চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পাঁচ মাস পর ‘সুরগাঁও’, বছরের প্রথম মঞ্চায়ন

শিল্পকলা সন্ধ্যা আবারো ‘সুরগাঁও’ যাবে। মঙ্গলবার। জাদুবাস্তবতার নাট্যভ্রমণে। পাঁচ মাস পরের যে ভ্রমণে পুনরায় জানা যাবে এক কালো ঠোঁটের গল্প। ওষ্ঠাকালার ঠোঁট। প্রেমিকের মৃত্যুর জন্যে নিজেই দায়ী ভেবে যে ওষ্ঠকালা হপহপ করে গিলে ফেলেছিলো ২২টা কুপির আগুন। তারপরও বেঁচে গিয়েছিল ওষ্ঠকালা। সেই গল্প। যার সঙ্গে থাকবে আনাল ফকির, আসমান, সুহি অথবা হাক্কা ব্যাপারী। বাজবে অসুর বধের সুর।

দেশ নাটকের ২২তম প্রযোজনা ‘সুরগাঁও’ নতুন বছরে প্রথমবার মঞ্চস্থ হচ্ছে। এ নাটকে নির্দেশনার মাধ্যমে ১৭ বছর পর মঞ্চে নির্দেশনায় প্রত্যাবর্তন করেন মাসুম রেজা। গত বছর ২০ জানুয়ারি প্রথম মঞ্চে আসে নাটকটি। ২০০০ সালে সর্বশেষ নিজের লেখা নাটক ‘নিত্যপুরাণ’ ৬ মার্চ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় মঞ্চায়িত হবে বাংলা নাট্য সাহিত্যের প্রথম জাদুবাস্তব নাটক ‘সুরগাঁও’।

বিজ্ঞাপন

‘সুরগাঁও’ নাটকের শুরু আসমান ফকিরের যাদুর বাস্তবতায়। তিনি ভবিষ্যৎ দেখতে পান। আসমান ফকির দেখেন, সুরগাঁওয়ের পত্তনকারী আনাল ফকির ১৮০ বছর আগে এক রাতে গ্রাম থেকে উধাও হয়েছেন। তিনি ফিরে আসছেন সুরগাঁওয়ে। সত্যি ফিরে আসেন আনাল ফকির। উধাও হয়ে যাওয়ার আগে কোনো একদিন বাঁশি বুড়ির হাতে দিয়ে যান এক মোহন বাঁশি। বলে যান, বাঁশির সুর দিয়ে মানুষের ভেতরের অসুরকে দূর করতে। সেই থেকে বাঁশি বুড়ি থানা থেকে আসামিদের চেয়ে নিয়ে এসে বাঁশি বাজানো শেখায়। আনাল ফকির ফিরে আসার পরই নতুন এক সঙ্কটের মুখোমুখি হয় সুরগাঁও। সময়ের বিপরীতে ১৮০ বছর আনাল ফকির প্রত্নকাল ভ্রমণ করেছেন। তার ইচ্ছায় তিনি ভ্রমণ করেন ব্যাবিলন, স্যার টমাস মুরের সময়কালের ইংল্যান্ড, কুরুরাজ্য, দামেস্ক, সক্রেটিসের সময়কালের গ্রিসসহ অনেক জায়গা। এসব স্থান ভ্রমণকালে ব্যাবিলনের রাণী, স্যার টমাস মুর, পাণ্ডবভার্যা দ্রৌপদী, সক্রেটিসের বন্ধু ক্রিটো এবং দামেস্কের আমীর অমূল্য কিছু উপহার দেন আনাল ফকিরকে। কিন্তু কালের বিপরীতে ভ্রমণ এবং কালের গর্ভ থেকে মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগে তাম্রসেনার দল ঢুকে পড়ে সুরগাঁওয়ে। সুরগাঁওয়ে শুরু হয় চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা। এভাবেই এগিয়ে যায় সুরগাঁও নাটকের কাহিনী।

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন মামুন চৌধুরী, কুদ্দুছ মাখন, ফিরোজ আলম, শাহেদ নাজির, মেঘলা মায়া, তামিমা তিথি, নয়ন মাহমুদ শূন্য, জলি চৌধুরী, শাফিজ আল মামুন, সমাপন সরকার, মেহনাজ পারভিন বনী, ফাহিম মালেক ইভান, রোশেন শরিফ প্রমুখ। সুর দিয়েছেন শিমুল ইউসুফ, আবহসঙ্গীত ইমানুর রশিদ খান, কণ্ঠ দিয়েছেন দিলরুবা খান, শিমুল খান, ইমানুর রশিদ খান। পোশাক পরিকল্পনা ওয়াহিদা মল্লিক জলি, নৃত্য মুনমুন আহমেদ। সহকারি নির্দেশক অয়ন চৌধুরী ও নির্দেশনা সহযোগী মামুন চৌধুরী রিপন।