চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন রানী সরকার

চ্যানেল আই অনলাইনকে দেয়া শেষ সাক্ষাৎকারে যা বলেছিলেন রানী সরকার

মরার পর নিজের পরিবারের কী হবে, কে চালাবে ছয়, সাত জনের সংসার এ নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিলো প্রায় ১ হাজার সিনেমার অভিনেত্রী রানী সরকারের। চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির বনভোজনে গিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের কাছে এমন আশঙ্কার কথাই সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন তিনি।

রানী সরকার হয়তো জানতেন, তার মৃত্যু ঘনায়মান। তাইতো মরার পর তার পরিবারের কি হবে এটা নিয়ে আগে থেকেই বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি জানিয়েছিলেন, সিনেমার জন্য জীবনটা ব্যয় করেছি। বিয়েও করিনি। আজ আমার দেখার মানুষ নেই। আমি মরার পর আমার পরিবার কে দেখবে জানিনা, তবে মরার আগে ওদের ঠিকমত চালাতে চাই, তাও পারছিনা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জীবন সায়াহ্নে এসে প্রবীণ এই অভিনেত্রী নিজের অসচ্ছলতার কথাও জানিয়েছিলেন। সেসময় তিনি বলেন, চারদিন ধরে ঘরে চাউল ছাড়া খাবার নেই। লবণ-পানি দিয়ে চটকিয়ে ভাত খেতে আর ভালো লাগেনা। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো মারা যাবো। না খেয়ে মারা যাচ্ছি, আমাকে বাঁচান।

তবে এতো অসচ্ছলতার মধ্যেও কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রতি। সেসময় সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়ে ছিলেন, দুই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ২০ লাখ টাকা দেন। সেখান থেকে ১৩ হাজার টাকা প্রতিমাসে ভাড়া দিয়ে পরিবার নিয়ে থাকি। ম্যাডাম শেখ হাসিনা যদি আমাকে সাহায্য না করতেন এতদিন কোন সাগরে হারিয়ে যেতাম তার ঠিক নেই। আল্লাহর ইচ্ছে আর প্রধানমন্ত্রীর ওছিলায় আমি আজ বেঁচে আছি।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানতেই হলো তার। বার্ধক্যজনিত কারণে শনিবার ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর ইডেন মাল্টি কেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে প্রথমে নিয়ে আসা হবে চ্যানেল আই কার্যালয়ে। এরপর এখান থেকে সোজা তার মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হবে এফডিসিতে। রাজধানীল আজিমপুর গোরস্থানে হবে তার দাফন।

রানী সরকারের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার সোনাতলা গ্রামে। সেখানে ভিটেমাটি ছাড়া আর কিছু নেই। সেটা দেখাশোনা করেন তার ভাতিজা। রানী সরকারের তিন ভাইবোন। বড়ভাই আগেই মারা গেছেন।

শেষ সাক্ষাৎকারে যা বলেছিলেন রানী সরকার:

ছবি ও ভিডিও: নাহিয়ান ইমন