চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পাহাড়সম ঋণের বোঝা বার্সার ঘাড়ে

করোনা মহামারীর কারণে আর্থিক অবস্থা নাজুক বার্সেলোনার, ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট কার্লেস টেসকুয়েটস কিছুদিন ধরেই বলে চলেছেন এ কথা। কতটা খারাপ তা অবশ্য আন্দাজ করা যাচ্ছিল না। দুর্গতির অবস্থা বোঝাতে অবশেষে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনই প্রকাশ্যে এনেছে কাতালান ক্লাবটি, যা দেখলে দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে যেকোনো বার্সা সমর্থককেও।

আর্থিক প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে বার্সার ঋণের পরিমাণ ছুঁয়েছে ১.২ বিলিয়ন ইউরো। সঙ্গে আছে স্বল্প মেয়াদী ঋণও, যার পরিমাণ ৭৩০ মিলিয়ন ইউরো। এই স্বল্প মেয়াদী ঋণের বেশিরভাগ পাওনাদার ইউরোপ-সাউথ আমেরিকার অনেকগুলো ক্লাব, যাদের কাছ থেকে খেলোয়াড় কিনে পাওনা ঝুলিয়ে রেখেছে বার্সা।

বার্সা বলছে তাদের মোট আয়ের বেশিরভাগই খরচ হয় খেলোয়াড়-কর্মীদের পাওনা পরিশোধ করতে গিয়ে, যার পরিমাণ শতকরা ৭৪ শতাংশ। মহামারীর কারণে খেলা বন্ধ থাকায় এসব পারিশ্রমিক মেটাতে হিমশিম খেতে হয়েছে ক্লাবকে, যে কারণে বেতন কাটছাঁটে বাধ্য হয়েছে তারা।

বার্সা নিজেও ক্ষেত্র বিশেষে পাওনাদার। অনেকগুলো ক্লাব এখন পর্যন্ত তাদের কাছে ঋণী যার পরিমাণ ১২৬ মিলিয়ন ইউরো।

বিজ্ঞাপন

কাতালান ক্লাবটির কাছে ফিলিপে কৌতিনহোকে বিক্রি বাবদ এখন পর্যন্ত ২৯ মিলিয়ন ইউরো পাওনা আছে ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলের, ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের জন্য আয়াক্সের পাওনা ১৬ মিলিয়ন ইউরো। জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গে চলে যাওয়া ব্রাজিলিয়ান ম্যালকমের জন্য এপর্যন্ত ১০ মিলিয়ন ইউরো পায় ফরাসি ক্লাব বোর্দো। এসব ঋণ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে বার্সাকে।

চলতি মৌসুমের শুরুতে বার্সা ছাড়েন আর্থার মেলো ও আর্তুরো ভিদাল। অবাক করার বিষয় হচ্ছে, এ দুই খেলোয়াড়ের জন্য এখনও বার্সার কাছে টাকা পাবে তাদের সাবেক ক্লাব! আর্থারের জন্য ব্রাজিলিয়ান ক্লাব গ্রেমিও পাবে ২১ মিলিয়ন ইউরো, ভিদালের জন্য বায়ার্ন মিউনিখের পাওনা আছে ১১ মিলিয়ন।

অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে অ্যান্টনিও গ্রিজম্যানকে আনতে মোটামুটি ১২১ মিলিয়ন ইউরো খরচ করেছে বার্সা, যার পুরোটা এপর্যন্ত শোধ হয়নি। অনেক দরকষাকষির পর এখনো বার্সার কাছে ১০ মিলিয়ন পাওনা আছে স্প্যানিশ ক্লাবটির।

৪৮৮ মিলিয়ন পাওনা ঘাড়ে চাপিয়ে ২০১৯-২০ মৌসুম শেষ করেছিল বার্সা। করোনা মহামারীর দোহাই দিয়ে গত মৌসুমে পাওনাদারদের ঠেকিয়ে রাখতে পেরেছে ক্লাবটি। এবারও পাওনাদারদের কাছ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় চেয়েছে। কিছু ক্লাব তাতে রাজি, কিছু ক্লাব চেষ্টা করছে এই সময়ের মধ্যেই কিস্তি আকারে পাওনা বুঝে নিতে।

বার্সার আশা মাঠে দর্শক ফিরতে শুরু করলেই আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে তাদের। দর্শকদের কাছে টিকিট বিক্রির অর্থ বাবদ ৫৬ মিলিয়ন ইউরো আশা করছে ক্লাবটি। আগামী ফ্রেব্রুয়ারিতে ন্যু ক্যাম্পের ২৫ শতাংশ ও মে নাগাদ ধারণক্ষমতার অর্ধেক আসনজুড়ে দর্শক থাকবে বলে প্রত্যাশা কাতালানদের।

বিজ্ঞাপন