চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পানির দাম না বাড়িয়ে চুরি বন্ধ হোক

ওয়াসার পানির দাম বাড়ছে তো বাড়ছেই, লাগামহীনভাবে। কোনো প্রকার যুক্তি ছাড়াই। পানির দাম বাড়ে, দুয়েকটি রাজনৈতিক দল প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ জানায়। পত্রিকায় কয়েকদিন তাদের খবর প্রচার হয়, তারপর শেষ। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ তাদের বর্ধিত হারে পানির বিল গ্রাহকের কাছে পাঠিয়ে আদায় করে নিচ্ছে।

এই চলছে গত কয়েক বছর ধরে। এ বছরও ১ এপ্রিল থেকে আগের চেয়ে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে গ্রাহকের কাছ থেকে পানির দাম আদায় করা হচ্ছে। যে কারণে গত মে এবং জুন মাসে অনেক গ্রাহকের মাথায় হাত উঠেছে বিলের কপি হাতে পাওয়ার পর। কিন্তু কোনো প্রতিবাদ করার উপায় নেই। এমনিতেই করোনা মহামারিতে জনজীবন দুঃসহ হয়ে উঠেছে, অনেকের ব্যবসা বাণিজ্যে মন্দাভাব। চাকরি-বাকরিতেও প্রভাব পড়েছে করোনার। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও বেতন বোনাস দিচ্ছে না ঠিকমত। ঘর ভাড়া অনেকের দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপর বাড়িওয়ালা যখন পানির বিল আগের চেয়ে বেশি দিতে বলে তখন যেন ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’-অবস্থা।

বিজ্ঞাপন

অর্থনৈতিক মন্দার কারণে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পথে। মানুষের হাতে টাকা নেই, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে চলেছে হু হু করে। তার ওপর পানির দাম বৃদ্ধি। বিদ্যুতের দামও বৃদ্ধি করা হয়েছে এ বছর মার্চে। মানুষকে যেন জোর করেই চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে একের পর এক।

এরমধ্যে ২২ জুন কার্যকর হওয়া ওয়াসার পানির বর্ধিত দাম আদায়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ১০ আগষ্ট পর্যন্ত বর্ধিত দাম আদায় থেকে ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে বিরত থাকতে ওই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের ধারণা এই নিষেধাজ্ঞা টিকবে না। যেখানে সরকারই চাচ্ছে এই দাম বাড়াতে সেখানে সাধারণ মানুষের কথা কে শুনবে?

এখন কথা হচ্ছে কেন এই পানির দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে? পানির দাম বৃদ্ধি করার পরে এর আগে শোনা গেছে ওয়াসার সিস্টেম লসের কথা। বিশুদ্ধ পানি তৈরি করতে যে পরিমান খরচ হয় পানি গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে সে খরচ ওয়াসা কর্তৃপক্ষ পায় না। অভিযোগ সেই গ্রাহকের দিকে। গ্রাহক সময় মত বিল পরিশোধ করেন না। কোথাও কোথাও পানির মিটার টেম্পারিংয়ের কথাও শোনা যায়।

বিজ্ঞাপন

আসল বিষয়টি চাপিয়ে রেখে গ্রাহকের ঘাড়ে অভিযোগটি দেয়া হয়। আর এ কাজে সহায়তায় থাকে তথাকথিত ওয়াসা অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মচারী ও কর্মকর্তারা। যারা এইসব মিটার টেম্পারিংয়ের কথা বলে অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে মাসিক হারে টাকা নিয়ে থাকে। শুধু তাই না, কোনো গ্রাহকের যদি পানির বিল এক দু বছর জমা থাকে সেগুলোকে অর্থের বিনিময়ে নয়ছয় করে কমিয়ে দিয়ে টাকা কামিয়ে থাকে দুর্নীতিবাজ কর্মচারি আর কর্মকর্তারা। পক্ষান্তরে রাজস্ব হারায় সরকার। শুধু তাই না,অনেক কর্মচারি সাধারণ কাজের বাইরে ওভারটাইম করেও প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক হয়েছে এমন সংবাদও গণমাধ্যমে ইতিপূর্বে জানা গেছে।

এরকম নানা দুর্নীতির মাধ্যমে যখন ওয়াসা কর্তৃপক্ষের ভর্তুকি বা ঋণের বোঝাতে বাড়তে থাকে তখন পানির দাম বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে চলে আসে। আর গ্রাহকের কাঁধে চলে যায় বাড়তি টাকার খড়গ।

ওয়াসার কর্তৃপক্ষ এই চুরি বন্ধে যতদিন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারবে ততদিন এই পানির দামের খড়গ গ্রাহকের ওপরই বর্তাবে।

ওয়াসা কর্তৃপক্ষ পানির দাম বৃদ্ধি করে সরকারের ওপর সাধারণ মানুষের মনকে বিষিয়ে তোলার যে দায়িত্ব নিয়েছে তা কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ কিনা সেটাও সরকারকে তদন্ত করে দেখা দরকার।

আর ওয়াসার দুর্নীতি বন্ধ করা না গেলে প্রতিবছর লাফিয়ে লাফিয়ে পানির দাম বৃদ্ধি পেতেই থাকবে। জনজীবনে নেমে আসবে দুঃসহ যন্ত্রণা।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)