চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পাকিস্তানীদের উড্ডয়ন ক্ষমতা ধ্বংস করেছিলেন যে বীর সেনা

সুলতান মাহমুদ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিমান বাহিনীর আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পাকিস্তানী বাহিনীর রসদ ও সৈন্য সরবরাহ বন্ধে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বিমান বাহিনী প্রধান হিসেবে দেশ সেবা করেছেন তিনি।মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য এ বছর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

সুলতান মাহমুদের জন্ম ১৯৪৪ সালে ফেনীর দাগনভুঁইয়ায়। ৪ ভাই এক বোনের মধ্যে মেজ সুলতান মাহমুদ ঢাকায় এবং পাকিস্তানের সারগোদা পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে পাকিস্তান এয়ারফোর্স একাডেমি থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে ১৯৬০ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগদানের মধ্য দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু। ২ বছরের মধ্যে জিডি পাইলট হিসেবে কমিশন পান তিনি। দেশের প্রতি অনুগত এই সামরিক কর্মকর্তার পাকিস্তানের শাসকদের প্রতি ঘৃণার জন্ম নেয় ১৯৭১ সালে মার্চে লারকানায় তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টোর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তিকামী জনগণকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার পরিকল্পনার কথা শুনে। নিজের জীবন আর স্বর্ণালী ক্যারিয়ারের প্রতি হুমকি জেনেও স্বল্পকালীন ছুটি নিয়ে এসে অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধে।

বিজ্ঞাপন

১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ ও ১ নম্বর সেক্টরে স্থল বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেন সুলতান মাহমুদ। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে বিমান বাহিনীর প্রথম ইউনিট কিলো ফ্লাইট গঠনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

দুই মাস প্রশিক্ষণের পর ৩ ডিসেম্বর প্রথম অভিযানেই অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন তিনি। ভারতের কৈলশহর থেকে মধ্যরাতে বাংলার আকাশ সীমায় প্রবেশ করে সফল অভিযান পরিচালনা করেন সুলতান মাহমুদ ও তার সহযোগী বিমান সেনারা। ঢাকার কাছে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইলে তেল ডিপোতে স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ তার সহযোগী ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট বদরুল আলমকে নিয়ে এলয়েড হেলিকপ্টার থেকে জীবন বাজি রেখে আঘাত হানেন।

পাকিস্তান বিমান বাহিনীর উড্ডয়ন ক্ষমতা দ্রুত শেষ হয়ে গিয়েছিলো সুলতান মাহমুদ ও তার সহযোগীদের আক্রমণে যেটি স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিলো।

১৯৮১ সাল থেকে ৮৭ পর্যন্ত বিমান বাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ বীর উত্তম। বিভিন্ন সময় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বসহ অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করেছেন সুলতান মাহমুদ। মুক্তিযুদ্ধে তার দেশাত্মবোধ ও সাহসিকতার জন্য ব্রাজিল সরকার তাকে মেরিট অ্যারোনোটিকস উপাধিতে সম্মানিত করেছে। মুক্তিযুদ্ধে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ বীর উত্তমকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হচ্ছে।

বিস্তারিত দেখুন ভিডিও রিপোর্: