চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

১০ বছর বয়সে বিশ্বজুড়ে সুনাম কুড়িয়েছে পাকিস্তানের ক্ষুদে উদ্যোক্তা

পাকিস্তানের শিশু জিমাল উমের, বয়স মাত্র ১০ বছর। এর মধ্যে একজন পরিবেশ সচেতন উদ্যোক্তা হিসাবে সুনাম কুড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। ব্যবসার চিন্তা তাকে উদ্যোক্তা তৈরি করেনি। তার নিজ শহর পাকিস্তানের পাঞ্জাবের মানুষের ফেলা আবর্জনা তাকে ভাবিয়েছে পরিবেশ নিয়ে করতে।পলিথিন ব্যাগের পরিবর্তে কাগজ দিয়ে জিব্যাগ তৈরি করে নজর কেড়েছে সবার।

পাকিস্তানের পরিবেশ সংরক্ষণ বিভাগের তথ্যমতে, প্রতিবছর পাকিস্তানে ২০ টন আর্বজনা তৈরি করে এবং প্রতিবছর এর পরিমান ২.৪% হরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে নানা ধরনের রঙ্গিন পলিথিন ব্যাগ, ধাতব পদার্থ রয়েছে যা পরিবেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছি।

এসব আবর্জনা নিধনে সরকার মূলত দুটি পথ অবলম্বন করে কিন্তু বাকী যেগুলো অসংগৃহীত থেকে যায় সেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনে।

এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জিমেল বলে, বেশিরভাগ লোকই ভাবে না যে পলিথিনের ব্যাগগুলো মাটিতে মিশে যায়না। লোকজন অসেচতনভাবেই বিষয়টি অগ্রাহ্য করে। কেই পুনর্ব্যবহারের কথা চিন্তা করেনা।

এরপরই দূষণ কমানো এবং পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য জিব্যাগ বানানোর সিদ্ধান্ত নেয় জিমাল। পুরাতন কাগজ উজ্জল করে ব্যাগ তৈরি করে। পরে সেগুলো পরিবার এবং বন্ধুদের মাঝে বিক্রি করে।পরে সেগুলো অনলাইনে বিক্রির ব্যবস্থা করে।

সেখান থেকে প্রাপ্ত অর্থের বেশিরভাগই স্থানীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে দিয়ে দেয় সে। এভাবে তিন বছরের মধ্যে সে একটি একটি করে শত শত ব্যাগ বিক্রি করে এবং প্রায় পাঁচ হাজার ডলার আয় করে।

বিজ্ঞাপন

ইউটিউব দেখে দেখে ব্যাগ বাননো শিখেছে বলে জানায় জিমেল। বলে, স্কুলের পাশাপাশি ব্যাগ বানানো চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। এজন্য ছুটির দিনগুলোতে কাজিনদের নিয়ে ব্যাগ বানাতাম।

জিমেল আরও বলে, আমার বাবা এবং দাদা উপকরণ কিনে দিয়ে আমাকে সহযোগিতা করে। তারা না থাকলে আমার এ কাজ করা সম্ভব হতো না।

তার এই উদ্ভাবন এবং দাতব্য কর্মকান্ড গণমাধ্যমের মনোযোগ আকর্ষণ করে। গণমাধ্যমে তাকে ‘পাকিস্তানের সবচেয়ে কনিষ্ঠ উদ্যোক্তা’ হিসেবে তুলে ধরে।

বিবিসিও দক্ষিণ এশিয়ার উদ্যোক্তাদের প্রতিবন্ধকতার সমাধান নিয়ে প্রচারিত অনুষ্ঠানে জিমেলের কাজ তুলে ধরে।

ইতোমধ্যে জিমেলের জিব্যাগ পাকিস্তান, সৌদিআরব ও যুক্তরাষ্ট্রে পুরষ্কৃত হয়েছে। পুরষ্কার পেয়ে অনেক খুশি জিমেল। বলে, আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি পেয়ে আমি অনেক উদ্বিগ্ন ছিলাম। আমার কাজের মাদ্যমে আমার দেশ এবং পরিবার প্রশংসিত হয়েছে এতে আমি অনেক খুশি।

ভবিষ্যতে একজন ব্যবসায়ী হয়ে নিজ দেশের বাইরেও জিব্যাগের ব্যবসা প্রসারিত করা এবং তার ওয়েবসাইটে জিব্যাগ সহ অন্যদের পণ্যও রাখতে চাওয়ার ইচ্ছার কথা জানায় জিমেল।

বিজ্ঞাপন