চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পান্ডিয়া-রাহুলকে দেশে ফেরানো নিয়ে নাটক, বিতর্ক

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিডনিতে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ হারের ক্ষত আছেই, সঙ্গে চরম বিতর্কে থমথমে হাওয়া বইছে ভারতের ড্রেসিংরুমে। বিতর্কের কেন্দ্রে নারীদের নিয়ে টিভি অনুষ্ঠানে অশালীন মন্তব্য করা দুই ক্রিকেটার হার্দিক পান্ডিয়া ও লোকেশ রাহুল। এমন কাণ্ড করে দুজনে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন। শনিবার তীব্র বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়েছে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে কিনা, তা নিয়ে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে এখন শাসন করছে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক নিযুক্ত কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্স (সিওএ)। এই কমিটির দুই কর্তা প্রধান বিনোদ রাই ও ডায়ানা এডুলজির মধ্যেও চরম মতভেদ। পান্ডিয়া-রাহুলকে নিয়ে কী করা হবে কিছুতেই একমত হতে পারছেন না দুজনে।

ডায়ানার দাবি, পান্ডিয়াদের কড়া শাস্তি তো দিতেই হবে সঙ্গে তাদের অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত। অন্যপ্রান্তে বিনোদ রাই প্রথমে দুজনের শাস্তির দাবি তুললেও আইনি জটিলতা বুঝে পরে কিছুটা নরম হয়েছেন। তার ইচ্ছা, বিশেষ প্যানেল তৈরি করে তাদের উপরেই সমস্ত ভার ছেড়ে দেয়া হোক।

ভারতীয় বোর্ডের অন্যকিছু কর্তাও এই পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছেন। লোধা কমিটির সুপারিশে পদের গুরুত্ব হারিয়েছিলেন ওই কর্তারা। সাবেক বিসিসিআই প্রধান শ্রীনিবাসন বৈঠক করেছেন বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে। বিনোদ রাইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযাগ আনা হচ্ছে সেখানে। কিন্তু পান্ডিয়াদের শাস্তির কোনো কথাই উঠছে না সেখানে!

Advertisement

অন্যদিকে, রাহুল-পান্ডিয়ারা দলের সঙ্গে থাকবেন কিনা, কতগুলি ম্যাচ বসে থাকতে হবে তাদের; এ নিয়ে সম্পূর্ণ ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে ভারতীয় দলের মধ্যে। শনিবারের ওয়ানডের আগে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের জানাই ছিল না কী করা হবে পান্ডিয়া-রাহুলদের নিয়ে। তারা দলের সঙ্গে মাঠে যাবেন নাকি সিডনি থেকেই দেশের বিমানে উঠিয়ে দেয়া হবে সেটা নিয়েও ছিল প্রশ্ন।

অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩৪ রানে হারের পেছনের কারণ হিসেবে পান্ডিয়া-রাহুল বিতর্ককেই দায়ী করছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো। সিডনিতে ম্যাচ খেলতে মাঠে যাওয়ার সময় দুই নিষিদ্ধ খেলোয়াড় কেনো দলের সঙ্গে এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে অনেকে!

আবার পক্ষেও কাউকে কাউকে পাচ্ছেন পান্ডিয়া ও রাহুল। বেন স্টোকসকে উদাহরণ হিসেবে ধরছেন অনেকে। নাইটক্লাবে লোক পিটিয়ে মামলার আসামি হয়েছিলেন ইংলিশ অলরাউন্ডার। ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড তাকে নির্বাসিত করলেও আদালতে মামলা চলাকালীন স্টোকসকে ভারতের বিরুদ্ধে খেলার অনুমতি দেয়া হয়। এজবাস্টনে প্রথম টেস্টে বিরাট কোহলির উইকেট নিয়ে ভারতের জয়ের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনিই।

স্টোকস ও পান্ডিয়াদের কাহিনী আলাদাও বলছেন কেউ কেউ। স্টোকস মাতাল অবস্থায় ঘুষি মেরেছিলেন। সেটা ছিল তার নিজস্ব ব্যাপার। আর দলের ড্রেসিংরুমের গোপন কথা নিয়ে মাতব্বরি করায় লোকেশ রাহুলের ওপর ক্ষিপ্ত ভারতীয় দলের খেলোয়াড়রাও। অধিনায়ক কোহলি নিজেই বলে দিয়েছেন দুই সতীর্থের অপকর্মের দায় দল নেবে না।

নিষেধাজ্ঞা শেষে দলে ফিরলে রাহুল-পান্ডিয়া উষ্ণ সংবর্ধনা পাবেন কিনা তা নিয়েও আছে সন্দেহ। ডায়ানা এডুলজি তো গো ধরেই আছেন, আরও বড় শাস্তি চান দুই ক্রিকেটারের। ক্রিকেটের বাইরে ভারতীয় ক্রিকেটীয় রাজনীতির দুই ঘুটি হয়ে দাঁড়িয়েছেন যেন পান্ডিয়া ও রাহুল!