চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু উদ্বেগ পর্যায়ে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দেশে প্রতিদিন গড়ে ৪০ জন শিশুর মৃত্যু হয় পানিতে ডুবে আর পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মারা যায় প্রায় ৩২ জন। এই পরিসংখ্যানটা যদি এভাবে দেখা যায়- দেশে ১ থেকে ৪ বছর বয়সী যতো শিশু অপঘাতজনিত কারণে প্রতিবছর মারা যাচ্ছে; তার ৪৩ শতাংশেরই মৃত্যু হচ্ছে পানিতে ডুবে।

শিশু মৃত্যুর এমন ভয়াবহতা চিত্র কতোটা ভাবাচ্ছে আমাদের?

বিজ্ঞাপন

ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস, জন হপকিন্স ইন্টারন্যাশনাল ইনজুরি রিসার্চ ইউনিট, দি সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ (সিআইপিআরবি) এবং আইসিডিডিআরবি পরিচালিত গবেষণায় শিশু মৃত্যু এমন ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।

চিত্রটা যখন এমন ভয় জাগানিয়া, তখন আমরা আমাদের শিশুদের রক্ষায় কতোটুকু সচেতন? এমন প্রশ্নের জবাবটা যেমন হতাশা জাগানোর; ঠিক বিপরীত দিকে সরকার এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সাম্প্রতিক পদক্ষেপও আশা জাগায়।

ইন্টারন্যাশনাল ড্রাউনিং রিসার্চ সেন্টার (আইডিআরসি) বাংলাদেশের ডিরেক্টর ড. আমিনুর রহমান শিশু স্বাস্থ্য, মানসিক বিকাশ এবং অপমৃত্যু রোধে দীর্ঘ দিন থেকে কাজ করছেন। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো পানিতে ডুবে মৃত্যুর চিত্রটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কেমন?

এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন: অপঘাতজনিত কারণে আমাদের দেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ শিশু মারা যাচ্ছে তার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কারণ পানিতে ডুবে মৃত্যু। সারা বিশ্বের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়াতেই পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার সব থেকে বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হর আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারতে। কিন্তু জনসংখ্যার অনুপাতে বাংলাদেশে যতজন শিশু পানিতে ডুবে অপমৃত্যু শিকার হচ্ছে তা ভারতের থেকে অনেক আংশে বেশি।

বিজ্ঞাপন

‘‘সবাই বলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়ায় বেশি মারা যায়। কিন্তু আসলে বেশি শিশু মারা যায় পানিতে ডুবে। এটা নিয়ে গণমাধ্যমে বিচ্ছিন্ন আকারে রিপোর্ট আসে কিন্তু তেমন একটা গুরুত্ব পায় না আবার পুলিশের খাতাও এদের সংখ্যা থাকেনা তাই ভয়াবহতা সকলে অনেকটা অগচরেই রয়ে যায়।’’

শিশু নিরাপত্তা এবং অপমৃত্যু রোধে বাংলাদেশে কাজ করছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন পরামর্শক সংস্থা সিনার্গোস।

সংস্থাটির পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ম্যানেজার ওবায়দুল ফাত্তাহ তানভীর পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রসঙ্গে বলছেন: আমাদের দেশের ভৌগলিক অবস্থানের কারণে অনেক নদী-নালা, খাল-বিল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে; যার সিংহভাগই অরক্ষিত। তাই যখনই পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, সাধারণ মানুষ এটাকে খুব সহজে এটাকে বাস্তবতা হিসেবে মেনে নেয়।

তিনি আরও বলেন: গবেষণায় দেখা গেছে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার গ্রামাঞ্চলে বেশি। এর বড় একটি কারণ হচ্ছে গ্রামের বাড়ি গুলোর পাশেই পুকুর, ডোবা বা জলাধার থাকতে দেখা যায়। যেগুলোতে কোন ধরনের বেষ্টনী থাকে না।অভিভাবকের সামান্য ৫ থেকে ৭ মিনিটের অসতর্কতা থেকে সদ্য হাটতে শেখা শিশু গুলো খেলতে খেলতে একটা সময় জলাধারগুলোর কাছাকাছি চলে আসে, আর ঘটে দুর্ঘটনা।

আর এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টার মধ্যে। এ সময়টুকু যদি অভিভাবকরা সতর্ক থাকেন তাহলে ৮০ শতাংশ মৃত্যু রোধ করা সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর তিন লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ জন ব্যক্তি পানিতে ডুবে মারা যান। এরমধ্যে বাংলাদেশে ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের এ সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার।

এছাড়াও পানিতে ডোবার কারণে আরো ১৩ হাজার শিশু স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করে। আহত হয় আরও এক লাখ শিশু।