চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পারিবারিক আদালতে মামলায় “পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি” নয়: হাইকোর্ট

পারিবারিক আদালতে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে মূল ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে অন্যকে ক্ষমতা অর্পণ করা তথা “পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি” দেয়া যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এছাড়া পারিবারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন করার ক্ষেত্রে দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারা প্রয়োগ বাধা হবেনা, যদিও পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশে দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১০ ও ১১ ব্যতীত অন্য ধারার প্রয়োগকে বারিত করা আছে।

বিজ্ঞাপন

বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম, বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ এসংক্রান্ত রুল খারিজ করে আজ রায় ঘোষণা করেন। হাইকোর্টে নারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার মো: সাইদুল আলম খান। আর অপর  পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এম খালেদ আহমেদ।

আজকের এই রায়ের পর ব্যারিস্টার মো. সাইদুল আলম খান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: এই মামলার প্রথম বাদী এক নারী তার আমেরিকা প্রবাসী সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে দেনমোহর ও সন্তানের ভরনপোষণের দাবিতে মামলা করেন। সে মামলায় বিবাদী তার পক্ষে মামলা লড়াতে এক আত্মীয়কে “পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি” করেন। কিন্তু “ফ্যামিলি কোর্ট অর্ডিন্যান্স-১৯৮৫” অনুযায়ী পারিবারিক মামলায় “পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি” নেয়ার বিধান নেই বলে সিলেটের পারিবারিক আদালত এই মামলায়  “পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি” গ্রহণ না করে আদেশ দেন। সে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিবাদী আপিল করলে সিলেটের জেলা জজ আদালত আপিল খারিজ করেন। তবে বিচারিক আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একপর্যায়ে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করে ওই আমেরিকা প্রবাসী।

পরবর্তীতে বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে ওই রিভিশন আবেদনের শুনানি শুরু হয়। সে শুনানিতে পারিবারিক আদালতের মামলায় দেওয়ানী কার্যবিধির ১০ ও ১১ ধারার বাইরে অন্য কোন ধারা প্রযোজ্য হবে কিনা সে বিষয়ে হাইকোর্টের সামনে ভিন্ন ভিন্ন রায় পরিলক্ষিত হয়। একপর্যায়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ রিভিশন আবেদনটি শুনানির জন্য বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করতে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে প্রেরণ করেন। পরে প্রধান বিচারপতি রিভিশন আবেদনটি শুনানির জন্য তিন বিচারপতির সমন্বয়ে একটি বৃহত্তর হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করে দেন। বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম, বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর এই বেঞ্চ রিভিশন আবেদনটি শুনানির একপর্যায়ে অভিমত নিতে চারজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দিন। পরবর্তী সময়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আই ফারুকী, এ এফ হাসান আরিফ, কামালুল আলম ও প্রবীর নিয়োগী এবিষয়ে আদালতে তাদের অভিমত দেন। এরপর আদালত আজ রায় ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন