চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পরিবারকে দূরে রেখে প্রসূতিদের সেবা দিচ্ছেন নাজমিন

করোনাকালীন সময়ে সবথেকে ঝুঁকিতে আছেন প্রসূতি মায়েরা। সন্তান জন্মদানের আগেই অনেক মা করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন৷ আর প্রসূতি মায়ের জীবন বাঁচাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রসূতি কোভিড ইউনিট এ কাজ করছেন একদল চিকিৎসক। তাদেরই একজন গাইনী চিকিৎসক উম্মে নাজমিন ইসলাম।

পঞ্চগড়ের এক শিক্ষক পরিবারে জন্ম নাজমিন ইসলামের। শিক্ষাজীবনের তুখোড় মেধাবী ছাত্রী ২০০১ সালে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজে। গাইনি ও প্রসূতি বিভাগে ২০১৬ সালে এফসিপিএস পাশ করেন। এর আগে ২৮তম বিসিএস পাশ করে ২০১০ সালে চাকরি জীবন শুরু করেন শেরপুর ঝিনাইগাতী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে।

বিজ্ঞাপন

করোনা ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটের নবগঠিত করোনা ইউনিট এ প্রসূতিদের সেবায় কাজ শুরু করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে নাজমিন বলেন: আমাদের এখানে ম্যাক্সিমাম যে কেসগুলো আসছে, তারা কোভিড পজিটিভ কিংবা সাসপেক্টেড। তাদের নরমাল ডেলিভারি কিংবা অনেক ক্ষেত্রে অপারেশন করতে হয়। এখানে কোভিড আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় থাকে মা এবং বাচ্চার জীবন বাঁচানো।

স্বামী এবং দুই সন্তান নিয়ে সংসার নাজমীনের। তার স্বামী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। ছোট ছেলেটির বয়স দু’বছর। অবুঝ সন্তানকে ঘরে রেখেই আক্রান্তদের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

নাজমিন বলছেন: কোভিড রোগীদের সেবা দেওয়ার সময় আমাদের নরমাল সময় থেকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কাজ করতে হচ্ছে। যারাই কোভিড রোগীদের সেবা দিচ্ছেন তারা পরিবার থেকে আলাদা থাকছেন। আমরা জানি না আমাদের ইনফেক্টেড হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু আছে, আর হলেও আমরা আমাদের আমাদের পরিবারের কাছে ফিরতে পারবো কিনা।

তিনি আরও বলেন: আমাদের কাছে এখন মূলত করোনা আক্রান্ত রোগদের সুস্থ করে তোলার বিষয়টি-ই মূখ্য। আমরা যখন বাইরে কাজ করছি তখন পরিবার থেকে যদি বড় একটা সাপোর্ট প্রয়োজন হয়। না হলে কাজ করা সম্ভব হয়না।