্মিত হয়েছে পায়রা সেতু। চার লেনের এই সেতুর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৪৭০ মিটার। প্রস্থে ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার। আর জলতল থেকে এর উচ্চতা ১৮ দশমিক ৩০ মিটার উঁচু।

আমরা এরই মধ্যে জেনেছি, এই সেতুর কারণে বরিশাল থেকে পটুয়াখালীর দূরত্ব অনেকটাই কমে যাবে। বলা হচ্ছে, পায়রা সেতু চালু হওয়া বরিশাল থেকে কুয়াকাটা যেতে সময় লাগবে মাত্র দুই ঘণ্টা। আগে সড়ক পথে কুয়াকাটা পৌঁছাতে ৬টি ফেরি পার হতে হতো। আর পদ্মা সেতু চালু হলে রাজধানী ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় পৌঁছানো যাবে মাত্র সাত ঘণ্টায়।

বিজ্ঞাপন

এই সেতুটি বরিশাল, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনবে। এই তিনটি বিভাগের সঙ্গে পর্যটন নগরী কুয়াকাটা ও পায়রা বন্দর পর্যন্ত সড়কে আর কোনো ফেরি পার হতে হবে না। প্রসার ঘটবে ব্যবসা-বাণিজ্যের। বিশেষ করে বরিশাল অঞ্চলের কৃষিপণ্য আর ইলিশ মাছ এখন দ্রুত পৌঁছে যাবে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে।

এর বাইরে কৃষি, পর্যটন ও শিল্প বিকাশের অবারিত দ্বার খুলে যাবে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা। মানুষের জীবনযাত্রায় আনবে বিশাল পরিবর্তন। বিশেষ করে পায়রা বন্দরের সঙ্গে মোংলা বন্দর, রাজধানী ঢাকা ও সারাদেশের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ স্থাপিত হবে। পাশাপাশি পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, তালতলী তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, জাহাজ নির্মাণশিল্পের পরিকল্পনায় গতি পাবে।

পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, বঙ্গবন্ধু রেলসেতু-সহ বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে পায়রা সেতু-সহ আরও অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। আমরা নিশ্চিত করেই বলতে পারি, দেশের সার্বিক উন্নয়নে এসব প্রকল্প সীমাহীন ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলের মানুষ নানা দিকে থেকে এখনও পিছিয়ে আছে, তাদের জীবনমান উন্নত হবে।

আমরা মনে করি, উন্নয়নের একের পর এক মাইলফলকে পৌঁছে বাংলাদেশও বিশ্বের বুকে আলাদা একটা জায়গা করে নেবে। মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। পিছিয়ে থাকবে না কেউ- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

বিজ্ঞাপন