চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পাহাড়ি ঢলে হুমকিতে হাওরের ২০০ হেক্টর জমির ফসল

জাহিদ হাসান: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণার বড় নদ-নদীগুলোর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এরমধ্যে খালিয়াজুরি উপজেলার ধনু নদে হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধান নিয়ে শঙ্কিত রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

জেলার কৃষি বিভাগ বলছে, এরিমধ্যে প্রায় দেড়শ হেক্টর জমির বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। স্থানীয় কৃষকরা আশঙ্কা করছেন অব্যাহত পানি বাড়তে থাকলে ২০১৭ সালের মতো অকাল বন্যায় ফসল হারাতে হবে।

Reneta June

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল সৈকত জানান, ‘ধনু নদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় খুবই দুচিন্তায় আছি। এরিমধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধের বাহিরের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। তবে নদের পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। নদের খালিয়াজুরি পয়েন্টে বিপৎসীমা ৪ দশমিক ১৯ সেন্টিমিটার। কিন্তু সেখানে রাত নয়টা পযন্ত ৩ দশমিক ৫১ সেন্টিমিটার পানি রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনকে নিয়ে আমরা এলাকায় অবস্থান করছি। ফসলরক্ষা বাঁধ রক্ষায় আমাদের সকল ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, খালিয়াজুরির চুনাই হাওর, বাইদ্যার চর, কাটকাইলের কান্দা ও কীর্তনখলা হাওরের বেরিবাঁধের বাইরের অংশ তলিয়ে গেছে। তবে এখনো কোনো ফসল রক্ষা বাঁধ ভাঙ্গেনি। পানি বাড়তে থাকলে বাধ ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

খালিয়াজুরির গাজিপুর ইউনিয়নের পাঁচহাট এলাকার মিজাজুল মিয়া জানান, বৈলং হাওরের বেড়ি বাধের বাইরে তলিয়ে গেছে। আরেকটু পানি বাড়লে বেড়ি বাধ ভেঙে হাওরের ফসল তলিয়ে যাবে।

খালিয়াজুরির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচএম আরিফুল ইসলাম বলেন,‘ গত বৃহষ্পতিবার থেকে ধনু নদে পানি বাড়তে শুরু করে। ভারতে চেরাপুঞ্জিতে বৃহস্পতিবার ১৯১ মিলি মিটার ও শুক্রবার ৩৫৭ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত হয়। এর প্রভাব ধনু নদে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ফসল রক্ষা বাঁধ ভাঙেনি। কিন্তু নিন্মাঞ্চল কিছুটা প্লাবিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাশাপাশি আমরা বাঁধের পিআইসি কমিটির সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের সর্তক থাকতে বলেছি। যেখানে জিও ব্যাগ ফেলার দরকার, সেখানে তা প্রস্তুত রেখেছি। পানি বাড়লে ঝুঁকি বাড়বে, সেক্ষেত্রে সবার সর্তক থাকতে হবে।’