চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পাচারের শিকার ব্যক্তিদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা

মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডের অর্থায়নে উইনরক ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত আশ্বাস প্রকল্পের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করছে ডিজিটাল হসপিটাল।

প্রকল্পটি মানব পাচারের শিকার পুরুষ ও নারীদের পুনর্বাসনে কাজ করছে, আর বর্তমানে ডিজিটাল হসপিটাল তাদের বিভিন্ন ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে এবং এতে এখনও নতুন সদস্য যোগদান করছে।

২০২২ সালে প্রকল্পটির শেষ নাগাদ, পাচারের শিকার পুরুষ ও নারীদের একটি বিশাল অংশকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে বিভিন্ন উপায়ে সাহায্য করার পরিকল্পনা করেছে আশ্বাস। এর মধ্যে রয়েছে সুবিধাভোগীদের উন্নত স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সাশ্রয়ী ও মানসম্পন্ন স্বাস্থ্য সেবা প্রদান।

কারিতাস, অগ্রগতি সংস্থা, সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজ (সিডব্লিউসিএস), ঢাকা আহছানিয়া মিশন (ডিএএম) এবং রাইটস যশোরের মতো সামাজিক সুরক্ষা অংশীদারদের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যাবাসন এবং পুনরুদ্ধারের পর, পাচারের শিকার পুরুষ ও নারীরা মানবেতর জীবনযাপন, অনুন্নত স্যানিটেশন, অপর্যাপ্ত পুষ্টি এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, কর্মক্ষেত্রের সঙ্কটময় অবস্থা এবং মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবার অভাবের কারণে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগতে পারেন।

এছাড়া, পাচার হওয়া নারীদের প্রায়শই সামাজিক কুপ্রথার মতো চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। তাই, তাদের আত্মবোধ পুনর্গঠন, অসহায়ত্বকে বুঝতে এবং তাদের মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে সহায়তা করার লক্ষ্যে পাচারের শিকার পুরুষ ও নারীদের প্রয়োজনীয় মানসিক ট্রমা সংক্রান্ত মনোসামাজিক পরামর্শ প্রদান করে আশ্বাস।

ডিজিটাল হসপিটালের সিসিও এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ড্রু স্মিথ বলেন, “পাচারের শিকার অধিকাংশ মানুষ মানসিক এবং শারীরিক ট্রমার শিকার হন। সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে পুনর্বাসনে তাদের নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় (সামাজিক কুপ্রথা জন্য), যা কিনা সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনের অন্যতম প্রধান শর্ত। এসব নারী-পুরুষদের কাউন্সেলিং, আইনি সেবা এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সহায়তা প্রদানে কাজ করছে আশ্বাস। আর এখন, মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে আশ্বাসের সাথে যোগ দিয়েছে ডিজিটাল হসপিটাল। কারণ দেখা যায়, এসব মানুষ প্রায় সময় খরচ বেশি ও সহজলভ্য নয় বলে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারেন না। সকল সামাজিক ও ভৌগলিক বাঁধা অতিক্রম করে আমরা সমাজের একটি অংশ/পুরো সমাজকে সর্বদা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সহায়তা প্রদান করবো, কারণ আমরা বিশ্বাস করি সবার সুস্থ থাকার অধিকার রয়েছে।”

বর্তমানে, মানব পাচারের প্রবণতা বেশি এমন ৫টি জেলায় প্রকল্পটির কার্যক্রম চলছে। জেলাগুলো হচ্ছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং যশোর।

বিজ্ঞাপন