চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজাও হচ্ছে ভোটের হিসেব কষে

কোভিড-১৯ জনিত সঙ্কটের আবর্তে এবছর শারদোৎসবকে ঘিরে মানুষের মনে একটা সংশয় অনেকদিন ধরেই বাসা বেঁধেছিল। উৎসবের আনন্দ, প্রত্যাশা, অর্থনৈতিক আদান-প্রদান, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে শারদ সাহিত্য– সবকিছু ঘিরে একটা চরম অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। দুর্গোৎসব হিন্দু বাঙালির কাছে যতোটা ধর্মীয় আকুলতা নিয়ে আসে, তার থেকে অনেক বেশি এই উৎসবকে ঘিরে আন্দোলিত হয় আর্থসামাজিক একটা ওঠাপড়ার বিষয়। সরাসরি দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িত নন, এমন মানুষদের রুটিরুজি থেকে শুরু করে বৌদ্ধিক চর্চার আদান-প্রদানও অনেকখানিই আন্দোলিত হয় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে।

বাংলাদেশে যেমন পবিত্র ঈদকে ঘিরে সেখানকার সব অংশের মানুষদের আর্থ-সামাজিক পরিমণ্ডলটি আবর্তিত হয়, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় তেমনটা হয় দুর্গাপুজোকে ঘিরে। অথচ এখানকার জনসংখ্যার একটা বড় অংশ হলেন বাংলাভাষী মুসলমান। তারা দুটি ঈদই সাড়ম্বরে পালন করেন। রোজা পালন করেন। মুহররম পালন করেন। শবেবরাত করেন। লোকায়ত পর্যায়ে পবিত্র ইসলামের আঙ্গিককে একটা মরমীয়া চেতনায় প্রতিষ্ঠিত করে বেড়া উৎসবও পালন করেন।

বিজ্ঞাপন

দুর্ভাগ্যের বিষয়, পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি সমাজের একটা বড় অংশ বাংলাভাষী মুসলমান হলেও, হিন্দু বাঙালীর দুর্গাপুজোকেই, এপার বাংলার বাঙালিদের শ্রেষ্ঠ উৎসব বলে দেখার একটা অদ্ভূত রেওয়াজ বেশ অনেককাল ধরেই চালু হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ অত গভীরভাবে চিন্তা না করে, এ ধরনের ভুল কথা বলতেই পারেন। কিন্তু দুঃখ লাগে, সেইসঙ্গে ক্ষুব্ধ ও হয়ে উঠতে হয়, যখন দেখি পশ্চিমবঙ্গ আইনসভার বামপন্থী সদস্য তন্ময় ভট্টাচার্য প্রকাশ্যে বলেন, বাঙালিদের শ্রেষ্ঠ উৎসব হল, দুর্গোৎসব।একজন বামপন্থীর মুখ থেকে যদি প্রকাশ্যে এই ধরনের শব্দ উচ্চারিত হয়, তাহলে হিন্দু সাম্প্রদায়িক বিজেপি কী বলতে পারে এই দুর্গোৎসবকে ঘিরে, তা সহজেই অনুমান করতে পারা যাচ্ছে।

দুর্গোৎসবকে বাঙালির সেরা উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে প্রচেষ্টা চলে, রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকেও যে উদ্যোগ দেখা যায় শারদ সংকলন, উৎসবের সময়ে বইয়ের স্টল ইত্যাদি করে, তার বিন্দুমাত্র উদ্যোগ কিন্তু পবিত্র ঈদকে ঘিরে হয় না। রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক পত্রপত্রিকাগুলি দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে শারদ সাহিত্যের ডালি সাজালেও একটি ঈদ সংখ্যা তারা আজ পর্যন্ত প্রকাশ করেননি। ঈদ ঘিরে সামাজিক উৎসবের এতোটুকু আয়োজনের উদ্যোগ কখনো তাদের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি। ঈদ সংখ্যা পশ্চিমবঙ্গে যেসব পত্রপত্রিকার পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়, সেইসব পত্রিকার সম্পাদনা বা মালিকানার ক্ষেত্রে যারা থাকেন, তারা ধর্মপরিচয়ে মুসলমান।

এভাবে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি কার্যত শারদ উৎসবকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ দেখিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের একটা বড় অংশের মানুষের পালন করা পবিত্র ঈদ সম্পর্কে একদম নীরব থেকে দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যাগুরু সাম্প্রদায়িকতাকে নিজেদের ইচ্ছেতে হোক, না বুঝে হোক, কার্যত মদত দিয়ে আসছে। বহুদিনই পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজো উপলক্ষে রেশনে চিনি ইত্যাদি বেশি দেওয়া হলেও, পবিত্র ঈদসহ মুসলমান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ঘিরে রেশনে বেশি খাদ্য সামগ্রী দেওয়ার কোনো রেওয়াজ নেই। প্রশাসনের এই ধরনের কাজ অতীতে বাম জামানাতেও হয়েছে, আজ তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন ও হচ্ছে। বস্তুত প্রশাসনের এই ধরনের ছোটখাট ভুলের থেকে কী ভয়ঙ্কর সাম্প্রদায়িক মানসিকতার জন্ম দিনের পর দিন নিয়েছে, সেই দিকে রাজনৈতিক দলগুলি থেকে সমাজকর্মী, কেউই কোনোদিন বিশেষ নজর দেননি। ফলে এই যে বামপন্থী বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য, দুর্গাপুজোকে আমবাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব বলে প্রকাশ্যে মন্তব্য করলেন বা ঈদের আগে হেজাব পরিহিতা, ভুল ভঙ্গিমায় মোনাজাতরত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফটোসেশন করা ছবি– এগুলি একদিকে হিন্দু সাম্প্রদায়িক অংশকে নোতুন করে উৎসাহ জুগিয়েছে। অপরদিকে সংখ্যালঘু মুসলমানেদের মনস্তত্ত্বকে আরও প্রান্তিকতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

এরকম একটি আবর্তের ভিতর পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজো পালিত হয়। বামপন্থী রাজনীতিকেরা পুজোকে উৎসব হিসেবে দেখতে চাইলেও, পুজো প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাদের কর্মী, সমর্থকদের একটা বড় অংশ জড়িয়ে যে থাকেন, সেকথা অস্বীকার করবার কোনো উপায় নেই। দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুজোকে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের সেরা উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবার যে মানসিকতার ধীরে ধীরে প্রসার লাভ ঘটেছে, তার কার্যকারণকে ব্যবহার করে গত কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন ক্লাব পরিচালিত দুর্গাপুজোগুলোকে সরকারি ভাঁড়ার থেকে অর্থ সাহায্য করে আসছেন। চলতি বছর করোনা আবর্তে গোটা ভারতের মতোই পশ্চিমবঙ্গেও সবদিক থেকে সঙ্কট। লকডাউন ইত্যাদির জেরে ভয়াবহ অর্থ সঙ্কট। ব্যাপক ছাঁটাইয়ের ফলে এই অর্থনৈতিক সঙ্কট এখন মধ্যবিত্তের আঙিনাকে অতিক্রম করে উচ্চবিত্তের মানুষদের দরজাতে পর্যন্ত কড়া নাড়ছে। অতীতে যে ধরনের অতিমারীজনিত সঙ্কট তৈরি হয়েছিল, সেইসময়ে কিন্তু উচ্চবিত্ত আজকের মতো সেই সঙ্কটের শিকার হয়নি।

এইরকম একটি আবর্তের ভিতরে সাড়ম্বরে দুর্গাপুজো পালন করলে, করোনাজনিত বিপদ আরো ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী মহল বেশ কিছুদিন ধরেই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করছিলেন। সেই সতর্কবার্তা উচ্চারণকারীদের ভিতরে মুখ্যমন্ত্রী মমতার সঙ্গে ব্যক্তিগত স্তরে ঘনিষ্ঠতা আছে, এমন কিছু চিকিৎসকও আছেন। তারা প্রকাশ্যে, খবরের কাগজে কলাম লিখে এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছিলেন।

গত ছয়, আট মাসে করোনাজনিত সঙ্কটের কালে জনসমাগম থেকে এই সক্রমণের বিষয়টির বিভৎসতা আমরা দেখেছি।জনসমাগমকে কেন্দ্র করে সঙ্কীর্ণ, সাম্প্রদায়িক রাজনীতিও আমরা দেখেছি। করোনা সংক্রমণের বিষয়টি শুরু হওয়ার ঠিক আগে দিল্লিতে তাবলিগের জামাত ঘিরে ভয়ঙ্কর অসভ্যতা করেছে হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তি। এই জামাতে সমবেত মানুষদের থেকেই করোনা ছড়িয়েছে ভারতে– এমন ভয়ঙ্কর অপপ্রচার চালিয়েছে আরএসএস-বিজেপি। যেহেতু জামাতে অংশগ্রহণকারী মানুষেরা ধর্মে মুসলমান, তাই মুসলিম বিদ্বেষকে মাত্রাহীনভাবে সংক্রমিত করে হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তি আরএসএস- বিজেপি, এই করোনা আবর্তেও নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি’ সাম্প্রদায়িকতার প্রচার, প্রসার এবং প্রয়োগ করে গেছে। হিন্দুত্ববাদী শক্তির এই সামাজিক প্রযুক্তি ভয়ঙ্কর সাফল্য আমরা দেখেছি যখন এক বামপন্থী দলের তাত্ত্বিক মুখপত্রের সবসময়ের কর্মী বলেছেন; তাদের দেশের বাড়ি আসামের সাপোটগ্রাম অঞ্চলে করোনা ছিলই না। দিল্লিতে জামাত করা তাবলিগীরা, সেখান থেকে ফিরে এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে।ওই পত্রিকার আর এক কর্মী বলেছেন, তাদের হাওড়ার শিবপুরের চওড়া বস্তি এলাকায় ঈদের পর করোনার সংক্রমণ বেড়েছে। অথচ, এইসব লোকেরা কিন্তু একটি বার ও দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে জনসমাগম থেকে সংক্রমণের বিপদ সম্পর্কে এতোটুকু শব্দ উচ্চারণ করছেন না।

বিজ্ঞাপন

এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপুজোর জন্যে প্রত্যেকটি পুজো কমিটিকে সরকারি তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করেছেন। দমকলসহ পুজো অনুমতির জন্যে সরকারকে দেয় টাকা মওকুফ করেছেন। ইলেকট্রিসিটি বাবদ পুজো কমিটিগুলির চার্জ অর্ধেক করেছেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হওয়া স্বত্ত্বেও পবিত্র ঈদ পালনে মসজিদ গুলিকে সরকারি তহবিল থেকে একটি টাকাও অনুদান দেয় না বাংলাদেশ সরকার। তারা সরকারী কর্মীদের ঈদ পালনের জন্যে ভাতা দেন। পশ্চিমবঙ্গে সরকারী কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের হকের পাওনা মহার্ঘ্য ভাতা থেকে বঞ্চিত।অথচ ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের নামে শপথ নিয়ে মমতা সরকারী টাকা ধর্মীয় কাজে ব্যবহারের জন্যে দিচ্ছেন স্রেফ প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতাকে আরো উসকে দিতে। ভারতের সংবিধানে ধর্মীয় ভিত্তিতে একটা টাকাও দেওয়ার সংস্থান নেই। সম্পূর্ণভাবে ভারতের সংবিধানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জনগণের করের টাকাকে কার্যত ব্যক্তিগত টাকার হিসেবে ব্যবহার করে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপুজোতে একটা ব্যাপক টাকা মমতা খরচ করেছেন।

মমতার এই সংবিধান অমান্য করে, ধর্মীয় কাজে সরকারী ভাণ্ডারের টাকা দান খয়রাতি করা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। বিশিষ্ট আইনজীবী, সাংসদ, বামপন্থী ব্যক্তিত্ব বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য দেশের সংবিধান রক্ষার উদ্দেশে এই মামলাতে সাওয়াল করেছেন। মহামান্য আদালত যথার্থভাবেই বলেছেন, সরকারী টাকা কখনোই পূজার্চনার মতো ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা যাবে না। এই টাকা পূজা কমিটিগুলিকে করোনা সংক্রমণের বিষয়ে মানুষকে সচেতন এবং রোগ প্রতিরোধের উদ্দেশে খরচ করতে হবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারি টাকা দুর্গাপুজোতে খরচের সিদ্ধান্তকে নাকচ করে, সেই টাকা করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর কাজে ব্যবহারের ঐতিহাসিক নির্দেশের ভিতর দিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশে, সরকারী তহবিলের অর্থ, কোনো অবস্থাতেই একটি বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্যে খরচ করা যায় না। দুর্গাপুজোতে সরকারি টাকা খরচ করা যে ভারতের সংবিধানকে অমান্য আর গর্হিত কাজটি যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করেছেন, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের ভিতর দিয়ে তা কার্যত প্রমাণিত হয়ে গেছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভোট কার্যত দরজায় কড়া নাড়ছে। এই ভোটে বিজেপি ক্ষমতা দখলের জন্যে আন্তরিকভাবে লড়বে, নাকি কিছু আসন সংখ্যা বাড়ানোর জন্যে মমতার সাথে গোপন বোঝাপড়া করে, তাদের বিশ্বস্ত বন্ধু মমতাকেই শাসন ক্ষমতায় টিকে থাকতে সাহায্য করবে– তা এখনো পরিষ্কার হয়নি।

অপরপক্ষে বামপন্থীরা কংগ্রেসের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে লড়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক কিছু সভা সমিতি, মিছিল ও যৌথভাবে করছেন, কার্যক্ষেত্রে এই ‘যৌথ’ বিষয়টি কতোখানি আন্তরিকভাবে দানা বাঁধবে- এটাও এখনো স্পষ্ট নয়। কংগ্রেস তাদের নেতা অধীর চৌধুরীকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে রেখে ভোটে লড়বে- এমন কথা ফেসবুকে তাদের বিভিন্ন পেজ থেকে বলা হচ্ছে। যদিও এ নিয়ে কংগ্রেস এখনো কিছু বলেনি।

অধীর চৌধুরীকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে ভোটে যদি কংগ্রেস-বামপন্থীরা একজোট হয়ে লড়েন, তাহলে সেই জোটকে জেতাতে বামপন্থীদের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা কতোখানি আন্তরিক হবেন, এই ছবিটাও এখনো পরিষ্কার নয়। গত বিধানসভা ভোটের ফলের নিরিখে বামপন্থীদের থেকে কংগ্রেস এগিয়ে আছে। তাই কংগ্রেস দাবি করতেই পারে জোটে বেশি আসন। সেই দাবি বামপন্থীদের পক্ষে মেনে নেওয়ার প্রশ্নটি কী হবে, তা আগামীদিনই বলবে। এই অবস্থায় হিন্দু ভোট ধরতে দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে মমতার পঞ্চাশ হাজার টাকা করে দেওয়া, মুসলিম ভোট ধরতে ভুল আরবি উচ্চারণে মুসলমান সমাজে বহুল ব্যবহৃত শব্দাবলীর উচ্চারণ, ওয়াকফে মুসলমানদের গচ্ছিত টাকা থেকেই তাদের একাংশের ইমাম- মোয়াজ্জিনদের ভাতা দিয়ে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের জমি আরএসএস প্রভাবিত তথাকথিত ধর্মীয় সংগঠনকে দিয়ে দেওয়া নিয়ে নীরব থাকা মমতা কতোখানি আসন্ন ভোটে মাইলেজ পাবেন– এই দুর্গাপুজোর আবর্তে তার একটা হিসেব-নিকেশ মানুষের ভিতরে নিশ্চয়ই কষা হয়ে যাচ্ছে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)