চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পহেলা বৈশাখে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পাট শাক আর রুপালি সিলিভার কার্প মাছ

পহেলা বৈশাখ উদযাপনে সরকারের বৈশাখী উৎসব ভাতা সুবিধা থেকে বরাবরের মতো এবারও বাদ পড়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। যেখানে দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার ৯৭ ভাগ এই এমপিওভুক্ত শিক্ষদের নিয়ন্ত্রণে। একদিকে গুরুত্বপূর্ণ একটি শ্রেণীকে এ ভাতা থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে তাদেরকেই আড়ম্বরপূর্ণ নববর্ষ উদযাপনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা সম্বলিত চিঠি দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি পরষ্পর বিরোধী এবং হাস্যকর।

এ নিয়েই সামাজিক যোগাযোগের সাইট ফেসবুকে সরব হয়েছেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বিদ্যানিকেতনের সহকারী প্রধান শিক্ষক হাসিম আহমেদ। তিনি এ বিষয়ে সরকারের বোধোদয়ের আশা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

তার একাউন্টে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মঙ্গল শোভাযাত্রা সহ বাংলা নববর্ষ অনুষ্ঠান আড়ম্বরপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য জোরালো নির্দেশনা সম্বলিত একটা চিঠি এসেছে। কয়েক বছর ধরেই এ ধরণের নির্দেশনামূলক চিঠি আসছে। অবশ্য চিঠি আসার আগেও অনেক স্কুল বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে।

বিজ্ঞাপন

আগামী প্রজন্মের কাছে সার্বজনীন বাংলা নববর্ষের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বিরাট। আর এক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকদের আন্তরিকতাপূর্ণ অংশগ্রহণ ছাড়া এ ধরণের অনুষ্ঠানকে সাফল্যমণ্ডিত করা সম্ভব নয়।

সরকার গত বছর থেকে সরকারি স্কেলভুক্ত চাকুরীজীবীদের জন্য বৈশাখী উৎসব ভাতা দিচ্ছে। সরকারী স্কেলভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও গতবারের মতো এবারেও বাদ পড়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। অথচ, দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার ৯৭ ভাগ এই এমপিওভুক্ত শিক্ষদের নিয়ন্ত্রণে। বাংলা নববর্ষ ও বৈশাখী মেলা উদযাপনে যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, তাহলে শিক্ষকদের প্রতি এই অবহেলার কারণ কী?

সারাদেশে সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা তিনশো’র মতো। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা যেহেতু বৈশাখী ভাতা পাচ্ছেন, বৈশাখী অনুষ্ঠান না হয় তারাই আড়ম্বরপূর্ণ ভাবে উদযাপন করুন। যারা, বৈশাখী ভাতা পাননি, তারা অনাড়ম্বর ভাবেই করুন। পহেলা বৈশাখে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পাট শাক আর রুপালী সিলিভার কার্প দিয়ে তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে পালন করুক। ভাতা প্রাপ্তদের জন্য থাক রুপালী ইলিশ।

বাংলা নববর্ষের সার্বজনীন চেতনা আগে সরকারের ঘরে আলো জ্বালুক।’